SpiceJet: বোর্ডিং পাস থাকা সত্ত্বেও বিমানে উঠতে বাধা! স্পাইসজেটের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে ৬২ হাজার টাকা জিতলেন দম্পতি

SpiceJet: বোর্ডিং পাস থাকা সত্ত্বেও স্পাইসজেটের গাফিলতিতে ওই দম্পতিকে দিল্লি বিমানবন্দরেই রাত কাটাতে হয়েছিল এবং পরদিন সকালে নিজেদের গাঁটের কড়ি খরচ করে বিকল্প টিকিট বুক করে শ্রীনগর ফিরতে হয়েছিল।

Published on: Jun 28, 2026, 23:30:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

SpiceJet: বৈধ বোর্ডিং পাস থাকা সত্ত্বেও হজ যাত্রী এক দম্পতিকে বিমানে উঠতে না দেওয়ার অভিযোগে বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইসজেট-কে টিকিটের ভাড়া-সহ মোট ৬২ হাজার টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল শ্রীনগরের উপভোক্তা কমিশন।

স্পাইসজেটের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে ৬২ হাজার টাকা জিতলেন দম্পতি File Photo (REUTERS)
স্পাইসজেটের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে ৬২ হাজার টাকা জিতলেন দম্পতি File Photo (REUTERS)

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ জুনে ওই কমিশন এই নির্দেশ দিয়েছে। বোর্ডিং পাস থাকা সত্ত্বেও স্পাইসজেটের গাফিলতিতে ওই দম্পতিকে দিল্লি বিমানবন্দরেই রাত কাটাতে হয়েছিল এবং পরদিন সকালে নিজেদের গাঁটের কড়ি খরচ করে বিকল্প টিকিট বুক করে শ্রীনগর ফিরতে হয়েছিল। এর জেরেই উপভোক্তা কমিশন বিমান সংস্থাকে টিকিটের মূল্য বাবদ ১০,০৭৮ টাকা এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ৫২,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অভিযোগকারী গুলাম নবী ফাফু কমিশনকে জানান যে গত বছর হজ যাত্রা শেষে ফেরার পথে, ২০২৪ সালের ৮ জুলাই, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী রাজা বেগম দিল্লি থেকে শ্রীনগরগামী স্পাইসজেটের একটি বিমানে ফেরার জন্য সমস্ত ‘চেক-ইন’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। এমনকী তাঁরা একদম সঠিক সময়ে বোর্ডিং গেটেও পৌঁছে গিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও স্পাইসজেট কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিমানে উঠতে দেয়নি।

কমিশনের সভাপতি ডঃ ফারাহ দিবা এবং সদস্য শবনম মুন্সীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তদন্তে জানতে পারে যে বিমানে উঠতে না পারায় চরম হেনস্থার শিকার হওয়া ওই প্রবীণ দম্পতিকে বাধ্য হয়ে পরদিন সকালে ইন্ডিগো-র একটি ফ্লাইটে ১৩,৪৫০ টাকার চড়া ভাড়ায় নতুন টিকিট কিনে শ্রীনগর ফিরতে হয়েছিল। ইংরেজি দৈনিকটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমান সংস্থা স্পাইসজেটের তীব্র সমালোচনা করে উপভোক্তা কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, 'বিবাদী পক্ষ (স্পাইসজেট) কেবল যে ত্রুটিপূর্ণ বা নিম্নমানের পরিষেবা দিয়েছে তা-ই নয়, বরং তারা অভিযোগকারীর সঙ্গে সম্পূর্ণ অন্যায্য ও অনৈতিক ব্যবসায়িক আচরণও করেছে। বিমান সংস্থার এই খামখেয়ালি ও অপেশাদার আচরণের কারণে অভিযোগকারীকে চরম মানসিক যন্ত্রণা, তীব্র ক্ষোভ, হেনস্থা এবং বড়সড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।'

বৈধ পাস থাকা সত্ত্বেও বিমানে উঠতে বাধা

কমিশনের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, গুলাম নবী ফাফু এবং তাঁর স্ত্রী হজ যাত্রা শেষ করে শ্রীনগরে ফিরছিলেন। তাঁদের ছেলে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে দিল্লি থেকে রওনা দিয়ে রাত ৮টা ২০ মিনিটে শ্রীনগর পৌঁছানোর স্পাইসজেট ফ্লাইটের টিকিট বুক করেছিলেন। ওই দম্পতি জানান, তাঁরা বিমান ছাড়ার অনেক আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছে যান এবং লাগেজ জমা দিয়ে সমস্ত ‘চেক-ইন’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর হাতে বৈধ বোর্ডিং পাস নিয়েই বোর্ডিং গেটের দিকে এগিয়ে যান। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোর্ডিং শুরু হতেই তাঁরা যখন গেটের দিকে এগিয়ে যান, তখন তাঁদের বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ফাফু উপভোক্তা কমিশনকে জানান, এই অন্যায্য বাধার কারণ জানতে চাইলেও বিমান সংস্থার কর্মীরা তাঁদের বিমানে উঠতে না দেওয়ার কোনও কারণ জানাননি।

বিমানবন্দরেই রাত কাটানো

ওই দম্পতি কমিশনে আরও একটি মারাত্মক অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, তাঁদের বোডিং পাস বাতিল করে বিমান সংস্থা নিজেদের পছন্দের কোন 'প্রভাবশালী'দের বিমানে জায়গা করে দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁদের চেক-ইন করা লাগেজ বেশ কয়েক ঘণ্টা পর ফেরত দেওয়া হয়। ততক্ষণে শ্রীনগর যাওয়ার আর অন্য কোনও বিকল্প বিমান ছিল না। ফলস্বরূপ, ওই প্রবীণ দম্পতি চরম হেনস্থা এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে গোটা রাত দিল্লি বিমানবন্দরেই কাটাতে বাধ্য হন। পরদিন সকালে নিরুপায় হয়ে তাঁরা ইন্ডিগো-র একটি বিমানে অনেক বেশি চড়া দামে নতুন টিকিট কেটে শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন, যার ফলে তাঁদের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা খসে। ওই দম্পতির চরম ভোগান্তি এবং আর্থিক ক্ষতির জন্য সম্পূর্ণভাবে স্পাইসজেট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে উপভোক্তা কমিশন শেষ পর্যন্ত অভিযোগকারীদের পক্ষেই রায় দেয় এবং মূল টিকিটের টাকা ফেরতের পাশাপাশি মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।