Hasina-Putin Phone Call Speculation: ডোভালের উপস্থিতিতে পুতিন-হাসিনার কথা ফোনে? জল্পনার মাঝে রক্তচাপ বাড়ছে ঢাকার?

প্রচারিত দাবি অনুযায়ী, ব্রিকস সম্মেলনের সময় প্রায় ২০ মিনিট হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন পুতিন। সেই সময় ঘরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

Published on: Sep 15, 2026, 07:44:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ার পরই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করার বার্তা দিয়েছে ঢাকা। এই ঘটনাপ্রবাহের মাঝেই সমাজমাধ্যম এবং কূটনৈতিক মহলে ছড়িয়েছে আরও একটি দাবি—নয়াদিল্লিতে থাকার সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নাকি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

প্রচারিত খবর অনুযায়ী, ব্রিকস সম্মেলনের সময় প্রায় ২০ মিনিট হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন পুতিন।
প্রচারিত খবর অনুযায়ী, ব্রিকস সম্মেলনের সময় প্রায় ২০ মিনিট হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন পুতিন।

প্রচারিত দাবি অনুযায়ী, ব্রিকস সম্মেলনের সময় প্রায় ২০ মিনিট হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন পুতিন। সেই সময় ঘরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই ফোনালাপের খবর এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয়। ভারত সরকার, রাশিয়া, ক্রেমলিন বা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কথোপকথনের কোনও সরকারি ট্রান্সক্রিপ্ট বা বিস্তারিত বিবরণও প্রকাশ্যে আসেনি।

তবু এই দাবি ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন এবং তাঁর সরকারের সময় থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি হওয়া বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর প্রকল্প দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাশিয়ার উপর পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার কারণে লেনদেন ও অর্থপ্রদানে সমস্যা তৈরি হওয়ার পর বিকল্প পদ্ধতিতে অর্থ মেটানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় অর্থপ্রদানের সম্ভাবনাও উঠে এসেছে। ফলে রূপপুর প্রকল্প শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উপস্থিতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে পুতিন-হাসিনা ফোনালাপের খবর সত্যি হলে, রাশিয়ার বাংলাদেশ নীতি এবং হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা হতে পারে। তবে আপাতত এই দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক বার্তাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সেখানে অংশ নেয়নি। ঢাকার বক্তব্য ছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মূলত বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়।

কিন্তু সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার বার্তা দেন। তিনি বলেন, ঢাকা ভারতের সঙ্গে একটি ‘ভাল কাজের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক’ চায় এবং সম্পর্ককে ‘রিসেট’ করে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী। তাঁর বক্তব্য, এই সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক স্বার্থ এবং সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। শেখ হাসিনার দেশত্যাগ, অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও ভারত অবশ্য ঢাকার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি জয়ের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন।

এখন ঢাকার ‘রিসেট’ বার্তা নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি, তার পরেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করার বার্তা এবং একই সময়ে পুতিন-হাসিনা ফোনালাপের দাবি—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তবে এই ঘটনাগুলির মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More