'আমরা ব্যক্তিগত মূল্যবোধ...,' নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ HDFC ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানের, নয়া...
এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া কেকি মিস্ত্রিকে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছে।
হঠাৎ পদত্যাগ করলেন এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তী। গত ১৭ মার্চ দেশের বৃহত্তম এই বেসরকারি ব্যাঙ্কের শীর্ষ পদ থেকে সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি পদত্যাগ পত্রে লিখেছেন, প্রতিষ্ঠানের কিছু কাজকর্ম এবং প্রক্রিয়া তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও নীতির সঙ্গে মেলে না। তাই তিনি অবিলম্বে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অতনু চক্রবর্তীর পদত্যাগের পর এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া কেকি মিস্ত্রিকে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছে। তিনি আজ অর্থাৎ ১৯ মার্চ থেকে তিন মাসের জন্য এই দায়িত্বে থাকবেন। এর আগে কেকি মিস্ত্রি এইচডিএফসি লিমিটেডের ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে এই সংস্থা এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের সঙ্গে মিশে যায়। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্তব্যে কেকি মিস্ত্রি বলেন, দেশের বৃহত্তম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা বজায় রাখতে বোর্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে, ব্যাঙ্কের তরফে অতনু চক্রবর্তীর পদত্যাগের বিষয়ে জানানো হয়েছে যে 'তিনি নৈতিক কিছু বিষয় উত্থাপন করে প্রতিষ্ঠান থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অতনু চক্রবর্তীর পদত্যাগের কারণ কী?
দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্কের পদ ছাড়ার প্রসঙ্গে অতনু চক্রবর্তী পদত্যাগ পত্রে লিখেছেন, প্রতিষ্ঠানের অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গেই তিনি নৈতিক সায়ে দিতে পারছিলেন না। নৈতিক বিরোধ হচ্ছে বলেই তিনি সরে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘গত দুই বছরে ব্যাঙ্কের কিছু ঘটনা এবং কাজের ধরন আমি লক্ষ্য করেছি। যা আমার ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সেই কারণেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, এই কারণ ছাড়া তাঁর পদত্যাগের অন্য কোনও বড় কারণ নেই। তবে ঠিক কী ঘটনার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা পরিষ্কার করে জানাননি। সূত্রের খবর, কিছু দিন ধরেই ব্যাঙ্কের বোর্ডের মধ্যে কাজকর্ম নিয়ে মতভেদ চলছিল।
অতনু চক্রবর্তীর অবদান
অতনু চক্রবর্তী ২০২১ সালের মে মাসে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের বোর্ডে যোগ দেন। এই প্রতিষ্ঠানে তাঁর অবদান অপরিসীম বলে একাধিক মহল মনে করে। তিনি এইচডিএফসির চেয়ারম্যান পদে আসার পর সংস্থার প্রভূত উন্নতি হয়। তাঁর সময়েই একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এইচডিএফসির মিশে যাওয়ার ফলে এই ব্যাঙ্কের আর্থিক স্বাস্থ্যের যথেষ্ট উন্নতি ঘটে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাঙ্ক। এর বাজারমূল্য প্রায় ১২.৯৭ লক্ষ কোটি টাকা। স্বভাবতই এই ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরে এমন কী ঘটেছে যা নিয়ে স্বয়ং চেয়ারম্যান বিরক্ত ছিলেন তা নিয়ে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। তবে পদত্যাগপত্রে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সকল সহকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অতনু চক্রবর্তী। তিনি লিখেছেন, ‘বোর্ডের সকল সদস্যর প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। যে ভাবে সকলে আমাকে সহযোগিতা করছেন, তার জন্য তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এই প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যাক, এই কামনা করছি।’ বলে রাখা ভালো, তিনি গুজরাট ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক। কেন্দ্রীয় সরকারের তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে তিনি অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের সচিব ছিলেন। সেই সময় তিনি বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। বাজেট তৈরির পুরো প্রক্রিয়াও তিনি দেখভাল করতেন।
E-Paper

