ভোটে রিপাবলিকানদের হয়ে ৪৭০০ কোটি টাকা ঢেলেও হার! এবার ডেমোক্র্যাটদের নজরে ইলন মাস্ক, তদন্তের মুখে টেসলা-স্পেসএক্স?
মার্কিন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে প্রায় ৫০ কোটি ডলার খরচ করেছেন ইলন মাস্ক। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৭০০ কোটি টাকা।
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির মাশুল এবার কি গুনতে হবে বিশ্বের অন্যতম ধনী শিল্পপতি ইলন মাস্ককে? নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে প্রায় ৪৭০০ কোটি টাকা খরচ করেও শেষরক্ষা হল না মাস্কের। উলটে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ চলে গেল ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এমনকী, দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। আর এই পরিস্থিতিতেই মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের উপর নজরদারি ও তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এই শিল্পপতির সামনে এবার নতুন রাজনৈতিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে চলেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে প্রায় ৫০ কোটি ডলার খরচ করেছেন ইলন মাস্ক। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৭০০ কোটি টাকা। নিজের সুপার প্যাক America PAC-সহ একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ বিভিন্ন রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষ করে টেক্সাসকে রিপাবলিকানদের দখলে রাখার জন্য বিপুল অর্থ ঢেলেছিলেন তিনি। কারণ, টেসলা, স্পেসএক্স এবং তাঁর ভবিষ্যতের চিপ উৎপাদন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এই টেক্সাস।
এর আগে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জেতাতেও প্রায় ২৫ কোটি ডলারের বেশি খরচ করেছিলেন মাস্ক। ট্রাম্পের জয়ের পর তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে মাস্কের। এমনকী, সরকারি খরচ কমানোর দায়িত্বে থাকা DOGE বা ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর বিপুল অর্থের বিনিয়োগ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট, দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা।
আর এখানেই মাস্কের চিন্তা বাড়ছে। কারণ, ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, মাস্কের সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সরকারি বরাত, ভর্তুকি এবং বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা পেয়ে এসেছে। এবার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতে আসায় সেই সমস্ত চুক্তি ও সরকারি সুবিধা নিয়ে তদন্তের সুযোগ পাবেন বিরোধীরা। বিশেষ করে DOGE-র মাধ্যমে সরকারি কর্মী ছাঁটাই, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং মাস্কের সংস্থাগুলিকে দেওয়া সরকারি চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন তাঁরা।
এই পরিস্থিতিতে মাস্কের বিরুদ্ধে তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান রবার্ট গার্সিয়া। নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হওয়ার পরেই ট্রাম্প প্রশাসন ও তাদের ঘনিষ্ঠদের উদ্দেশে ‘Lawyer up’ অর্থাৎ আইনজীবী নিয়োগের বার্তা দিয়েছেন তিনি। এই কমিটির হাতে সরকারি নথি তলব, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনে সমন পাঠানোর ক্ষমতা রয়েছে। ফলে স্পেসএক্স ও টেসলার সরকারি চুক্তি নিয়ে তদন্তের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শুধু কংগ্রেস নয়, টেক্সাসের নতুন ডেমোক্র্যাট গভর্নর জিনা হিনোজোসাও মাস্কের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার পথে বাধা হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর দাবি, নতুন ডেটা সেন্টার তৈরির আগে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ ও জলের উপর তার প্রভাব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্থগিতাদেশের পক্ষপাতী তিনি। সরকারি করছাড়ের সুবিধা বন্ধ করার কথাও বলেছেন। অথচ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বিপুল ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে মাস্কের।
এমন পরিস্থিতিতে গত ২১ অক্টোবর নিজের সমাজমাধ্যম X-এ ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্তের খবরের জবাবে পালটা হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন মাস্ক। তাঁর বক্তব্য ছিল, যাঁরা তাঁর সঙ্গে সংঘাতে যাবেন, তাঁদেরও তিনি খুঁজে বের করবেন। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা কমে যায়, সেটাই এখন দেখার।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনে প্রায় ৪৭০০ কোটি টাকা খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পেলেন না মাস্ক। বরং রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ফলে তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এখন নতুন রাজনৈতিক নজরদারির মুখে। অবশ্য কংগ্রেসের তদন্ত মানেই তাঁর সংস্থাগুলির সরকারি চুক্তি বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। কিন্তু সরকারি বরাত, ভর্তুকি, ডেটা সেন্টার এবং AI ব্যবসার সম্প্রসারণে নতুন বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে টেসলা ও স্পেসএক্সের ভবিষ্যতের উপর। ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা যে সবসময় ব্যবসায়িক সুরক্ষা দিতে পারবে না, আমেরিকার নির্বাচনের ফলাফল মাস্ককে সেই বার্তাই দিল কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


