ভারত সীমান্তের কাছে চিনের নতুন ছক! আলি পুলানে হেলিকপ্টার, বাড়ছে উদ্বেগ
আলি পুলানকে শুধু সাধারণ বিমানবন্দর হিসেবে দেখলে ভুল হতে পারে। এটি চিনের একটি অসামরিক এবং সামরিক—দুই ধরনেরই কাজে ব্যবহারযোগ্য বিমানবন্দর। ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর এটি চালু হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৪,২৫০ মিটার। অর্থাৎ, এটি অত্যন্ত দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায় তৈরি।
ভারত-চিন সীমান্তে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চিনের সামরিক পরিকাঠামো। এবার নজরে তিব্বতের আলি পুলান বিমানবন্দর। চিনের বুরাং কাউন্টিতে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি ভারতের সীমান্তের খুব কাছেই। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে এখানে হেলিকপ্টার দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নতুন তৈরি শক্তপোক্ত শেল্টারের পাশেই সেই হেলিকপ্টারগুলির উপস্থিতি ধরা পড়েছে। বিষয়টি নজর কেড়েছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।

আলি পুলানকে শুধু সাধারণ বিমানবন্দর হিসেবে দেখলে ভুল হতে পারে। এটি চিনের একটি অসামরিক এবং সামরিক—দুই ধরনেরই কাজে ব্যবহারযোগ্য বিমানবন্দর। ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর এটি চালু হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৪,২৫০ মিটার। অর্থাৎ, এটি অত্যন্ত দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায় তৈরি।
ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এর অবস্থান। এই বিমানঘাঁটি চিন-ভারত সীমান্তের অত্যন্ত কাছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি বিশ্লেষণেও বলা হয়েছিল, নতুন তিব্বতি বিমানবন্দরগুলি চিন-ভারত সীমান্তের কাছাকাছি বিমান পরিচালনার পুরনো ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। আলি পুলান সেই ব্যবধান কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো।
এখন স্যাটেলাইট ছবিতে হেলিকপ্টারের উপস্থিতি নতুন প্রশ্ন তুলেছে। কারণ হেলিকপ্টারের সুবিধা অন্যরকম। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রানওয়ে ছাড়াই দ্রুত সেনা বা সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া যায়। আহত জওয়ানকে দ্রুত সরিয়ে আনা যায়। সীমান্তের কোনও এলাকায় হঠাৎ পরিস্থিতি খারাপ হলে অল্প সময়ের মধ্যে সেনা পৌঁছনো সম্ভব। অর্থাৎ, সীমান্তের খুব কাছেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা তৈরি হতে পারে।
আলি পুলানে শুধু হেলিকপ্টার নয়, নতুন হ্যাঙ্গার, বিমান রাখার জায়গা এবং সহায়ক পরিকাঠামো গড়ে ওঠার কথাও উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের পরিকাঠামো কোনও বিমানঘাঁটিকে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে। তবে সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা হেলিকপ্টারগুলির সঠিক ধরন বা এগুলির নিয়মিত সামরিক মোতায়েনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এখানেই বিষয়টি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আলি পুলান একা নয়। ২০২৪ সাল থেকে চিন তিব্বত ও পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক বিমানঘাঁটিতে একইসঙ্গে উন্নয়ন চালাচ্ছে। লুনঝে, তিংরি, বুরাং, ইউতিয়ান এবং ইয়ারকান্দের মতো ঘাঁটিতেও নতুন পরিকাঠামো গড়ে ওঠার তথ্য সামনে এসেছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একটি প্রকাশনাতেও এই বিমানঘাঁটিগুলির উন্নয়ন এবং সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর অর্থ কী?
সহজ ভাষায় বললে, চিন সীমান্তের কাছাকাছি নিজের বিমান ও হেলিকপ্টার চালানোর সুবিধা বাড়াচ্ছে। আগে তিব্বতের অনেক বিমানঘাঁটি সীমান্ত থেকে দূরে ছিল। ফলে বিমানকে বেশি দূর উড়ে আসতে হত। এখন নতুন ঘাঁটি তৈরি ও পুরনো ঘাঁটির উন্নয়নের ফলে সেই দূরত্ব কমছে। এতে দ্রুত সেনা মোতায়েন, নজরদারি এবং রসদ সরবরাহের ক্ষমতা বাড়তে পারে। এই আবহে ভারতের জন্য বার্তাটি পরিষ্কার—সীমান্তে শুধু সেনা নয়, আকাশপথের পরিকাঠামোতেও নজর রাখতে হবে। কারণ পাহাড়ে যে পক্ষ দ্রুত পৌঁছতে পারে, কৌশলগত সুবিধা তারই বেশি।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


