Uttarakhand News: দেবভূমিতে চরম উত্তেজনা! গুরুদ্বারা দখল করে সেবাদারকে পনবন্দি নিহঙ্গ শিখদের

Uttarakhand News: শনিবার সন্ধ্যায় রুদ্রপ্রয়াগের নাগরাসু গুরুদ্বারা সাহিবে প্রবেশ করে পরিস্থিতি জটিল করে তোলেন কয়েকজন নিহঙ্গ। তাঁরা গুরুদ্বারার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুজনকে বন্দি করেন বলে অভিযোগ। পরে একজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও একজন সেবাদার এখনও আটকে রয়েছেন।

Published on: Jun 22, 2026, 14:40:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Uttarakhand News: উত্তরাখণ্ডের চামোলি ও রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৬ জুন হেমকুণ্ড সাহিব থেকে ফেরা কয়েকজন নিহঙ্গ শিখ যাত্রীর সঙ্গে স্থানীয়দের ছোটখাটো বিবাদকে কেন্দ্র করে কর্নপ্রয়াগে সংঘর্ষের পর এখন নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ওই ঘটনায় চারজন নিহঙ্গ শিখকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের মুক্তির দাবিতে নাগরাসু গুরুদ্বারা সাহিব দখল করে একজন সেবাদারকে বন্দি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে একদল নিহঙ্গ শিখের বিরুদ্ধে।

দেবভূমিতে চরম উত্তেজনা! (সৌজন্যে টুইটার)
দেবভূমিতে চরম উত্তেজনা! (সৌজন্যে টুইটার)

শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাগরাসু গুরুদ্বারা সাহিবে আইটিবিপি ও পিএসি-র টিম মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জুন কার্নপ্রয়াগে। পুলিশ সূত্রে খবর, হেমকুণ্ড সাহিব থেকে ফেরা পাঞ্জাবের মোহালির কয়েকজন নিহঙ্গ শিখ যাত্রীর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের পার্কিং নিয়ে তর্ক বাঁধে। অভিযোগ, এই বিবাদ দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং নিহঙ্গরা তলোয়ার ব্যবহার করেন। এতে চারজন স্থানীয় ব্যক্তি আহত হন। এই সংঘর্ষে একজন নিহঙ্গ শিখ যাত্রীও আহত হন। পুলিশ চারজন নিহঙ্গকে গ্রেফতারও করে। এই ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলতে থাকে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কর্নপ্রয়াগের এই ঘটনার পর নিহঙ্গরা গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, গুরুদ্বারা কর্তৃপক্ষ তাঁদের পক্ষে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।

এই ক্ষোভ থেকেই শনিবার সন্ধ্যায় রুদ্রপ্রয়াগের নাগরাসু গুরুদ্বারা সাহিবে প্রবেশ করে পরিস্থিতি জটিল করে তোলেন কয়েকজন নিহঙ্গ। তাঁরা গুরুদ্বারার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুজনকে বন্দি করেন বলে অভিযোগ। পরে একজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও একজন সেবাদার এখনও আটকে রয়েছেন। ইতিমধ্যে দু’দফা আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিশাল মিশ্র ও এসপি নিহারিকা তোমরের সঙ্গে কথা বলেও সমাধান হয়নি। বর্তমানে গুরুদ্বারা এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। শান্তি বজায় রাখতে আইটিবিপি ও প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্টেবুলারি (পিএসি)-র বিশাল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুদ্বারা সাহিবে পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর্নপ্রয়াগ ও চামোলিতে সংঘর্ষের প্রতিবাদে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের থাকার জন্য নিহঙ্গরা '৫০-৬০টি ঘরের' ব্যবস্থা করতে বলেছিল। কিন্তু গুরুদ্বার কর্তৃপক্ষ তা করতে ব্যর্থ হলে নিহঙ্গরা সহিংস পন্থা অবলম্বন করে।পুলিশ জানিয়েছে, নিহঙ্গরা প্রথমে ভাঙচুর চালায়, তারপর গুরুদ্বারে থাকা এক বয়স্ক শিখ সেবাদারকে ছাদে নিয়ে গিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। তাঁদের কাছে বর্শা, তলোয়ার, কিরপানের মতো অস্ত্র ছিল বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, শিখ সম্প্রদায়ের কিছু প্রতিনিধি বলছেন, কর্নপ্রয়াগের ঘটনায় তাঁদের লোকজন আক্রান্ত হয়েছেন এবং স্থানীয় প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। এদিকে, উত্তরাখণ্ডের হোম সেক্রেটারি শৈলেশ বাগোলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, চারধাম যাত্রার মৌসুমে এই ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, 'আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। তীর্থযাত্রীরা এখানে আসেন, আমরা তাঁদের সেবা করি। কিন্তু এভাবে সংঘর্ষ ও পণবন্দি পরিস্থিতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।'