ইজরায়েল ও মার্কিন হামলার জবাবে কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব, এমনকি ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে তারা। এই লড়াইয়ের জেরে সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা গেছে অপরিশোধিত তেলের দামে।
ইরানের ওপর ইজরায়েলের হামলার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। প্রতি ঘণ্টায় যেন নতুন সংকট দেখা দিচ্ছে পশ্চিম এশিয়ায়। এরই মাঝে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ শৃঙ্খলে দাঁত বসিয়েছে ইরান। যার জেরে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যাপক লাফিয়ে উঠেছে। ইজরায়েল ও মার্কিন হামলার জবাবে কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব, এমনকি ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে তারা। এই লড়াইয়ের জেরে সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা গেছে অপরিশোধিত তেলের দামে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান (AFP)
রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত শুক্রবার সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। সেদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭২ ডলার। যুদ্ধের আবহে ২০২৬-এর প্রথম দুই মাসে প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম। আর আজ ১২ শতাংশ লাফিয়ে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার অতিক্রম করেছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম। একই সময়ে, ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটও (ডাব্লুটিআই) ৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এর জেরে তা প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলারের স্তর অতিক্রম করেছে। এর আগে ২০২৫ সালে ইরান-ইজরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে ৮০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়েছিল ব্রেন্ট ক্রুড। তার পর থেকে এই প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ক্রুড ৮০ ডলারের উপরে উঠেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক + জোটের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদক হল ইরান। ইরান এই গ্রুপের মোট উৎপাদনের ১২ শতাংশ অবদান রাখে। ইরান প্রতিদিন ৩.৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উত্তোলন করতে সক্ষম, যা বিশ্বব্যাপী মোট উৎপাদনের প্রায় ৩ শতাংশ। ইরানের বৃহত্তম শোধনাগারটির প্রতিদিন ৫ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিশোধ করার ক্ষমতা রয়েছে।
এদিকে সংকটের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। এখান দিয়ে ট্যাঙ্কার যেতে বাধা দিচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কোনও ইচ্ছা নেই। তবে ইরান এই হরমুজ প্রণালীতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইরানি মিসাইল আছড়ে পড়া একটি ট্যাঙ্কারে ১৫ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্য়াঙ্কারে করে নিয়ে যাওয়া হয় বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল। ইরানের তেল রফতানির ৯০ শতাংশও এই রুট দিয়ে যায়। যদি এই প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তাহলে তেলের দাম শীঘ্রই প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও ওপেক+ জোট সম্প্রতি বৈঠকে বসে। তারা তাদের তেলের উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে কিছুটা।