Russian Soldier: যুদ্ধে ৩০০ রুশ সেনাকে খুনে ইউক্রেনকে সাহায্য় করেছেন রাশিয়ার এই অফিসার! ‘কারণ’ কি পুতিন? কী ঘটেছিল?

মা পুতিন-বিরোধী! পুত্র রাশিয়ার সেনা অফিসার ইউক্রেনকে সাহায্য করে কীভাবে রুশ-সৈনিকদের হত্যায় ইউক্রেনকে সাহায্য করেছিলেন?  

Published on: Oct 17, 2026, 10:36:53 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

রাশিয়া বনাম ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে গুপ্তচরবৃত্তির এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনা সদ্য উঠে এসেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক রিপোর্টে। খবরে রাশিয়ার ২৬ বছরের সেনা অফিসার লেফ্টন্যান্ট স্পুতনিকভ। অভিযোগ, তিনি রাশিয়ার সেনাকে ফাঁকি দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করে, ইউক্রেনের পক্ষে যোগ দেন। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে তিনি পালিয়ে যান ইউক্রেনের কিয়েভে। সেখানে পুতিন সরকার বিরোধী গোষ্ঠীতে তিনি যোগ দেন বলেও খবর। কিন্তু নিজেরই দেশের ৩০০ সেনাকে খুনে অভিযুক্ত এই স্তুপনিকভ কেন এমনটা করেছেন? এল তার উত্তর।

৩০০ রুশ সেনাকে খুনে ইউক্রেনকে সাহায্য় করেন রাশিয়ার এই অফিসার!কেন? ক্ষোভ কী নিয়ে?
৩০০ রুশ সেনাকে খুনে ইউক্রেনকে সাহায্য় করেন রাশিয়ার এই অফিসার!কেন? ক্ষোভ কী নিয়ে?

রুশ সেনার গোপন তথ্য নীরবে ইউক্রেনকে পাচার করতে থাকেন স্তুপনিকভ। এদিকে, পদাধিকারে রাশিয়ার সেনায় তিনি এমন জায়গায় ছিলেন যে, তিনি জানতে পারতেন রাশিয়ার যুদ্ধনীতি, ড্রোনের অবস্থান, নজরদারি ক্যামেরা কোথায় রয়েছে, এমন সমস্ত তথ্য। রাশিয়ার সেনায় তিনি চিফ সিগন্যাল অফিসার ছিলেন। তাঁর ব্যাটালিয়ানের দায়িত্ব ছিল, ইউক্রেনের দোনবাস এলাকার ভুহলেদার দখল করার টার্গেট দেওয়া হয় স্পুতনিকভের ব্যাটালিয়নকে। তাঁর কাজ ছিল কমান্ডারদেরকে তাঁদের ইউনিটের সাথে সংযুক্ত রাখা এবং নজরদারি ব্যবস্থা থেকে তাঁরা যেন তথ্য পায় তা নিশ্চিত করা। এর পরিবর্তে, তিনি গোপনে ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে রাশিয়ার অবস্থান এবং পরিকল্পিত গতিবিধি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করতেন। একটা সময় তিনি পেটে ব্যথার ভান করে তাঁর রুশ সহযোদ্ধাদের ক্যাম্প থেকে দূরে চলে যান, যার পরই সেই ক্যাম্পে আছড়ে পড়ে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র। এরপর ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের তরফে তাঁর কাছে মেসেজ আসে, ‘বিস্ফোরণ হয়েছিল কি? একটি ছবি পাঠান।’ উত্তরে স্তুপনিকভে জানান,‘ চারিদিকে শুধু মাংস।’

প্রশ্ন উঠতেই পারে, নিজের সহযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে, নিজের দেশের বিরুদ্ধে কেন গিয়েছিলেন এই রুশ সেনা অফিসার? রিপোর্ট বলছে, ইউক্রেনে,পুতিনের রাশিয়ার আগ্রাসনে একফোঁটা সমর্থন মনে মনে ছিলনা স্পুতনিকভের। ওই আগ্রাসনের যুদ্ধের ভিডিয়ো স্পুতনিকভকে ব্যাপক ক্ষুব্ধ করে, আতঙ্কিত করে তোলে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তিনি বলছেন, তাঁর সেনা অ্যাকাডেমিতেও একই মনোভাব অনেকের ছিল। অনেকে সেনা ছেড়ে যেতে চেয়ে আবেদন করলেও সাড়া পাননি।

রিপোর্ট বলছে, ইউক্রেনের পক্ষে গিয়ে এই রুশ অফিসারের লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছেন স্তুপনিকভের মা। স্তুপনিকভের মা, ,৪৯ বছর বয়সী তাতিয়ানা ইয়ানৎসেন পুতিনের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর ছেলে সম্মুখ সমরে যোগ দেওয়ার তিন মাস পর, তিনি, ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কর্মরত দিমিত্রো কার্পেঙ্কোর সাথে যোগাযোগ করেন। দিমিত্রোর হাত ধরে স্তুপনিকভ ইউক্রেনের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে সাহায্য করেন। দিমিত্রোর সাহায্যের ফলেই রুশ ক্যাম্প ছেড়ে ইউক্রেন সীমান্ত পার করে যখন স্তুপনিকভ ইউক্রেনে ঢুকতে যান, তখন তাঁর দিকে বন্দুক তাক করে থাকা সেনা জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘পাসকোড কী?’ উত্তরে, ‘পিনাট শপ’ বলেন স্তুপনিকভ। উত্তর সঠিক হতেই তিনি ইউক্রেনে ঢুকে পড়তে পারেন অক্ষতভাবে। অন্যদিকে, রাশিয়া হন্যে হয়ে খোঁজে স্তুপনিকভকে। তাঁর মায়ের কাছেও যান রুশ অফিসারারা। রাশিয়া তাতিয়ানাকে জোর দেয়, যাতে তাঁর ছেলে আত্মসমর্পণ করে। তখন রুশ অফিসারদের কাছে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মায়ের মতো আচরণ করেন স্পুতনিকভের মা, যিনি প্রায় ছেলের সমস্ত কর্মকাণ্ডই তখন জানতেন। মা, রুশ অফিসারদের বলেন, তাঁরাই যেন তাঁর ছেলেকে খুঁজে বের করে দেন। পরে, স্তুপনিকভের মা ও বোনও ইউক্রেন পৌঁছে যান। এই সবের মধ্যে একটা ব্যক্তিগত ক্ষতি হয়ে যায় স্তুপনিকভের।তিনি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। আর স্তুপনিকভের স্ত্রীও তাঁর বিরুদ্ধে, বিয়ে ও রাশিয়ার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন। স্তুপনিকভের জন্য ৩০০ রুশ সেনার মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর রুশ বিরোধিতার কারণ নিয়ে স্তুপনিকভের প্রশ্ন, ‘আমি কি আমার শপথ ভঙ্গ করেছি? আমি স্বাধীনতা, স্বাতন্ত্র্য এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থা রক্ষার অঙ্গীকার করেছিলাম।’ তিনি বলছেন, ‘কিন্তু পুতিন তিনটিই ধ্বংস করে দিয়েছেন।’

  • Sritama Mitra
    ABOUT THE AUTHOR
    Sritama Mitra

    শ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More