Ghaziabad Husband Attack: জিম ট্রেনারের সঙ্গে প্রেম! স্বামীকে খুনের ছক স্ত্রীর,গাজিয়াবাদ-কাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে
Ghaziabad Husband Attack: গত ২৬ অক্টোবর বসুন্ধরা সেক্টর ওয়ানে ঘটনাটি ঘটেছে। জাগৃতি রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সোসাইটিতে থাকতেন ওই দম্পতি। সেদিন সকালে আচমকাই ঘরে ঢুকে যুবককে পরপর ছুরির কোপ মারেন স্ত্রী ও তাঁর জিম ট্রেনার।
Ghaziabad Husband Attack: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ভয়ঙ্কর পরিণতি। পথের কাঁটা স্বামীকে সরাতে জিম ট্রেনারের সঙ্গে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু গল্পে নয়া মোড়। বাড়ির মধ্যেই যুবককে এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ মারেন অভিযুক্ত জিম ট্রেনার ও স্ত্রী। বরাতজোরে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ওই যুবক। দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদের একটি আবাসনে এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৬ অক্টোবর বসুন্ধরা সেক্টর ওয়ানে ঘটনাটি ঘটেছে। জাগৃতি রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সোসাইটিতে থাকতেন ওই দম্পতি। সেদিন সকালে আচমকাই ঘরে ঢুকে যুবককে পরপর ছুরির কোপ মারেন স্ত্রী ও তাঁর জিম ট্রেনার। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দু'জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের হাতে এসেছে। যেখানে প্রিয়াকে ভোর ৫টা ১৭ মিনিট নাগাদ আবাসন থেকে গাড়ি নিয়ে বেরতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ, এর পরে শশাঙ্কের ফ্ল্যাটে যান ওই জিম প্রশিক্ষক। পুলিশের অভিযোগ, তিনি ঘরে ঢুকেই এলোপাথাড়ি কোপ মারতে থাকেন যুবককে। অন্তত ১২ বার ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয় তাঁকে। এরপর ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। যুবকের নাম, শশাঙ্ক শর্মা। সেদিন সকালে তাঁর স্ত্রী প্রিয়া জিমে যাওয়ার আগেই ঘটনাটি ঘটেছে। সেদিন সকালে হঠাৎ বাড়িতে আসেন অভিযুক্ত জিম ট্রেনার প্রতাপ সিং। জানা গিয়েছে, শশাঙ্কের চিৎকার, কান্নার আওয়াজ পেয়েই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তড়িঘড়ি শশাঙ্ককে উদ্ধার করে যশোদা মেডিসিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই যুবক।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, শশাঙ্ক আদতে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির বাসিন্দা। চার বছর আগে প্রিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দু'জনেই অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে দিল্লিতে কাজ করেন। পরিবারের সঙ্গে বসুন্ধরায় থাকেন। শশাঙ্ক প্রিয়ার দ্বিতীয় স্বামী। প্রথম বিবাহবিচ্ছেদের পর শশাঙ্কের সঙ্গে বিয়ে করেন তিনি। অন্যদিকে প্রতাপ স্থানীয় এক জিমের ট্রেনার। গত সাত থেকে আট মাস ওই জিমে যেতেন প্রিয়া। জিমে শরীরচর্চার মাঝেই প্রিয়া ও প্রতাপের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয় এবং ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ক্রমেই হোয়াটসঅ্যাপে নিত্যদিন কথা বলতেও শুরু করেন তাঁরা। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রতাপ জানিয়েছেন, প্রিয়ার সঙ্গে বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর গত মঙ্গলবার দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই খুনের হাতিয়ারও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়ট সম্প্রতি জানতে পারেন শশাঙ্ক। দিওয়ালির সময় দিল্লিতে স্থানান্তরিত হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। এরপরই শশাঙ্ককে খুনের পরিকল্পনা করেন দু'জনে মিলে। ২৫ অক্টোবর রাতে হোয়াটসঅ্যাপেও খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্তরা। ২৬ অক্টোবর মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েও খুনের পরিকল্পনা করে বাড়িতে ফিরে আসেন প্রিয়া। এরপর শশাঙ্কের ওপর হামলা করা হয়। শশাঙ্কের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। প্রিয়া এবং প্রতাপের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
E-Paper

