Venezuela Earthquake: ভূমিকম্পের আগেই সতর্কবার্তা! ভেনেজুয়েলার বিপর্যয়ে কীভাবে 'ত্রাতা' হয়ে উঠল গুগল?

Venezuela Earthquake: সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে একাধিক ব্যবহারকারী স্ক্রিনশট শেয়ার করে দেখিয়েছেন যে, গুগল তাদের ফোনে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা পাঠিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে, ভূমিকম্প আঘাত হানার আগেই গুগল কীভাবে বুঝতে পারল যে কম্পন আসছে? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আধুনিক স্মার্টফোন প্রযুক্তির মধ্যে।

Published on: Jun 26, 2026, 13:19:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Venezuela Earthquake: ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। ৭.১ ও ৭.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পকে গত একশো বছরের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। এই চরম বিপর্যয় ও ধ্বংসলীলার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে একটি চমৎকার ঘটনা। গুগলের একজন কর্মকর্তা এইচটি-কে নিশ্চিত করেছেন যে, ভূমিকম্প অনুভব করার কয়েক সেকেন্ড আগেই ব্যবহারকারীদের কাছে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগলের সতর্কবার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। তবে কতজন ব্যবহারকারী ওই সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন, তা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তবে কতজন ব্যবহারকারী এই সতর্কবার্তা পেয়েছেন তা তিনি নির্দিষ্ট করেননি।

ভেনেজুয়েলার বিপর্যয়ে কীভাবে 'ত্রাতা' হয়ে উঠল গুগল? (REUTERS)
ভেনেজুয়েলার বিপর্যয়ে কীভাবে 'ত্রাতা' হয়ে উঠল গুগল? (REUTERS)

সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে একাধিক ব্যবহারকারী স্ক্রিনশট শেয়ার করে দেখিয়েছেন যে, গুগল তাদের ফোনে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা পাঠিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে, ভূমিকম্প আঘাত হানার আগেই গুগল কীভাবে বুঝতে পারল যে কম্পন আসছে? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আধুনিক স্মার্টফোন প্রযুক্তির মধ্যে।

কীভাবে কাজ করে এই সিস্টেম?

অ্যান্ড্রয়েডের ভূমিকম্প সতর্ক ব্যবস্থা দুটি প্রধান প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও ওয়াশিংটনে শেকঅ্যালার্ট নামের একটি সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে একে সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ১৬৭৫টি ভূ-কম্পন সেন্সর মাটির কম্পন শনাক্ত করে তথ্য সরাসরি অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে পাঠায়।

দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ভেতরে থাকা অ্যাক্সিলোমিটার সেন্সর ব্যবহার করা হয়। ফোনটি যদি ভূমিকম্পের মতো কম্পন অনুভব করে, তবে সেটি অবস্থান-সহ গুগলের সার্ভারে সংকেত পাঠায়। একাধিক ফোনের তথ্য একত্র করে নিশ্চিত করা হয় সত্যি ভূমিকম্প হচ্ছে কিনা। এভাবে লক্ষ লক্ষ অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে এক ধরনের ‘ভার্চুয়াল সিসমোমিটার নেটওয়ার্কে’ পরিণত করা হয়।

দুই ধরনের সতর্কবার্তা

এই সিস্টেমে দুই ধরণের অ্যালার্ট দেওয়া হয়। একটি হলো- ‘বি অ্যাওয়্যার’ অ্যালার্ট, যা হালকা কম্পন শনাক্ত করেই ব্যবহারকারীদের নোটিফিকেশন পাঠায় এবং এবং ভলিউম, ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ এবং অন্যান্য নোটিফিকেশন সেটিংস মেনে চলে।

অন্যটি হলো ‘টেক অ্যাকশন’ অ্যালার্ট যা মাঝারি থেকে তীব্র কম্পনের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়। এই সতর্বার্তা ফোনের সব সেটিংস অগ্রাহ্য করে স্ক্রিন আলোকিত করে এবং মনোযোগ আকর্ষণের জন্য একটি উচ্চ শব্দ বাজায়। যে কোনও একটি সতর্কতায় ট্যাপ করলে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ এবং একটি মানচিত্র প্রদর্শিত হয়, যেখানে ভূমিকম্পের অবস্থান ও মাত্রার একটি প্রাথমিক অনুমান থাকে। যেহেতু সতর্কতা বার্তাগুলো ইলেকট্রনিক সংকেত হিসেবে প্রেরিত হয়, তাই ধীরগতির ভূকম্পন তরঙ্গ পৌঁছানোর আগেই সেগুলো ফোনে পৌঁছে যেতে পারে। গুগল বলছে, কম্পন শুরু হওয়ার আগে ওই কয়েক সেকেন্ডই কারুর জন্য মই থেকে নেমে যাওয়া, ভারী বস্তু থেকে দূরে সরে যাওয়া, বা মাটিতে বসে আশ্রয় নিয়ে কোনও কিছু আঁকড়ে ধরার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

আগাম সতর্কতার উদাহরণ

গুগল জানায়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ফিলিপিন্সে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের সময় এই সিস্টেম ভূমিকম্প শুরু হওয়ার মাত্র ১৮.৩ সেকেন্ড পরেই প্রথম সতর্কবার্তা পাঠায়। কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি মানুষরা ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত আগাম সতর্কতা পান, আর দূরের অঞ্চলে থাকা মানুষরা এক মিনিট পর্যন্ত সময় পান। ওই সময় প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল।

প্রযুক্তির এই অভিনব ব্যবহার প্রমাণ করেছে, কোটি কোটি স্মার্টফোন একসঙ্গে কাজ করলে শুধু যোগাযোগই নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতাও দেওয়া সম্ভব। এতে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।