PM Modi Indonesia Visit: পহেলগাঁও হামলার সময় ইন্দোনেশিয়া কীভাবে ভারতকে সাহায্য করেছিল? PM মোদী প্রশংসা করলেন...
PM Modi Indonesia Visit: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, 'ভারত সম্প্রসারণে নয়, সমৃদ্ধিতে বিশ্বাস করে। আমরা সকলের সঙ্গে, সকলের উন্নয়নের নীতিতে বিশ্বাসী।'
PM Modi Indonesia Visit: তিন দেশের সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথম গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া। ইতিমধ্যেই জাকার্তায় পৌঁছে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যাবেন তিনি। তবে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইন্দোনেশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে চর্চা চলছে সব মহলে। তিন দিনের সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে মঙ্গলবার সে দেশের সংসদে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভাষণে তিনি বলেন, ভারত কখনও সম্প্রসারণবাদে বিশ্বাস করে না, বরং সমৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং সহযোগিতাকেই দেশের বিদেশনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে দেখে। একই সঙ্গে গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হামলার পর ভারতের পাশে থাকা এবং সাহায্য করার জন্য ইন্দোনেশিয়াকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এদিন ইন্দনেশিয়ার সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, সংকটকালে ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। সন্ত্রাসবাদের মতো ইস্যুতে উভয় দেশ সবসময় একসঙ্গে লড়েছে। তিনি পহেলগাঁও হামলার উল্লেখ করে বলেন, সেই সময়েও ইন্দোনেশিয়া ভারতকে সমর্থন করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'গত বছর যখন পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছিল, তখন ইন্দোনেশিয়া দৃঢ়ভাবে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এই সমর্থনের জন্য আমি প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং আপনাদের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই। উভয় দেশই যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করছে। আমরা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সাইবার হুমকি, টেরর ফান্ডিং (সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন) এবং কট্টরপন্থা দূর করার মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়িয়ে বিশ্বের শান্তিকামী শক্তিগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে পারি।'
ইন্দোনেশিয়া কীভাবে ভারতকে সাহায্য করেছিল?
আসলে, ইন্দোনেশিয়া হল একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যেখানে মোট জনসংখ্যার ৮৭ শতাংশই মুসলিম। তা সত্ত্বেও, পহেলগাঁও হামলার সময়ে ইন্দোনেশিয়া পাকিস্তানের সমর্থন না করে ভারতের পাশেই দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল। সে দেশের প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে 'ইসলাম তো এমন শিক্ষা দেয় না।' তিনি বলেছিলেন, 'কাশ্মীরে যে জঙ্গি হামলা হয়েছে, তা ইন্দোনেশিয়ায় প্রচলিত ইসলামের সঙ্গে মেলে না।' তিনি এই কাপুরুষোচিত জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তখন পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন এবং সরাসরি বলেছিলেন যে সন্ত্রাসবাদ কোনও সমাধান এনে দিতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কী বললেন?
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের সম্প্রসারণবাদী মনোভাব নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, 'ভারত সম্প্রসারণে নয়, সমৃদ্ধিতে বিশ্বাস করে। আমরা সকলের সঙ্গে, সকলের উন্নয়নের নীতিতে বিশ্বাসী।' তিনি ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের সভ্যতাগত, গণতান্ত্রিক এবং সামুদ্রিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, সময়ের সঙ্গে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং মন্ত্রী-সহ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যখন ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইন্দোনেশিয়ার ২৯ কোটি নাগরিক যৌথ সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে এগিয়ে যাবে, তখন বিশ্ব এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হবে।
ভারত একটি অবাধ, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমর্থক
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ভারত একটি অবাধ, উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দৃঢ় সমর্থক। ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নৌচলাচলের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।' তিনি আরও বলেন, 'ভারত সম্প্রসারণে নয়, সমৃদ্ধিতে বিশ্বাস করে।' দক্ষিণ চিন সাগর এবং তার বাইরে বেজিংয়ের বাড়তে থাকা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তৈরি হওয়া উদ্বেগের প্রেক্ষিতেই তিনি এ কথা বলেন। নিজের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী ১৯৫০-এর দশক থেকে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। এর মধ্যে ১৯৫৫ সালের বিখ্যাত বান্দুং সম্মেলনে দুই দেশ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, সেটিরও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, বহু ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের জন্যই 'অসীম সুযোগ' লুকিয়ে রয়েছে।
১৯৫৫ সালের বান্দুং সম্মেলন
ইন্দোনেশিয়া আয়োজিত ১৯৫৫ সালের বান্দুং সম্মেলনে বিশ্ব শান্তি বজায় রাখতে এবং সদ্য স্বাধীন দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২৯টি এশীয় ও আফ্রিকান দেশের নেতারা একসঙ্গে শামিল হয়েছিলেন। ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা 'জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন'-এর ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবেই এটিকে গণ্য করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ভারত এমন একটি দেশ, যা সম্প্রসারণবাদের নয়, উন্নয়নের পথ অনুসরণ করে। তাই আমরা বলি 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ'- সকলকে সঙ্গে নিয়ে, সকলের উন্নয়ন। এই ভাবনাই আমি আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।' তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দুই দেশের রাজধানীর মধ্যে হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব থাকলেও সমুদ্র আমাদের মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে রেখেছে। বিশ্বের অনেক দেশের কাছে সমুদ্র বিচ্ছিন্নতার প্রতীক হলেও ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে সমুদ্র কখনও বিভেদের প্রতীক নয়, বরং এটি আমাদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন এবং আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যতের ভিত্তি।'
নতুন সুযোগ তৈরি হওয়া উচিত
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যখন ভারত ও ইন্দোনেশিয়া একজোট হয়, তখন তারা বিশ্বের এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে যে গণতন্ত্র সুযোগ তৈরি করে, গণতন্ত্র আস্থা বাড়ায় এবং গণতন্ত্র ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে।' তিনি আরও বলেন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত মহাসাগর এমন কিছু নাম যা দুই দেশকে যুক্তকারী গভীর সম্পর্ককে তুলে ধরে। তিনি বলেন, 'ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে যে সদিচ্ছা ও বিশ্বাস রয়েছে, তা থেকে আমাদের নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হওয়া উচিত।'
প্রধানমন্ত্রী যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বর্তমান কাঠামোর আওতায় দুই দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সাইবার হুমকি, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা বাড়িয়ে শান্তিকামী শক্তিগুলোকে শক্তিশালী করতে পারে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের দৃঢ় বিশ্বাস যে রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে আর দেরি করা উচিত নয়। প্রদাহনমন্ত্রী মোদী গত সোমবার জাকার্তায় পৌঁছান, যেখানে তাঁকে জমকালো অভ্যর্থনা জানানো হয়। এটি ছিল তাঁর তিন দেশীয় সফরের প্রথম ধাপ-যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডও রয়েছে।
E-Paper

