কয়েক সেকেন্ডের জন্য মৃত্যুকে ফাঁকি! কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন মোজতবা খামেনেই? প্রকাশ্যে...
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক হামলা শুরু করে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুইটির যৌথ হামলায় প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-সহ তাঁর একাধিক আত্মীয় ও দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের। তবে সেবার কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তাঁর ছেলে তথা ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের একটি রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। দাবি করা হয়েছে, মিসাইল হানার ঠিক আগের মুহূর্তে বাসভবন থেকে বেরিয়ে পড়তেই রক্ষা পান ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা।

ইরানি আধিকারিকদের বৈঠকের একটি ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক হামলা শুরু করে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুইটির যৌথ হামলায় প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-সহ তাঁর একাধিক আত্মীয় ও দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা। সেই হামলা থেকেই কোনওক্রমে রক্ষা পেয়েছেন মোজতবা। ঠিক মিসাইল হানার আগের মুহূর্তেই তিনি কম্পাউন্ড থেকে বাগানে বেরিয়ে এসেছিলেন। ফলে সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান এই নেতা। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, খামেনেই-এর প্রোটোকল অফিসের প্রধান মাজাহের হোসেইনি একটি বৈঠকে ইরানি আধিকারিকদের জানিয়েছেন, 'স্বয়ং ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই মোজতবা কিছুক্ষণের জন্য বাইরের উঠোনে বেরিয়ে ছিলেন। যখন বাগান থেকে ফিরে আসার জন্য সবেমাত্র সিঁড়িতে উঠতে যাচ্ছেন, তখনই বিল্ডিংয়ের উপর মিসাইল এসে পড়ে।'
ফাঁস হওয়া অডিও বার্তায় দাবি করা হয়েছে, হামলা শুরুর ঠিক আগে ‘কিছু একটা করার জন্য’ কক্ষ থেকে বের হন মোজতবা। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ইজরায়েলের ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর বাড়িতে আঘাত হানে। অন্তত তিনটি মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল এই হামলায়। একটি সরাসরি আঘাত করে সেই অংশে, যেখানে ছিলেন আলি খামেনেই। অন্য একটি মিসাইল গিয়ে লাগে মোজতবার বাসভবনের উপরের তলায়। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। খামেনেই-এর কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান আরও জানান, মোজতবা সরাসরি হামলার শিকার না হলেও পায়ে আঘাত পান। হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে মোজতবার স্ত্রী ও সন্তান নিহত হয়। তার শ্যালকের মাথা দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায়। খামেনেই-এর সামরিক ব্যুরোর প্রধান মহম্মদ সিরাজি এই হামলায় ‘ছিন্নভিন্ন হয়ে যান।’ পরবর্তীতে তার দেহ শনাক্ত করার জন্য শুধু কয়েক কেজি মাংস অবশিষ্ট ছিল বলে জানান হোসেইনি। নাম না প্রকাশের শর্তে ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, সামরিক কমান্ডারদের কাছে মোজতবা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। মোজতবা আদৌ সুস্থ আছেন কিনা, সে প্রশ্নের জবাব এখনও পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য
এদিকে ১৪ মার্চ এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (মোজতবা) আদৌ বেঁচে আছেন কিনা, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তাঁর উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুনছি যে তিনি বেঁচে নেই। আর যদি বেঁচে থাকেন, তবে নিজের দেশের স্বার্থে তার একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ করা উচিত। আর তা হল আত্মসমর্পণ করা।’ তবে খামেনেইর মৃত্যুর খবরকে একটি ‘গুজব’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি।
E-Paper

