Haryana Gangster: পলাতক থেকে ব্যবসায়ী! কীভাবে হরিয়ানার কুখ্যাত গ্যাংস্টার কম্বোডিয়ায় নতুন জীবনযাত্রা শুরু করেছিলেন?
Haryana Gangster: বছর দুয়েক আগে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি কম্বোডিয়ায় মইনপাল ধিল্লার থাকার বিষয়ে খবর পায়। হরিয়ানা পুলিশের অনুরোধে সিবিআই ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিস’ জারির ব্যবস্থা করে।
Haryana Gangster: বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত গ্যাংস্টার মইনপাল ধিল্লা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরিয়ানার একটি ফার্মহাউসে ৫০০ অতিথির উপস্থিতিতে কম্বোডিয়ান সঙ্গীর সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর প্যারোলের মেয়াদ শেষ হলে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় তাকে আবার কারাগারে ফিরতে হয়। এই আবহে ফের একবার তাঁর অতীতের অজানা কাহিনী প্রকাশ্যে এসেছে।

ঝজ্জরের বডলী এলাকার বাসিন্দা মইনপাল ধিল্লাকে গত বছর কম্বোডিয়া থেকে প্রত্যর্পণ করা হয়েছিল। মইনপালের বিরুদ্ধে খুন-সহ মোট ২২টি মামলা রয়েছে। ২০০৭ ও ২০১০ সালে দায়ের করা তিনটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর হিসারের একটি কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছিলেন এই গ্যাংস্টার। কারাগারে থাকাকালীনও এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ছ’সপ্তাহের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মুক্তি পেয়েই পলাতক হন। ‘সোনু কুমার’ নাম ব্যবহার করে ভুয়ো পরিচয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যান। মইনপাল গা ঢাকা দিয়েছিলেন কম্বোডিয়ায়। সেখানে গিয়ে তিনি নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেন। বেনামে ব্যবসাও শুরু করেন।
শেষ পর্যন্ত বছর দুয়েক আগে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি কম্বোডিয়ায় মইনপালের থাকার বিষয়ে খবর পায়। হরিয়ানা পুলিশের অনুরোধে সিবিআই ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিস’ জারির ব্যবস্থা করে। মইনপালের অবস্থান জানার জন্য ব্যাঙ্ককের তদন্তকারী সংস্থা এনসিবি-র সঙ্গেও যোগাযোগ করে সিবিআই। জানা যায়, হরিয়ানা থেকে পালিয়ে প্রথম থাইল্যান্ড এবং সেখান থেকে কম্বোডিয়ায় পালিয়েছিলেন গ্যাংস্টার মইনপাল। এরপর ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ ইন্টারপোলের মাধ্যমে কম্বোডিয়ার এনসিবি-নম পেন-এর কাছে তাঁকে সাময়িক ভাবে গ্রেফতারের অনুরোধ পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই গ্রেফতার করা হয় মইনপালকে। কূটনৈতিক মাধ্যমে মইনপালকে ভারতে প্রত্যর্পণের সরকারি অনুরোধ জানানো হয় নয়াদিল্লির তরফে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয় কুখ্যাত গ্যাংস্টারকে। তাঁকে আনতে হরিয়ানা পুলিশের একটি দল কম্বোডিয়ায় গিয়েছিল ২ সেপ্টেম্বর।
তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে মইনপাল বলেন, 'আমি থাইল্যান্ডে প্রায় ২০-২২ দিন ছিলাম। এরপর আমি কম্বোডিয়ায় গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করি। থাইল্যান্ড থেকে কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর চেন মেটার সঙ্গে আমার দেখা হয় এবং আমরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করি।' গ্যাংস্টার জানান, এরপর তিনি সিয়াম রিপ শহরের একটি হোটেলে থাকতে শুরু করেন। প্রায় এক মাস পর, তিনি ও চেন মেটা যৌথভাবে ১০ হাজার ডলার খরচ করে একটি বাড়ি কেনেন। এরপর থেকে তাঁরা দুজনে নিজেদের সেই বাড়িতে একসঙ্গে বসবাস করতে থাকেন। মইনপালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তিনি একটি ব্যবসাও শুরু করেছিলেন। তিনি 'কনটিয়াই' (Kontiai) নামে একটি ডিস্কো এবং 'আংকর' (Angkor) নামে একটি রেস্তোরাঁ চালু করেছিলেন। ২০১৮ সালে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মইনপাল কম্বোডিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় চানের। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব এবং শীঘ্রই সেই বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হয়। চার সন্তানও হয় যুগলের। তবে একত্রবাস করলেও চ্যানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি মইনপাল। সম্প্রতি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। এত দিন চান তাঁর সন্তানদের নিয়ে কম্বোডিয়াতেই ছিলেন। এখন বিয়ের জন্য তিন সন্তানকে নিয়ে ভারতে এসেছেন তিনি। চতুর্থ সন্তান থেকে গিয়েছে কম্বোডিয়াতেই।
E-Paper

