সস্তার ড্রোন, রাশিয়ার কৌশল! ইরানের কাছে কেন হিমশিম খাচ্ছে US-ইজরায়েল?
এই শাহেদ ড্রোনগুলি মূলত ইরানের নকশায় তৈরি হলেও বর্তমানে রাশিয়াতেই সেগুলির ব্যাপক উৎপাদন হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকালীন উত্তেজনা ক্রমে বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাত এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের অন্যতম এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের তৈরি সস্তার 'শাহেদ' ড্রোন। ১৫ দিনে কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে কয়েক শ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টিতেই তেহরান এই কৌশল নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই শাহেদ ড্রোনগুলি মূলত ইরানের নকশায় তৈরি হলেও বর্তমানে রাশিয়াতেই সেগুলির ব্যাপক উৎপাদন হচ্ছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় শাহেদ ড্রোন তৈরি করা সহজ এবং অত্যন্ত সম্ভা। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হল এটি সর্বোচ্চ ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। রাডার এড়াতে এটি সাধারণত মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায়। এছাড়াও এটি আগে থেকে নির্ধারিত পথে চলতে পারে, আবার দূর থেকে অপারেটরের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে দিক পরিবর্তনও করতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে ইরানের আক্রমণের ক্ষমতা কমছে এবং দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। কিন্তু ইরানের ড্রোন হামলার তীব্রতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদেরকে প্রাথমিকভাবে আরও উন্নত অস্ত্রের নকশা তৈরি করতে বাধ্য করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনও আশা করেনি যে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার মাত্রা এত বেশি হবে। ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-সহ ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের' জন্য চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু তেহরান নতি স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পরিবর্তে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত বিস্তৃত করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাসের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাক্তন মার্কিন কর্মকর্তা এবং সামরিক বিশেষজ্ঞরা ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন যে ইরান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া কৌশল ব্যবহার করে হামলা করছে। মস্কোর উন্নত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া নজরদারি ছবি ইরানের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে। এই স্যাটেলাইটগুলির মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব।
'শাহেদ' ড্রোন
৩৫ হাজার ডলার মূল্যের এই শাহেদ ড্রোনগুলো চেনার সহজ উপায় হল এর ইঞ্জিনের কর্কশ শব্দ, যা অনেকটা ঘাস কাটার মেশিনের মতো। বাহরাইন থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের আঁধারে একটি ডেল্টা- উইং ড্রোন বিকট শব্দে ধেয়ে এসে একটি বহুতল ভবনে আঘাত হানছে। ড্রোনটি প্রায় ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে, যা একটি বিশাল ভবন ধসিয়ে দিতে না পারলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টিতে সক্ষম। শাহেদ ড্রোন (বিশেষ করে শাহেদ-১৩৬) ছোট আকৃতির হলেও অত্যন্ত কার্যকর। ডানা ৭ ফুট, গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ মাইল। এটি ৯০ পাউন্ডের ওয়ারহেড বহন করতে পারে। যদিও এটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের (১০০০ পাউন্ড) তুলনায় ছোট, তবুও নির্দিষ্ট ভবনে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। প্রতিটি ড্রোনের খরচ মাত্র ৩৫,০০০ মার্কিন ডলার। যেখানে এগুলোকে ঠেকাতে ব্যবহৃত এক একটি 'প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার।
E-Paper











