Operative Model: ভয়ঙ্কর ছক কষেছিল ISI!ভারতকে অস্থির করতে ‘ব্লুপ্রিন্ট’,নেপথ্যে পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার

The Gangster-Operative Model: শনিবারই দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল আটজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-ভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দেশজুড়ে নাশকতা ছড়ানোর পরিকল্পনা ছিল এই চক্রের।

Published on: May 31, 2026, 21:40:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

The Gangster-Operative Model: ভারতে ‘হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার’ চালানোর ভয়ঙ্কর ছক কষেছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। সম্প্রতি দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক বিপজ্জনক দিকের সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দারা। শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আইএসআই লাহোরের গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টিকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে। কম খরচেই ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ করেছে একসময় পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত ভাট্টি। দেশে সন্ত্রাসবাদ, লক্ষ্যভিত্তিক উগ্রপন্থা ছড়ানো এবং অপরাধমূলক অস্থিরতা তৈরির মতো কাজ করেছে এই ভাট্টি।

গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি (সৌজন্যে ফেসবুক )
গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি (সৌজন্যে ফেসবুক )

শনিবারই দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল আটজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-ভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দেশজুড়ে নাশকতা ছড়ানোর পরিকল্পনা ছিল এই চক্রের। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সিপি অনিল শুক্লা জানিয়েছেন, ধৃতদের কাছ থেকে চারটি পাকিস্তানি হ্যান্ড গ্রেনেড, দুটি গ্লক পিস্তল, ২৪টি তাজা কার্তুজ, একটি চোরাই বাইক এবং একটি স্কুটার উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হল- উত্তরপ্রদেশের বিজয় ওরফে শুটার (২৩), ঝাড়খণ্ডের নীতীশ পাসওয়ান (২৩), মহারাষ্ট্রের তাওকির রিজওয়ান আহমেদ শেখ (২৭) এবং সাজিদ মেহবুব শেখ ওরফে আরবাজ খান (২৭), পাঞ্জাবের হরবিন্দর সিং (২৮), গগনদীপ সিং (২৮), মনজিৎ সিং (২৩) এবং নেপালি নাগরিক আনাগ কামি লামা (৬৬)। ভাট্টি এই মুহূর্তে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল, এনআইএ, উত্তরপ্রদেশ এটিএস এবং উত্তরাখণ্ড এসটিএফ-এর মতো একাধিক শীর্ষ স্তরের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় অন্যতম প্রধান নাম হিসেবে উঠে এসেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার আড়ালে অপরাধের সাম্রাজ্য

শাহজাদ ভাট্টি মূলত পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাট্টি নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী এবং ধর্মীয় বিষয়ের ভাষ্যকার হিসেবে তুলে ধরে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন এবং গোয়েন্দা নথি বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। তার এই স্বচ্ছ সামাজিক ভাবমূর্তির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক অন্ধকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। পাকিস্তানি পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকেই ভাট্টির অপরাধ জগতের খতিয়ান শুরু হয়। সে সময় তার বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতি-সহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়। আইনি জটিলতা ও গ্রেফতারের হাত থেকে বাঁচতে ২০১৫ সালের দিকে ভাট্টি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে দুবাই চলে যায়। সেখানে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে ডেয়ারির ব্যবসা শুরু করে।

দুবাইয়ে থাকাকালীনই ভাট্টির অপরাধমূলক গ্রাফ দ্রুত ওপরের দিকে উঠতে থাকে। জানা যায়, সেই সময়ে সে বেলুচিস্তানের কুখ্যাত ‘ফারুক খোখার গ্যাং’-এর সংস্পর্শে আসে এবং নিজের বুদ্ধির জোরে খুব দ্রুতই এই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের অন্যতম প্রধান সদস্য ও নীতি-নির্ধারক হয়ে ওঠে। ভার্চুয়াল জগতে ভাট্টি নিজেকে '৩৩৩' কোডনামে পরিচিত করে তোলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সংবেদনশীল ধর্মীয় বিষয় এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বিবাদ নিয়ে নিয়মিত ভিডিও তৈরি করত সে। অল্প সময়ের মধ্যেই উসকানিমূলক কনটেন্টের জেরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার অনুসারীর সংখ্যা বিপুলভাবে বেড়ে যায়। তবে তদন্তকারী সংস্থা ও গোয়েন্দাদের মতে, এই অনলাইন জনপ্রিয়তা আসলে কোনও আকস্মিক বিষয় ছিল না; বরং একটি সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক অপরাধ ও হাওয়ালা নেটওয়ার্ক আড়াল করার ঢাল হিসেবেই এই ইনফ্লুয়েন্সার ইমেজটিকে ব্যবহার করছিল ভাট্টি।

আইএসআই-এর সংযোগ

ভারতীয় নিরাপত্তা ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, শাহজাদ ভাট্টি এককভাবে এই অপরাধ সাম্রাজ্য চালাচ্ছে না; এর নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। জানা গেছে, আবিদ জাট, আজমল গুজ্জর এবং ইয়াওয়ার খানের মতো কুখ্যাত পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা ভাট্টির এই নেটওয়ার্ককে পেছন থেকে সরাসরি মদত ও অর্থ জোগাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই নেটওয়ার্কটি মূলত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট মেনে ভারতের বেকার ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অসহায় তরুণদের প্রথমে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ব্যক্তিগত মেসেজের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলা হয় এবং বিশ্বাস অর্জন করার পর ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি ভাট্টির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়।

তদন্তে জানা গেছে, ফাঁদে পড়া এই তরুণদের মগজধোলাই করতে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের ভিডিও দেখানো হতো। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ, সোশ্যাল মিডিয়ায় রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া এবং বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের টোপ দেওয়া হতো। নেটওয়ার্কের বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য প্রাথমিকভাবে এই তরুণদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান বা সরকারি স্থাপনার ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার মতো ছোটখাটো ‘টাস্ক’ দেওয়া হতো। এরপর টাকার লোভ দেখিয়ে ধীরে ধীরে তাদের এমন এক চোরাবালিতে টেনে নেওয়া হতো, যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব।

দেশজুড়ে অভিযান

সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক এই নেটওয়ার্কের হদিস মেলার পরপরই, ভারতের শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থাগুলো মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশব্যাপী এক বিশাল অভিযান শুরু করে। টানা ৪৮ ঘণ্টার এই অভিযানে দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র-সহ দেশের একাধিক রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। নিরাপত্তা সূত্রের খবর, এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ৫০০টিরও বেশি সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বর এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছিল। এই অভিযানের অংশ হিসেবে পাঞ্জাবের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে ৪০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, হরিয়ানা এসটিএফ প্রায় ৯০ জন যুবককে হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। রাজধানী দিল্লিতেও ২০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠানো হয়েছিল; যার মধ্যে মগজধোলাইয়ের শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন যুবককে কাউন্সেলিং দেওয়া হয় এবং তাদের বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো অবিলম্বে মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর এই সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযানের জেরে দেশজুড়ে মোট ৪৮১ জন সন্দেহভাজন এবং অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

‘তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান’-এর লিঙ্ক

তদন্তে 'তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান' নামক একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে শাহজাদ ভাট্টির সরাসরি যোগসূত্রের কথা প্রকাশ পেয়েছে। দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনরা জেরায় স্বীকার করেছে যে, রাজধানী দিল্লি এবং সংলগ্ন ফরিদাবাদের বিভিন্ন জনবহুল এলাকার দেয়ালে দেওয়ালে 'টিটিএইচ' লেখার জন্য তাদের ওপর বিশেষ নির্দেশ ছিল। ধৃতরা আরও জানিয়েছে, 'টিটিএইচ' লেখার ঠিক নিচেই ইংরেজি বর্ণমালার 'এস' অক্ষরটি লেখার জন্য তাদের আলাদাভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দাদের মতে, এই 'এস' অক্ষরের কোডনেম আসলে শাহজাদ ভাট্টির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও উপস্থিতির ইঙ্গিত বহন করে। সংবাদ সংস্থাগুলো বলছে, এই কর্মকাণ্ডে পাকিস্তানের অর্থায়ন ছিল।

পুলিশ কর্মীদের টার্গেট করে ষড়যন্ত্র

তদন্তে নেমে সবচেয়ে যে ভয়ঙ্কর ও গুরুতর তথ্যটি গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে, তা হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর আত্মঘাতী হামলার ছক। ধৃত সন্দেহভাজনরা জেরায় জানিয়েছে, তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং সেই নৃশংস ঘটনার পুরো ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘৃণ্য কাজের বিনিময়ে তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার টোপ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের এমনই এক পরিকল্পিত ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন ধরে ট্র্যাকিং বা নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত হামলার মুহূর্তে আক্রমণকারীর হাতের অস্ত্রটি আচমকা বিকল হয়ে যাওয়ায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। অন্যদিকে, খোদ শাহজাদ ভাট্টি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে পাঞ্জাবে তিনজন পুলিশ কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

পাঞ্জাবে একাধিক হামলায় ভাট্টির ভূমিকা

পাঞ্জাবে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি সহিংস ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় শাহজাদ ভাট্টির নাম সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ জলন্ধরের রায়পুর রসুলপুর গ্রামে জনপ্রিয় ইউটিউবার রজার সান্ধুর বাড়িতে যে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে বর্তমানে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। এই মামলায় এনআইএ-র পেশ করা চার্জশিট অনুযায়ী, ভাট্টিই ছিল এই হামলার প্রধান ষড়যন্ত্রকারী। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, ভারতে স্লিপার সেল ও স্থানীয় এজেন্টদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতে এবং তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিতে ভাট্টি 'সিগন্যাল' এবং 'টেলিগ্রাম'-এর মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করত, যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহজে তার বার্তা ট্র্যাক করতে না পারে।

হাই-প্রোফাইল মামলা এবং হুমকির লিঙ্ক

ভারতের একাধিক বহুল আলোচিত ও হাই-প্রোফাইল অপরাধের মামলার সঙ্গে ও শাহজাদ ভাট্টির নাম জড়িয়ে পড়েছে। এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক শুটার সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তার দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডের পর ভাট্টির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কই তাকে ভারত থেকে পালিয়ে বিদেশে আত্মগোপন করতে সরাসরি সাহায্য করেছিল। এছাড়াও বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং বলিউড তারকা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ভাট্টির বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই নেটওয়ার্কের শিকড় উপড়ে ফেলতে গত দুই বছরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ভাট্টির সঙ্গে যুক্ত শত শত স্থানীয় এজেন্ট ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অনলাইন ভিডিও এবং ফলোয়ারদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ভাট্টির এই সোশ্যাল মিডিয়া ইমেজ এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরীহ তরুণদের উগ্রবাদে দীক্ষিত করা, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং দেশজুড়ে ভীতি প্রদর্শন ও অস্থিরতা তৈরি করতে এই বিশাল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের একাধিক শীর্ষ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা একযোগে এই বিপজ্জনক আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে কাজ করছে। আর এই কারণেই শাহজাদ ভাট্টি এই মুহূর্তে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা রাডারে মোস্ট ওয়ান্টেড ও অন্যতম প্রধান সংবেদনশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।