Operation Firewall-2026: ‘যোশিতা’, ‘অনভি’, ভুয়ো নামে কীভাবে পাক স্পাই নেটওয়ার্ক শানায় অস্ত্র? নিশানায় ভারতের নৌসেনা?

পাকিস্তানি স্পাই নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস! ঠিক কী ঘটেছে?

Published on: Oct 7, 2026, 20:11:49 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

একটি নয়, একাধিক পন্থা। কখনও ভুয়ো নাম ব্যবহার, কখনও টাকা দিয়ে তথ্য আদায়ের চেষ্টা কিম্বা কখনও হানি ট্র্যাপ। সদ্য, পাকিস্তানের গুপ্তচর বাহিনী (স্পাই নেটওয়ার্ক) তাদের জাল বিস্তার করে ভারতের নৌসেনাকে টার্গেট করতে শুরু করে বলে খবর। যে জাল, দেশের নানান প্রান্তে বিস্তৃত করতে চেষ্টা করতে পাকিস্তান, বলে খবর। ভারতের সেনার গোপন খবর আদায় করতে একাধিক উপায়ের সাহায্য নেয় ইসলামাবাদ। রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানি স্পাই নেটওয়ার্কের টার্গেটে ছিলেন মোট ১৮ জন, তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই ভারতীয় নৌসেনার অফিসার। ইতিমধ্যেই ২ জনের গ্রেফতারির খবর সামনে এসেছে।

‘যোশিতা’, ‘অনভি’…ভুয়ো নামে কীভাবে পাক স্পাই নেটওয়ার্ক শানায় অস্ত্র? নিশানায়.. (প্রতীকী ছবি)
‘যোশিতা’, ‘অনভি’…ভুয়ো নামে কীভাবে পাক স্পাই নেটওয়ার্ক শানায় অস্ত্র? নিশানায়.. (প্রতীকী ছবি)

সম্প্রতি ১০ রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের পুলিশের সাথে অন্ধ্র প্রদেশের কাউন্টার ইন্টালিজেন্স সেল এক অপারেশন শুরু করে। অভিযানের নাম অপারেশন ফায়ারওয়াল। তদন্ত শুরু হতেই দুই পাকিস্তানি ইন্টালিজেন্স অপারেটিভের তথ্য সামনে আসে। এদের একজন নিজেকে যোশিতা পাল বলে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ফাঁদ পাতার চেষ্টায় ছিল। অপরজন নিজেকে দিল্লির মনোবিদ অনভি মেহতা বলে ভুয়ো পরিচিতি দেয়। যোশিতা নামের মহিলা নিজেকে মুম্বইয়ের জাহাজ নির্মাণকারী সংস্থার কর্মী বলে পরিচিতি দেয়।

পিটিআই-র খবর বলছে, ফাঁদ পাতার একটা প্যাটার্ন ছিল। সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল তৈরি করে, বন্ধুত্ব, কথোপকথন বাড়ানো আর পরে হোয়াটস অ্যাপে যোগাযোগ। পরবর্তীতে গোপন তথ্য চেয়ে মেসেজ, ভয়েস কল, ভিডিয়ো কল, হানি ট্র্যাপ ও টাকা দিয়ে তথ্য কেনার চেষ্টা চলেছে।

ইতিমধ্যেই এই তদন্ত ঘিরে প্রদীপ মুখোপাধ্যায় ও অন্নম সাই বরাপ্রসাদ নামে দুই নৌসেনা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও আরও সন্দেহভাজনরা বিহার, ছত্তিশগড়, অন্ধ্র প্রদেশ, কেরলের মতো বহু জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছেন বলে খবর।

এদিকে, জানা যাচ্ছে, যোশিতা (ভুয়ো নাম), নিজেকে মুম্বইয়ের জাহাজ নির্মাণ সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে ভারতীয় নৌসেনার জাহাজ, সাবমেরিনের সংখ্যার তথ্য হাতাতে চেয়েছে। এছাড়াও ছবি, কমান্ডিং অফিসারদের বিস্তারিত তথ্যও সে জানতে চেয়েছে।

নিজেকে মনোবিদ পরিচয় দেওয়া অনভি (ভুয়ো নাম) ভিডিয়ো ও ভয়েস কলের মাধ্যমে নৌসেনার জাহাজের ছবি ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলির খবর জানতে চেয়েছে। এছাড়াও নৌসেনার অন্দরের গোপন সংবেদনশীল এলাকাগুলিও সে ভিডিয়ো কল-র সময় দেখতে চেয়েছে, বলে জানা যাচ্ছে।

এই গোটা তদন্তে বারবার উঠছে বিশাখাপত্তনমের নাম। এই বিশাখাপত্তনম হল, ভারতীয় নৌসেনার ইস্টার্ন কমান্ড-র মূল কেন্দ্র। এদিকে, তদন্তে জানা যাচ্ছে, বহুজনকে ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে টাকাও দেওয়ার চেষ্টা হয়। হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ওটিপি নম্বর দেওয়া হয়। যে ওটিপি দেওয়া হয়, সেই ধরনের ওটিপি-গুলি সাধারণত পাকিস্তানে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতে ব্যবহার হয়। দেখা যাচ্ছে, কখনও ব্যক্তি, কখনও ব্যবসায়িক পন্থা, কখনও ক্রিপ্টোকারেন্সি মারফৎ এই টাকার আদান প্রদান হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই গোটা তদন্ত খুবই গোপন, সংবেদনশীল বিষয়, তারা বাকি সন্দেহভাজনদের বিশদ নিয়ে কোনও তথ্য তুলে ধরেনি।

দেশের একাধিক প্রান্ত থেকে

  • Sritama Mitra
    ABOUT THE AUTHOR
    Sritama Mitra

    শ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More