Six years old saved Flydubai Disaster: বয়স ৬! এই একরত্তি মেয়ের চিৎকার সেদিন ফ্লাইদুবাই-বিপত্তি কাটিয়ে তোলে, কী ঘটে?
সেখানে নিনার বাবা জভিকা যেতেই বুঝতে পারেন ককপিটে কিছু একটা ঘটছে। ককপিটে চোখ পড়তেই জভিকা দেখেন, সেখানের দরজা কিছুটা খোলা। চোখে পড়ে, রক্তাক্ত অবস্থায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে থাকা বিমানের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে। কাল বিলম্ব না হতেই বিমানে থাকা আরও দুজন ততক্ষণে এসে পড়েন।
মাঝ আকাশের বিমানে একরত্তির মেয়ের চিৎকারেই প্রথম সতর্কবার্তা পান বিমানের মধ্যে থাকা শতাধিক যাত্রী! গায়ে কাঁটা দেওয়া রুদ্ধশ্বাস সেই মুহূর্তে ছয় বছর বয়সী নিনা মানেসের ঘটনা সজাগ করেছিল দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বাকি যাত্রী ও নিনার বাবা জভিকা মানেসকে। কী ঘটেছিল সেদিন! বলছেন নিনার বাবা।

বিমান তখন মাঝ আকাশে। ছোট্ট নিনা তার মাকে বলেছিল, তাকে যেন তিনি বিমানের সোজাসুজি যে শৌচালয় সেখানে নিয়ে যেতে। নিনার বাবা জভিকা বসেছিলেন বিমানের একদম প্রথম সারিতে। নিনা শৌচালয়ের দিকে যেতেই তুমুল আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে। নিমেষে মেয়ের কাছে ছুটে যান নিনার বাবা। এমনই তথ্য উঠে আসে নিউ ইয়র্ক টাইমসে। বিমানের শৌচালয়ের দিকে ছিল নিনা। সেখানে নিনার বাবা জভিকা যেতেই বুঝতে পারেন ককপিটে কিছু একটা ঘটছে। ককপিটে চোখ পড়তেই জভিকা দেখেন, সেখানের দরজা কিছুটা খোলা। চোখে পড়ে, রক্তাক্ত অবস্থায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে থাকা বিমানের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে। কাল বিলম্ব না হতেই বিমানে থাকা আরও দুজন ততক্ষণে এসে পড়েন। বিমানের হেডফোনের তার বের করে ততক্ষণে আক্রমণকারী অপর পাইলটকে তাঁরা বেঁধে ফেলেন। আহত স্মিতের অবস্থা নিয়ে নিনার বাবা বলছেন, ‘ভারতীয় পাইলটটি প্রাণপণে লড়াই করছিলেন, তিনি নিজেকে বাঁচাতে সাহায্যের জন্য দরজাটি খুলতে সক্ষম হন।’ জভিকা মানেস বর্ণনা করেন, কীভাবে রক্তাক্ত পাইলট স্মিত ককপিটে পড়ে যান এবং তখন অন্য পাইলটটি তার ওপর চেপে বসে তাঁকে ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এরপর মানেস এবং আরও দুই যাত্রী আসাফ রাজুয়ান ও ইয়ানিভ হায়ুন লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ততক্ষণে বিমানের অবস্থা মাঝ আকাশে টলমল করছে। মানেস বলছেন, তখন, দুজন অফ-রস্টারে থাকা পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে অবতরণ করান। বিমানটি অবশেষে সৌদি আরবের তাবুকে এসে নিরাপদে পৌঁছায়, যেখানে যাত্রীরা, যাদের মধ্যে কয়েকজনের পোশাক তখনও রক্তমাখা ছিল, নেমে আসেন। ততক্ষণে বিমানে কয়েকজন যাত্রীর পোশাকে রক্ত লেগে থাকতে দেখা যায়।
ইতিমধ্যেই ওই হামলাকারী পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সৌদি আরব, আমিরশাহির হাতে প্রত্যর্পণ করে দেয়। তবে ইজরায়েল চাইছে, ওই পাইলটকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে। এদিকে, ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে নিয়ে প্রশংসায় ভরাচ্ছে দুনিয়া। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, সকলেই স্মিতের সাহসকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। এদিন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা হয় আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি স্মিতের। স্মিত জানিয়েছেন, সেই কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি হনুমান চালিসা পাঠ করেছিলেন মনে মনে। এছাড়াও একাধিক বক্তব্য মোদী ও গুজরাটের ভূমিপুত্র স্মিতের মধ্যে এদিন হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORSritama Mitraশ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More
E-Paper


