9/11 attacks: টুইন টাওয়ার হামলার ২৫ বছর! বদলে যাওয়া পৃথিবী ও ট্র্যাজেডির প্রতিচ্ছবি 'দ্য ফলিং ম্যান'

9/11 attacks: প্রথম বিমানের আঘাতের পর থেকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টাওয়ার ধসে পড়ার অন্তর্বর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রিচার্ড ড্রিউ।

Published on: Sep 11, 2026, 12:49:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

9/11 attacks: ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। সেদিন ছিল মঙ্গলবার। জ্বলন্ত টুইন টাওয়ার ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে উপর থেকে খাড়াভাবে নিচে ঝাঁপ দেওয়া এক নিঃসঙ্গ মানুষের দৃশ্য-'দ্য ফলিং ম্যান' (The Falling Man)—আজও ৯/১১-র ইতিহাসের অন্যতম শিহরণ জাগানো এবং স্তব্ধ করে দেওয়া ছবি হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

টুইন টাওয়ার হামলার ২৫ বছর! ট্র্যাজেডির প্রতিচ্ছবি 'দ্য ফলিং ম্যান' (সৌজন্যে টুইটার)
টুইন টাওয়ার হামলার ২৫ বছর! ট্র্যাজেডির প্রতিচ্ছবি 'দ্য ফলিং ম্যান' (সৌজন্যে টুইটার)

আল-কায়েদার ছিনতাইকারীরা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি টাওয়ারে বিমান নিয়ে আছড়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (AP) চিত্র সাংবাদিক রিচার্ড ড্রিউ-এর ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল নর্থ টাওয়ার থেকে পতনশীল এই হতভাগ্য ব্যক্তির ছবি। সেই ভয়ঙ্কর সকালে ঝরে যাওয়া প্রায় ৩,০০০ তরতাজা প্রাণের সবচেয়ে নির্মম ও স্থায়ী প্রতীক হয়ে উঠেছে এই ফ্রেমটি। সেদিন টাওয়ার দুটি থেকে একাধিক মানুষের নিচে লাফিয়ে পড়ার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়েছিল; কিন্তু নিখুঁত কম্পোজিশন এবং অবিশ্বাস্য দৃশ্যপট এই ছবিটিকে অন্যান্য সমস্ত ফ্রেম থেকে আলাদা এবং চিরস্মরণীয় করে তোলে।

একটি ফ্রেম, এক ব্যক্তির শেষ মুহূর্ত

প্রথম বিমানের আঘাতের পর থেকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টাওয়ার ধসে পড়ার অন্তর্বর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রিচার্ড ড্রিউ। উপর থেকে মানুষের মাটিতে আছড়ে পড়া বা নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে বাঁচার তাগিদে নিচে লাফিয়ে পড়ার বিভীষিকাময় আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন তিনি। এর মাঝেই ড্রিউ তাঁর ২০০ মিলিমিটার জুম লেন্সটি এক ব্যক্তির দিকে তাক করেন এবং একের পর এক ফ্রেম বন্দি করতে থাকেন। তখন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে এর মধ্যে থেকেই একটি ছবি ৯/১১ ইতিহাসের সবচেয়ে স্থায়ী প্রতীক হয়ে উঠবে।

ছবির দৃশ্যপট: দুটি সুবিশাল টাওয়ারের মাঝখান দিয়ে নিচের দিকে খাড়াভাবে নেমে আসছেন এক ব্যক্তি। শরীর প্রায় একদম সোজা, দুই হাত শরীরের দু'পাশে স্থির, একটা হাঁটু সামান্য ভাঁজ করা—চারপাশের চরম ধ্বংসযজ্ঞ ও হাহাকারের মাঝে তিনি যেন অদ্ভুত এক শান্ত ও নিথর ভঙ্গিমায় ঝুলে রয়েছেন। এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-সহ একাধিক প্রথম সারির মার্কিন সংবাদপত্রে তা প্রকাশিত হয়। তবে পাঠকদের চরম আবেগ ও তীব্র প্রতিবাদের মুখে সাময়িকভাবে ছবিটি প্রকাশ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

কীভাবে তোলা হয়েছিল এই ঐতিহাসিক ছবি?

পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী চিত্র সাংবাদিক রিচার্ড ড্রিউ ঘটনার সময় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে প্রায় সাড়ে তিন মাইল দূরে মিডটাউন ম্যানহাটনের ব্রায়ান্ট পার্কে একটি মেটারনিটি ফ্যাশন শো কভার করতে গিয়েছিলেন। হামলার খবর পেতেই তাঁর এডিটরের জরুরি ফোন আসে: 'ফ্যাশন শো ছেড়ে এখনই ছোটো, তোমায় পৌঁছাতে হবে।' দ্রুত টাইমস স্কোয়ারে গিয়ে সাবওয়ে ট্রেনে চেপে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ঠিক আগের স্টেশন চেম্বার্স স্ট্রিটে নামেন ড্রিউ। স্টেশন থেকে ওপরে উঠতেই দেখেন ততক্ষণে দ্বিতীয় বিমানটিও আছড়ে পড়েছে সাউথ টাওয়ারে। জ্বলছে দুটি টাওয়ারই, রাস্তাঘাট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন আর প্রাণভয়ে মানুষের ছুটোছুটি। ঠিক সেই সময় ড্রিউ তাঁর ক্যামেরা উঁচিয়ে 'দ্য ফলিং ম্যান'-এর ছবি তোলার মুহূর্তেই একজন উদ্ধারকারী কর্মী তাঁকে নিরাপত্তার স্বার্থে টেনে পেছনে সরিয়ে নিয়ে যান। তা সত্ত্বেও সেই পরিস্থিতির মাঝেই শাটার টিপতে পেরেছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে সিবিএস নিউজকে ড্রিউ বলেছিলেন, 'ছবিটা আসলে আমি তুলিনি, ক্যামেরা নিজেই ওই মানুষের ছবি তুলেছে। মানুষ যখন উপর থেকে পড়ছিল, আমি ক্যামেরার ট্রিগারে আঙুল রেখে ওদের অনুসরণ করছিলাম আর ক্যামেরা অনবরত শাটার ফেলে ছবি তুলছিল। এই ব্যক্তির পড়ার আট বা নয়টি ফ্রেম ছিল আমার কাছে। ক্যামেরা কাকতালীয়ভাবে সেই নির্দিষ্ট মুহূর্তেই শাটার ফেলেছিল যখন তাঁর শরীরটা একেবারে উল্লম্ব ও সোজা ছিল। অফিসে ফিরে ল্যাপটপে দেখার আগে পর্যন্ত আমি নিজেও বুঝতে পারিনি কী ছবি উঠেছে।' রকফেলার সেন্টারের এপি অফিসে ফিরে একের পর এক দ্রুত তোলা ছবি দেখার সময়ই এই বিশেষ ফ্রেমটিতে চোখ আটকে যায় ড্রিউ-এর। পরে তিনি বলেন, 'আমরা আসলে এক ব্যক্তির জীবনের অন্তিম মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিলাম।'

কে এই 'ফলিং ম্যান'?

টরন্টো গ্লোব অ্যান্ড মেল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেউ কেউ ওই ব্যক্তিকে নর্থ টাওয়ারের চূড়ায় থাকা রেস্তোরাঁ 'উইন্ডোজ অন দ্য ওয়ার্ল্ড'-এর কর্মী নোরবার্তো হার্নান্দেজ বলে দাবি করেন। আবার কিছু রিপোর্টে তাঁকে ওই একই রেস্তোরাঁর অডিও ইঞ্জিনিয়ার জোনাথন ব্রাইলি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যদিও তাঁর পরিচয় আজও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে চরম সত্যকে প্রকাশ করতে কোনও নামের ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না—সেদিন সকালে প্রাণ হারানো প্রায় ৩,০০০ মানুষের প্রত্যেকেই ছিলেন কারও না কারও আপনজন, এক একটি জীবন্ত গল্প।