Delhi Building Collapse:নেই অনুমোদিত নকশা, নেই দমকলের ছাড়পত্রও! যেভাবে দিন দিন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল সত্য নিকেতনের বহুতলটি

Delhi Building Collapse: এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে ২০২৩ সালে মুখার্জি নগরের একটি কোচিং সেন্টারে বিধ্বংসী আগুনে ৬১ জন পড়ুয়া জখম হওয়ার পর বড়সড় অভিযান চলেছিল। কিন্তু কিছুদিন পরেই পরিস্থিতি আবার আগের মতোই হয়ে যায়।

Published on: Sep 7, 2026, 15:25:05 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Delhi Building Collapse: রবিবার দুপুরে দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন (Delhi Building Collapse) ভেঙে পড়ে অন্তত ছয় জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং আরও বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (Satya Niketan Building Collapse)। এ পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এবার এই ঘটনায় প্রকাশ্যে এসেছে চরম গাফিলতির তথ্য। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লির (MCD) প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভেঙে পড়া ওই বহুতলটির কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান বা বৈধ নকশাই ছিল না। শুধু তাই নয়, ভবনটির বেসমেন্টে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে যেখানে একের পর এক বহুতল পিজি গজিয়ে উঠেছে, সেখানে চোখের সামনে কীভাবে এমন বিপজ্জনক নির্মাণ চলতে পারল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল সত্য নিকেতনের বহুতলটি (PTI)
বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল সত্য নিকেতনের বহুতলটি (PTI)

দিল্লির সাউথ ক্যাম্পাসের ঠিক পাশেই অবস্থিত সত্য নিকেতন। ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে পুনর্বাসন কলোনি (Resettlement Colony) হিসেবে গড়ে ওঠা এই শান্ত ও কম ঘনত্বের এলাকাটি আজ পাঁচ থেকে ছয় তলার শত শত পিজি, মেস ও রেস্তোরাঁয় ঠাসা এক ঘিঞ্জি ছাত্রকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এমসিডি-র এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, ১৯৭১ সালের পুনর্বাসন কলোনিগুলির একটি ছিল এই এলাকা, যেখানে ২০১১ সালে 'ফ্রিহোল্ড' অধিকার দেওয়া হয়। ক্যাম্পাসের কাছে হওয়ায় বাড়ির মালিকরা বিদ্যমান কাঠামোর ওপর একের পর এক অবৈধভাবে ঘর যোগ করতে থাকেন। তিনি বলেন, 'দাঁড়িয়ে থাকা কোনও ভবনের বেসমেন্টে পরিবর্তনের অনুমতি কখনোই দেওয়া যায় না, কারণ তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি চিহ্নিত করতে না পারা সম্পূর্ণভাবে ফিল্ড স্টাফদের চরম ব্যর্থতা।' এ ছাড়া ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) অনুযায়ী পাঁচ তলা নির্মাণের কোনও নিয়ম নেই বলেও তিনি জানান।

নেই কোনও বুকিং বা সিল করার রেকর্ড: এমসিডি রিপোর্ট

এমসিডি-র রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, 'পি-১৪ সত্য নিকেতন' নামের ভেঙে পড়া সম্পত্তিটি মাত্র ৫৫ বর্গগজের একটি প্লটের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। ১৯৯০-এর দশকে তৈরি এই ভবনে একটি বেসমেন্ট ছাড়াও গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে শুরু করে চার তলা পর্যন্ত ছিল। পুর রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সম্পত্তির বিরুদ্ধে কোনও বেআইনি কাজের অভিযোগ জমা পড়েনি কিংবা কোনও নোটিশ বা সিল করার রেকর্ডও পুরসভার খাতায় ছিল না। অথচ এই এলাকাতেই ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে আরেকটি বাড়ি ধসে পড়ে দু'জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ছ'জন ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েছিলেন।

কোনও এনওসি ছিল না

নিয়মের ফাঁকফোকর অগ্নিসুরক্ষা বিধিতেও স্পষ্ট। নিয়ম অনুযায়ী, ৯ মিটারের বেশি উঁচু এবং ২০ জনের বেশি ছাত্র থাকা পিজি ভবনগুলিকে ‘অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং’ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাদের ক্ষেত্রে দমকলের এনওসি (Fire NOC) থাকা বাধ্যতামূলক। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এতগুলো ঘর ও ছাত্র থাকা সত্ত্বেও ভেঙে পড়া ভবনটির কোনও ফায়ার এনওসি ছিল না। পুরো সত্য নিকেতন এলাকাতেই কোনও সুরক্ষাবিধি ছাড়াই এভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ পিজি গড়ে উঠেছে। এই ভবনে এক বছর আগেও ভাড়া থাকা মতিলাল নেহরু কলেজের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া দিব্য উপাধ্যায় জানান, ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে তিনি বন্ধুদের নিয়ে অন্যত্র ফ্ল্যাটে চলে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'পুরনো ভবনে ভাড়া কিছুটা কম থাকে বলে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়ারা বাধ্য হয়ে এখানে এসে ওঠে।'

তবে এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে ২০২৩ সালে মুখার্জি নগরের একটি কোচিং সেন্টারে বিধ্বংসী আগুনে ৬১ জন পড়ুয়া জখম হওয়ার পর বড়সড় অভিযান চলেছিল। কিন্তু কিছুদিন পরেই পরিস্থিতি আবার আগের মতোই হয়ে যায়। কাটওয়ারিয়া সরাই, হৌজ রানি, সাইদুল আজাবের মতো অপরিকল্পিত এলাকাগুলিতে হোস্টেলের অভাবে সস্তায় মাথা গোঁজার তাগিদে ভিড় জমান হাজার হাজার ছাত্র ও তরুণ চাকুরীজীবি। এমসিডি-র ওয়ার্কস কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান জগদীশ মামগাইন ছাত্রাবাসের তীব্র ঘাটতি এবং প্রশাসনের মদতকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, 'পর্যাপ্ত হোস্টেলের ব্যবস্থা নেই, তাই বিপুল চাহিদা রয়েছে। অবৈধ পিজিগুলি খুব ছোট ছোট খোপ বানিয়ে বেআইনিভাবে সেই সুযোগ নিচ্ছে। সত্য নিকেতনের ভবনটিতেও অবৈধ পরিবর্তন করা হচ্ছিল। কিংসওয়ে ক্যাম্প, মলকা গঞ্জ বা জেএনইউ-এর আশপাশের এলাকাগুলিতেও একই চিত্র। পরিকল্পনার অভাবেই আজ বেআইনি কারবার চলছে। বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের বেলদার থেকে শুরু করে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, কমিশনার, কাউন্সিলর ও বিধায়ক—সবার কাছেই এর ভাগ পৌঁছায়।'