How to change address in Aadhaar card: আধার কার্ডে ঠিকানা পরিবর্তন কীভাবে? জানুন অনলাইন ও অফলাইন আবেদনের সহজ পদ্ধতি

How to change address in Aadhaar card: ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা ইউআইডিএআই (UIDAI) এখন আধার কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছে।

Published on: Sep 4, 2026, 08:37:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আধার কার্ড কেবল একটি ১২ সংখ্যার পরিচয়পত্র নয়, এটি সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি সুবিধার মূল চাবিকাঠি। নতুন কোনো স্থানে বসবাস শুরু করা, বিবাহের পর ঠিকানা বদল কিংবা পুরনো ঠিকানায় কোনো ভুল থাকলে তা আধার কার্ডে সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, নতুন সিম কার্ড নেওয়া বা সরকারি প্রকল্পে আবেদন করার ক্ষেত্রে আধার কার্ডের ঠিকানা হালনাগাদ (Update) না থাকলে নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়।

আধার কার্ডে ঠিকানা পরিবর্তন কীভাবে? জানুন অনলাইন ও অফলাইন আবেদনের সহজ পদ্ধতি
আধার কার্ডে ঠিকানা পরিবর্তন কীভাবে? জানুন অনলাইন ও অফলাইন আবেদনের সহজ পদ্ধতি

ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা ইউআইডিএআই (UIDAI) এখন আধার কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছে। কোনো দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে খুব সহজেই আপনি নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে ঘরে বসেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। এছাড়া নিকটস্থ আধার সেবা কেন্দ্রে গিয়েও এই কাজ করা সম্ভব। আধার কার্ডে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তনের খুঁটিনাটি ও সহজ গাইডলাইন নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. অনলাইন মাধ্যমে আধার কার্ডে ঠিকানা পরিবর্তনের সহজ ধাপসমূহ

আপনার আধার কার্ডের সাথে যদি মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করা থাকে, তবে আপনি নিজেই খুব সহজে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন:

  • ধাপ ১ (অফিশিয়াল পোর্টালে লগইন): প্রথমে ইউআইডিএআই-এর প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট 'myAadhaar' পোর্টালে যান। সেখানে থাকা 'Login' বোতামে ক্লিক করুন।
  • ধাপ ২ (আধার নম্বর ও ওটিপি প্রবেশ): আপনার আধার নম্বর ও স্ক্রিনে থাকা ক্যাপচা (Captcha) কোড সঠিকভাবে দিন। এরপর 'Send OTP'-তে ক্লিক করলে আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) আসবে। সেই ওটিপি দিয়ে লগইন করুন।
  • ধাপ ৩ (ঠিকানা আপডেট বিকল্প নির্বাচন): সার্ভিস তালিকা থেকে 'Update Aadhaar Online' বা 'Address Update' বিকল্পটি বেছে নিন। এরপর 'Update Address Online' অপশনে ক্লিক করে এগিয়ে যান।
  • ধাপ ৪ (নতুন ঠিকানা জমা দেওয়া): আপনার বর্তমান আধার কার্ডে থাকা পুরনো ঠিকানাটি স্ক্রিনে দেখতে পাবেন। সেখানে আপনার নতুন ঠিকানার সঠিক বিবরণ (যেমন বাড়ি নম্বর, রাস্তা, পিন কোড, পোস্ট অফিস ও জেলা) যত্নসহকারে টাইপ করুন।
  • ধাপ ৫ (নথিপত্র আপলোড): নতুন ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে উপযুক্ত ডকুমেন্টের (যেমন ভোটার কার্ড, বিদ্যুৎ বিল, পাসপোর্ট, রেশন কার্ড বা ব্যাঙ্ক পাসবুক) একটি পরিষ্কার স্ক্যান কপি বা ছবি আপলোড করুন।
  • ধাপ ৬ (ফি প্রদান ও প্রসেসিং): সমস্ত তথ্য যাচাই করার পর নির্ধারিত ৫০ টাকার অনলাইন ফি প্রদান করুন। পেমেন্ট সফল হলে আপনি একটি সার্ভিস রিকোয়েস্ট নম্বর বা এসআরএন (SRN) পাবেন, যা দিয়ে পরবর্তীতে স্ট্যাটাস চেক করা যাবে।

২. হেড অফ ফ্যামিলি (HOF) পদ্ধতির মাধ্যমে অনলাইন ঠিকানা সংশোধন

আপনার কাছে যদি নিজের নামে কোনো স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র না থাকে, তবুও আপনি পরিবারের প্রধানের (যেমন বাবা, মা বা স্বামী/স্ত্রী) ঠিকানার প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারেন:

এই পদ্ধতিতে লগইন করার পর 'Address Update' সেকশনে গিয়ে 'Head of Family (HOF) Based Address Update' অপশনটি বেছে নিতে হবে।

পরিবারের প্রধানের আধার নম্বর প্রবেশ করাতে হবে এবং তাঁর সাথে সম্পর্কের প্রমাণপত্র (যেমন রেশন কার্ড, বিয়ের কার্ড বা জন্ম সনদ) আপলোড করতে হবে।

এরপর পরিবারের প্রধানের মোবাইলে একটি ওটিপি বা সম্মতির নোটিফিকেশন যাবে। তিনি ৩০ দিনের মধ্যে সম্মতি জানালেই আবেদনটি পরবর্তী ধাপের জন্য মঞ্জুর হবে।

৩. অফলাইন পদ্ধতি: আধার সেবা কেন্দ্রে গিয়ে ঠিকানা পরিবর্তন

যাঁদের আধারের সাথে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করা নেই কিংবা অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহারে সমস্যা হয়, তাঁরা অফলাইনে আবেদন করতে পারেন:

  • নিকটস্থ আধার সেবা কেন্দ্র বা আধার এনরোলমেন্ট সেন্টারে যান।
  • সেখান থেকে 'Aadhaar Correction/Update Form' সংগ্রহ করে তা সঠিকভাবে পূরণ করুন।
  • নতুন ঠিকানার প্রমাণপত্রের মূল কপি ও জেরক্স সাথে নিয়ে যান। কেন্দ্রের প্রতিনিধি আপনার নথিপত্র এবং বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করবেন।
  • নির্ধারিত ফি জমা দিলে আপনাকে একটি আপডেট রিকোয়েস্ট নম্বর (URN) সহ একটি স্লিপ দেওয়া হবে।

৪. ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও জরুরি টিপস

ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের জন্য নথি আপলোডের সময় কিছু বিশেষ বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন:

  • গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র: সরকারি ভোটার আইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ বা জলের বিল যা ৩ মাসের বেশি পুরনো নয়), ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট বা পাসপোর্ট।
  • পিন কোডের সঠিকতা: নতুন ঠিকানার পিন কোড দেওয়ার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকুন, কারণ এই পিন কোডের ওপর ভিত্তি করেই আপনার পোস্ট অফিস নির্ধারিত হয়।
  • সময়সীমা: আবেদন সফলভাবে জমা হওয়ার পর সাধারণত ৭ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নতুন ঠিকানা আধারের তথ্যভাণ্ডারে হালনাগাদ হয়ে যায়। কাজ সম্পন্ন হলে আপনি অনলাইন থেকে ডিজিটাল ই-আধার (e-Aadhaar) ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

আধার কার্ডে সঠিক ঠিকানা বজায় রাখা প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অনলাইন পোর্টালের সুবিধায় এখন এই কাজ অত্যন্ত সহজ ও সুবিধাজনক। কোনো ভুল ছাড়াই প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রেখে আজই আপনার আধার কার্ডের তথ্য আপডেট করে নিন।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More