Why do humans have chins: ৪০০ কোটি বছরের বিবর্তন! চিবুক থেকে শুক্রাশয়ের আকার—মানবদেহের এই রহস্যগুলির উত্তর আজও অজানা
Human evolution body mysteries: বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী ও গবেষকরা মানবদেহের দুটি সুনির্দিষ্ট অঙ্গের বিবর্তন নিয়ে গভীর রহস্যের মুখোমুখি হয়েছেন—যার একটি হলো পুরুষের স্তনগ্রন্থি বা শুক্রাশয়ের (Testicles) আকার এবং অন্যটি আমাদের মুখের চিবুক বা থুতনি (Chin)।
Primate testicle size evolution: মানবদেহের গঠন এক অলৌকিক এবং জটিল প্রকৌশল। আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষ, অঙ্গ, মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে হাত-পা—সবকিছুর পেছনেই লুকিয়ে রয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি বছরের বিবর্তনের এক সুবিশাল ইতিহাস। ধাপে ধাপে, এক একটি প্রজাতি থেকে রূপান্তরিত হতে হতে আজ আমরা আধুনিক মানুষ বা ‘হোমো স্যাপিয়েন্স’ (Homo sapiens)-এ পরিণত হয়েছি। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এই ২০২৬ সালেও বিজ্ঞানীদের মনে মানবদেহের কিছু অঙ্গের গঠন নিয়ে মস্ত বড় ধাঁধা রয়ে গেছে।

বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী ও গবেষকরা মানবদেহের দুটি সুনির্দিষ্ট অঙ্গের বিবর্তন নিয়ে গভীর রহস্যের মুখোমুখি হয়েছেন—যার একটি হলো পুরুষের স্তনগ্রন্থি বা শুক্রাশয়ের (Testicles) আকার এবং অন্যটি আমাদের মুখের চিবুক বা থুতনি (Chin)। বিজ্ঞান কেন আমাদের শরীরের এই অদ্ভুত গঠনগুলোকে সহজে ব্যাখ্যা করতে পারছে না, জেনে নিন।
বিবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকা এবং বংশবৃদ্ধির সুবিধার জন্যই আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের রূপান্তর ঘটে। এই রূপান্তরকে বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা অনেক সময় ‘কনভারজেন্ট ইভোলিউশন’ (Convergent Evolution) বা সমমুখী বিবর্তনের সাহায্য নেন। এর অর্থ হলো, যখন সম্পূর্ণ আলাদা দুটি প্রজাতি একই ধরণের পরিবেশগত চাপের মুখোমুখি হয়ে একই ধরণের অঙ্গ বা বৈশিষ্ট্য বিবর্তিত করে।
শুক্রাশয়ের আকার এবং যৌন জীবনের বিবর্তনীয় রহস্য
কনভারজেন্ট ইভোলিউশনের সাহায্যে মানুষসহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীর শুক্রাশয়ের আকারের বৈচিত্র্য খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। যদি আমরা প্রাইমেট বা বানর জাতীয় প্রজাতির দিকে তাকাই, তবে দেখব শরীরের ওজনের অনুপাতে মানুষের শুক্রাশয়ের আকার একটি গোরিলার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বড়, কিন্তু একটি শিম্পাঞ্জির চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ ছোট!
বিজ্ঞানীরা যখন সমগ্র স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বিবর্তনের ইতিহাস পরীক্ষা করেন, তখন একটি চমৎকার মিল খুঁজে পান। যে সমস্ত প্রজাতি ‘প্রমিসকুয়াস’ (Promiscuous) অর্থাৎ যেখানে একটি স্ত্রী প্রাণীর সাথে একাধিক পুরুষ প্রাণী শারীরিক মিলনে লিপ্ত হয় (যেমন শিম্পাঞ্জি), সেখানে পুরুষদের মধ্যে শুক্রাণুর প্রতিযোগিতা অনেক বেশি থাকে। এই প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য তাদের বড় আকারের শুক্রাশয় এবং বেশি শুক্রাণু উৎপাদনের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, যে সমস্ত প্রজাতি একগামী বা ‘মনোগ্যামাস’ (Monogamous) অর্থাৎ যেখানে একটি নির্দিষ্ট জোড় তৈরি হয় (যেমন গোরিলা), সেখানে এই প্রতিযোগিতা থাকে না, তাই তাদের শুক্রাশয়ের আকারও ছোট হয়। মানুষের অবস্থান ঠিক এর মাঝামাঝি। ফলে বিবর্তনের ইতিহাসে আমাদের পূর্বপুরুষদের সামাজিক ও যৌন জীবন কেমন ছিল, তা এই আকারের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
চিবুক বা থুতনি: বিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাঁধা
শুক্রাশয়ের আকার বিবর্তন দিয়ে বোঝানো গেলেও, মানুষের চিবুক বা থুতনির (Chin) রহস্যের কাছে এসে বিজ্ঞান সম্পূর্ণ থমকে যায়। কারণ, পুরো পৃথিবীর বুকে মানুষই একমাত্র প্রাণী যার চিবুক রয়েছে! এমনকি আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রাচীন আত্মীয় ‘নিয়ানডারথাল’ (Neanderthals)-দেরও কোনো চিবুক ছিল না। গোরিলা বা শিম্পাঞ্জির মুখ নিচের দিকে ভেতরের দিকে ঢুকে যায়, কিন্তু মানুষের নিচের চোয়ালের হাড় বাইরের দিকে কিছুটা বেরিয়ে এসে এই চিবুক গঠন করে।
যেহেতু অন্য কোনো প্রাণীর চিবুক নেই, তাই এখানে ‘কনভারজেন্ট ইভোলিউশন’-এর সূত্র খাটানোর কোনো সুযোগ বিজ্ঞানীদের কাছে নেই। ফলে এটি নিয়ে বিজ্ঞানীরা কেবল কিছু অনুমান বা থিওরিই দিতে পেরেছেন:
১. চোয়ালের শক্তি: প্রাচীনকালে গুহাবাসী মানুষদের শক্ত খাবার চিবিয়ে খাওয়ার সময় নিচের চোয়ালকে অতিরিক্ত চাপ থেকে রক্ষা করতে এই চিবুকের সৃষ্টি হয়েছিল।
২. দাড়ি ও আকর্ষণ: পুরুষদের ঘন ও আকর্ষণীয় দাড়িকে ধরে রাখতে বা সৌন্দর্য প্রকাশে এটি প্রজননগত নির্বাচনের (Sexual Selection) অংশ হতে পারে।
৩. রান্না ও নরম খাবার (বাই-প্রোডাক্ট): মানুষ যখন আগুন আবিষ্কার করে খাবার রান্না করে খাওয়া শুরু করল, তখন শক্ত খাবার চিবানোর প্রয়োজন কমে গেল। এর ফলে আমাদের দাঁত ও চোয়ালের আকৃতি ধীরে ধীরে ছোট হতে শুরু করে। চোয়াল পেছনের দিকে সরে গেলেও সামনের হাড়ের এই অংশটি অবশিষ্টাংশ বা একটি ‘বাই-প্রোডাক্ট’ (By-product) হিসেবে সামনে রয়ে যায়, যা আজ আমাদের চিবুক।
যেহেতু চিবুকের কোনো পরীক্ষামূলক তুলনা করার মতো অন্য কোনো জীবন্ত বা বিলুপ্ত প্রজাতি আমাদের জানা নেই, তাই মানুষের চিবুক কেন তৈরি হয়েছিল তার আসল সত্যটি হয়তো চিরকালই এক রহস্য হয়ে থেকে যাবে। মানব প্রকৃতির এই কিছু অদ্ভুত অঙ্গ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির সব সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নাও থাকতে পারে; কিছু জিনিস স্রেফ বিবর্তনের যাত্রাপথের সুন্দর ভুল বা আকস্মিক ঘটনা মাত্র!
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


