Donald Trump on India-Pak War: ভারত-পাক সংঘাত থামানোর কৃতিত্বে ফের সরব ট্রাম্প, এবার দাবি- ‘১১ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল’

ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থামাতে তাঁরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। একইসঙ্গে এবার তাঁর নতুন দাবি, ওই সংঘর্ষে মোট ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, তা সহজেই পরমাণু যুদ্ধে রূপ নিতে পারত।

Published on: Jul 9, 2026, 08:40:11 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Donald Trump on India-Pak War: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা শেষ হওয়ার পর ফের একবার ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আবারও দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থামাতে তাঁরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। একইসঙ্গে এবার তাঁর নতুন দাবি, ওই সংঘর্ষে মোট ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, তা সহজেই পরমাণু যুদ্ধে রূপ নিতে পারত।

ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থামাতে তাঁরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থামাতে তাঁরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন নয়। গত কয়েক মাস ধরে তিনি একাধিকবার দাবি করে আসছেন যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত বন্ধ করতে তাঁর প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগই কার্যকর হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছিল এবং তা পরমাণু সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে যুদ্ধ থামাতে সক্ষম হয়।

তবে ট্রাম্পের দাবি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সংঘর্ষে কতগুলি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল, তা নিয়ে তাঁর বক্তব্যে বারবার পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি বলেছিলেন, পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। পরে সেই সংখ্যা বেড়ে সাত হয়। নভেম্বরে তিনি দাবি করেন, আটটি বিমান ধ্বংস হয়েছিল। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংখ্যাটি বাড়িয়ে ১০ করেন। আর এবার তিনি বলেছেন, ভারত-পাক সংঘর্ষে মোট ১১টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল।

শুধু তাই নয়, ট্রাম্প অতীতের মতো এবারও দাবি করেছেন, বাণিজ্য ও শুল্ককে কূটনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও পাকিস্তান যদি যুদ্ধ বন্ধ না করত, তাহলে তিনি দুই দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এগোতে দিতেন না। এমনকি তিনি দাবি করেন, উভয় দেশের উপর ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

তবে ভারতের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। নয়াদিল্লি একাধিকবার জানিয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি সম্পূর্ণভাবে দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের আলোচনার ফল। এই প্রক্রিয়ায় কোনও তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতা ছিল না। ভারত সরকার আরও জানায়, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কোনও ফোনালাপ হয়নি। যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে, তিনি সরাসরি মোদীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের হামলায় ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন। ওই হামলার জবাবে ৬ মে গভীর রাতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে-সহ মোট নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায়। ভারতের দাবি, ওই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছিল।

এরপর পাকিস্তানের তরফে সীমান্তে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা শুরু হয়। পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। ১০ মে ভোরে ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে সেগুলিকে কার্যত অচল করে দেয় বলে ভারত দাবি করে।

ভারতের দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালীন পাকিস্তানের এফ-১৬ ও জেএফ-১৭-সহ একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়। পাশাপাশি একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহণ বিমান এবং দূরপাল্লার একটি এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C) বা সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স (SIGINT) বিমানও ধ্বংস করা হয়েছিল। পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, হ্যাঙ্গার ও রানওয়েতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে ভারতের দাবি।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য ফের আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তবে তাঁর দাবি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার তাদের আগের অবস্থানই বজায় রেখেছে এবং স্পষ্ট জানিয়েছে, সংঘর্ষবিরতি কিংবা সামরিক অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মেলে না।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More