IAF Chief: চিন-পাকের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নিয়ে উদ্বেগ, পাল্টা ১১৪ রাফাল ও AAMCA-র দিকে নজর ভারতের
চিন ও পাকিস্তানের যৌথ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ যে রয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিংহ। তবে একই সঙ্গে তাঁর দাবি, শুধু আধুনিক যুদ্ধবিমান হাতে থাকলেই যুদ্ধের ফল বদলে যায় না।
এক দিকে চিনের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, অন্য দিকে পাকিস্তানেরও সেই বিমান হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা। দুই দেশের যৌথ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ যে রয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিংহ। তবে একই সঙ্গে তাঁর দাবি, শুধু আধুনিক যুদ্ধবিমান হাতে থাকলেই যুদ্ধের ফল বদলে যায় না। আসল বিষয় হল বিমানটি অন্য অস্ত্র, সেনা এবং নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা ভালো ভাবে যুক্ত করা যাচ্ছে। সেই জায়গাতেই পাকিস্তান এখনও তেমন কিছু করে উঠতে পারেনি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি পাকিস্তান চিনের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের জে ৩৫ যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বলে খবর ছড়িয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের কয়েক জন পাইলট চিনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলেও রিপোর্ট এসেছে। এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগের কারণ বলে মানলেও এ পি সিংহ জানিয়েছেন, এটিকে ভারতের পক্ষে অচলাবস্থা বলা যায় না। তাঁর বক্তব্য, ভারতের হাতে ইতিমধ্যেই এমন ক্ষমতা রয়েছে যা দিয়ে এই ধরনের হুমকির মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে তার জন্য নিজেদের বিভিন্ন যুদ্ধ ব্যবস্থা দ্রুত এবং কার্যকর ভাবে একসঙ্গে কাজ করার উপযোগী করে তুলতে হবে।
অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গ তুলে বায়ুসেনা প্রধান আরও বলেন, পাকিস্তানের হাতে আগেও বেশ কিছু আধুনিক যুদ্ধবিমান ছিল। কিন্তু সেগুলিকে কাজে লাগিয়েও তারা ভারতের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেনি। তাঁর কথায়, নতুন বিমান কেনার পাশাপাশি সেই বিমানকে গোটা সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করাটাই বড় বিষয়। পাকিস্তান যদি নতুন যুদ্ধবিমান হাতে পায়ও, সেগুলিকে নিজেদের ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত করতে সময় লাগবে বলেই মনে করছে ভারতীয় বায়ুসেনা।
এই কারণেই দেশে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এএমসিএ প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন এ পি সিংহ। তবে সেই প্রকল্পে দেরি হলে শুধু দেশীয় বিমানের জন্য অপেক্ষা করে থাকতে নারাজ বায়ুসেনা। প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেনার কথাও ভাবা হতে পারে। রাশিয়া ইতিমধ্যেই ভারতকে এসইউ ৫৭ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বায়ুসেনা প্রধান।
এরই মধ্যে ফরাসি রাফাল কেনার প্রক্রিয়াও দ্রুত এগোতে পারে। ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব নিয়ে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে দামের পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছু এগোলে চলতি আর্থিক বছরের মধ্যেই চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন এ পি সিংহ। এই প্রকল্পের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। চুক্তি হলে বায়ুসেনা ও নৌবাহিনী মিলিয়ে ভারতের হাতে থাকা মোট রাফালের সংখ্যা ১৭৬-এ পৌঁছবে।
কারণটা স্পষ্ট। বর্তমানে বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের সংখ্যা অনুমোদিত ৪২টির তুলনায় অনেক কম, প্রায় ৩০টি। তাই আগামী কয়েক বছরে প্রতি বছর অন্তত ৩৬ থেকে ৪০টি নতুন যুদ্ধবিমান হাতে পাওয়ার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বায়ুসেনা প্রধান। রাফাল, তেজস এবং ভবিষ্যতের এএমসিএ মিলিয়েই সেই ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি এআই নির্ভর যুদ্ধক্ষমতা এবং দেশেই যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন তৈরির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
অর্থাৎ বার্তা একটাই, চিন-পাকিস্তানের আকাশে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নামলেও ভারত প্রস্তুতিতে পিছিয়ে থাকতে চায় না। দ্রুত রাফাল, তেজস, এএমসিএ এবং শক্তিশালী সমন্বিত যুদ্ধব্যবস্থার উপর ভর করে আকাশে নিজেদের সুবিধা ধরে রাখাই এখন নয়াদিল্লির লক্ষ্য।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


