IAF Sukhoi Fighter Jet Crash: ভারতীয় বায়ুসেনার 'হারিয়ে যাওয়া' সুখোইয়ের ধ্বংসাবশেষ মিলল অসমের কার্বি আংলংয়ে

সুখোই যুদ্ধবিমানটি অসমের জোরহাট থেকে আকাশে উড়েছিল। সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটের দিকে রাডার এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সেই সুখোইয়ের। ভারতীয় বিমান বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুসারে, বিমানটি জোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং অঞ্চলে ভেঙে পড়েছে।

Published on: Mar 06, 2026 7:21 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

গত ৫ মার্চ ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সুখোই সু-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান 'হারিয়ে যায়' বলে জানা যায়। ৫ মার্চ রাতে অসমের কার্বি আংলং জেলায় সেই যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিমানটি রুটিন ট্রেনিং মিশনে ছিল। ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়েছে, বিমানটি অসমের জোরহাট থেকে আকাশে উড়েছিল। সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটের দিকে রাডার এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সেই সুখোইয়ের। ভারতীয় বিমান বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুসারে, বিমানটি জোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং অঞ্চলে ভেঙে পড়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের প্রাথমিক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে বিমানটি সময়মতো জোরহাটে ফিরে আসেনি। এই আবহে তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি চালিয়ে সেই যুদ্ধবিমানটিকে চিহ্নিত করা হয়।

অসমের কার্বি আংলং জেলায় ভেঙে পড়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান (PTI)
অসমের কার্বি আংলং জেলায় ভেঙে পড়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান (PTI)

ভারতীয় বায়ুসেনায় সুখোই সু-৩০এমকেআই

বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর 'মেরুদণ্ড' হিসেবে বিবেচিত সুখোই সু-৩০এমকেআই। 'সুখোই' ছাড়া আধুনিক ভারতীয় বায়ুসেনা কল্পনা করা যায় না। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ভারতীয় বিমান বাহিনী একটি ভারী এবং দূরপাল্লার যুদ্ধবিমানের সন্ধান করছিল। এই আবহে ১৯৯৬ সালে ৩০ নভেম্বর ভারত ৫০টি সুখোই-৩০ বিমান কেনার জন্য রাশিয়ার সাথে ১.৪৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভারত অবশ্য শুধুমাত্র সাধারণ মানের সুখোই চায়নি, বরং নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে উন্নত মানের একটি বিমান চাইছিল। এই আবহেই 'সু-৩০এমকেআই'-এর 'জন্ম'। রুশ ভাষায় 'এমকেআই' শব্দের অর্থ 'ডার্নিজিরোভনি কোমারচেস্কি ইন্ডিস্কি', অর্থাৎ 'আধুনিক পেশাদার ভারতীয়' সংস্করণ। এই বিমানটি দুই আসনের যুদ্ধবিমান। এটি মূলত রাশিয়ার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'সুখোই' তৈরি করেছে।

বর্তমানে, ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে ২০০টিরও বেশি সু-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান রয়েছে। সুখোই সু-৩০এমকেআই বিশ্বের একমাত্র যুদ্ধবিমান যা আকাশ থেকে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র 'ব্রহ্মোস' নিক্ষেপ করতে পারে। এর জন্য বিমানের কাঠামোতে বিশেষ পরিবর্তন এনেছে হ্যাল। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, সুখোইয়ে ভারতের দেশীয় 'অ্যাস্ট্রা' বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (বিভিআর) এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রও সজ্জিত করা হয়েছে। এয়ার-টু-এয়ার শ্যুটিংয়ে এই অস্ত্রটি আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে সুখোইকে। বর্তমানে, ভারতীয় বায়ুসেনার অধিকাংশ সু-৩০এমকেআই বিমানের বহর চিন এবং পাকিস্তান সীমান্তের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত বর্তমানে সুখোই বহরকে 'সুপার সুখোই' মানের করার জন্য একটি বড় প্রকল্পের ওপর কাজ করছে। এর আওতায় বিমানগুলিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি 'উত্তম' এইএসএ রাডার, নতুন বৈদ্যুতিন যুদ্ধ স্যুট এবং আধুনিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা লাগানো হবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More