IBM share price: এক ধাক্কায় ২৫% পতন! IBM-র শেয়ারে ঐতিহাসিক ধস, নেপথ্যে সিইও-র কোন গোপন বার্তা?
IBM share price: বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬১ সালের পর থেকে আইবিএম-এর ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় বিপর্যয়ের দিন হতে চলেছে। এর আগে ১৯৮৭ সালের অক্টোবরের এক সেশনে ২৩ শতাংশ দর হারিয়েছিল এই সংস্থা।
IBM share price: বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তি বাজারের অন্যতম শীর্ষ জায়ান্ট আইবিএম-এর ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে আচমকাই বড়সড়ো ধাক্কা লাগল। প্রি-আর্নিংস বা ত্রৈমাসিক আয়ের রিপোর্ট প্রকাশের আগেই খোদ সংস্থার তরফ থেকে এক অপ্রত্যাশিত সতর্কবার্তা আসতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল আইবিএম-এর শেয়ার দর। সংস্থার সতর্কবার্তার পরই মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই আইবিএম-এর বাজারমূল্য থেকে ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি (প্রায় ৫০ বিলিয়ন পাউন্ড) মুছে যায়। শেয়ার দর ২৫ শতাংশেরও বেশি পড়ে যাওয়ার পর সংস্থাটি ১৯৬৮ সালের পর ইতিহাসে এক দিনের সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে রেকর্ড গড়ল।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬১ সালের পর থেকে আইবিএম-এর ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় বিপর্যয়ের দিন হতে চলেছে। এর আগে ১৯৮৭ সালের অক্টোবরের এক সেশনে ২৩ শতাংশ দর হারিয়েছিল এই সংস্থা। আইবিএম জানিয়েছে, অনেক গ্রাহক এখন সফটওয়্যার ও কনসাল্টিং পরিষেবায় ব্যয় কমিয়ে এআই পরিকাঠামো, বিশেষ করে সার্ভার, স্টোরেজ ও মেমোরি কেনার দিকে মূলধনী বিনিয়োগ (ক্যাপেক্স) সরিয়ে নিচ্ছেন। সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তাঁরা আগেভাগেই এসব পরিকাঠামো নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। আইবিএম-এর সিইও অরবিন্দ কৃষ্ণ বলেন, জুন মাসের শেষ কয়েক সপ্তাহে গ্রাহকদের ব্যয়ের ধরন অপ্রত্যাশিতভাবে বদলে যায়। সরবরাহ শৃঙ্খল-সংক্রান্ত কিছু প্রভাবের আশঙ্কা থাকলেও মূলধনী ব্যয়ের এত বড় পুনর্বিন্যাস তাঁরা অনুমান করতে পারেননি।
তিনি স্বীকার করেন, এই প্রান্তিকে সংস্থা ‘হোঁচট খেয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে আইবিএম যথেষ্ট দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারেনি এবং প্রত্যাশিত সময়ে অনেক বড় চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায় ফলাফলে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।’ আইবিএম-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সংস্থার রাজস্ব হবে ১৭.২ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ১৭.৯ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে সংস্থার মুনাফাও কার্যত স্থির রয়েছে। আইবিএম-এর দুর্বল পূর্বাভাসের প্রভাব শুধু সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ওয়াল স্ট্রিটে সফটওয়্যার খাতের অন্যান্য শেয়ারেও বিক্রির চাপ দেখা যায়। ওরাকল, অ্যাকসেঞ্চার, মাইক্রোসফট ও সেলসফোর্সের শেয়ার দর কমে যায়। একইসঙ্গে ব্রিটেনের রেলএক্স, সেইজ এবং লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের শেয়ারও নিম্নমুখী হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তিতে নজিরবিহীন বিনিয়োগের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের ব্যয়ের ধরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মেটা, অ্যালফাবেট ও মাইক্রোসফটের মতো এআই হাইপারস্কেলার প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি বছর মূলধনী বিনিয়োগ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করছে, যা সফটওয়্যার শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে হোয়াইট হাউসে আইবিএম-এর সিইও অরবিন্দ কৃষ্ণের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রশংসা করেছিলেন। তবে এবার এআইকে ঘিরে বিনিয়োগের নতুন বাস্তবতায় আইবিএম-কে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন বাজার ধাক্কার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে টেক দুনিয়ার এই হেভিওয়েটের এমন আকস্মিক পতন বিশ্ব শেয়ার বাজারেও বড় কম্পন সৃষ্টি করেছে।
E-Paper

