২৭ বছর ধরে মার্কিন মুলুকে বাস! গ্রিনকার্ডধারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলাকে আটক ICE-র

Indian-Origin Grandma Detained: ইমিগ্রেশন আদালতে মামলা চলাকালীন তিনি প্রতিবার নিয়ম মেনে আইস কার্যালয়ে হাজিরা দেন এবং শারীরিক অসুস্থতার মেডিকেল প্রমাণ জমা দেন। অবশেষে একটি মার্কিন ইমিগ্রেশন আদালত ভেঙ্কটা ভাসামসেটির পক্ষে রায় দেয়।

Published on: Aug 18, 2026, 19:38:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Indian-Origin Grandma Detained: মার্কিন মুলুকে ফের আটক ভারতীয় বংশোদ্ভূত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে টানা ২৭ বছর ধরে বসবাস এবং দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে গ্রিনকার্ড থাকার করার পরও এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষক তথা দিদাকে আটক করল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। আটক হাওয়া ওই ভারতীয় বংশোদ্ভূতের নাম ভেঙ্কটা ভাসামসেটি। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে প্রবাসী অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, কারণ তার নিজের মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেটি একজন পেশাদার অভিবাসন আইনজীবী।

গ্রিনকার্ডধারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলাকে আটক ICE-র (সৌজন্যে টুইটার)
গ্রিনকার্ডধারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলাকে আটক ICE-র (সৌজন্যে টুইটার)

ঘটনার সূত্রপাত

উত্তর ক্যারোলিনার ওয়েক কাউন্টি পাবলিক স্কুল সিস্টেমের শিক্ষিকা ভেঙ্কটা ভাসামসেটি গত ৩০ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সেখানে তাঁর নিজের বাড়ি রয়েছে এবং তার সন্তান ও নাতনিরা সবাই মার্কিন নাগরিক। তাঁর বিরুদ্ধে কখনও কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড, এমনকী ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের (স্পিডিং টিকিট) অভিযোগও ছিল না। ২০২২ সালের জুলাই মাসে ভারতে তাঁর অসুস্থ বাবাকে দেখতে যান ভেঙ্কটা। এ দেশে থাকাকালীন নভেম্বরে তিনি মারাত্মকভাবে কোভিডে (COVID-19) আক্রান্ত হন এবং প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। ফলে তিনি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি-প্রায় সাত মাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলে রেলি-ডারহাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে আটকানো হয়। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) দাবি করে, ছয় মাসের বেশি বিদেশে থাকার কারণে তিনি গ্রিনকার্ডের স্থায়ী বসবাসের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন এবং স্থায়ী বাসস্থান পরিত্যাগের ইচ্ছা প্রদর্শন করেছেন।

আদালতের নির্দেশ বনাম আইস-এর পদক্ষেপ

ইমিগ্রেশন আদালতে মামলা চলাকালীন তিনি প্রতিবার নিয়ম মেনে আইস কার্যালয়ে হাজিরা দেন এবং শারীরিক অসুস্থতার মেডিকেল প্রমাণ জমা দেন। অবশেষে একটি মার্কিন ইমিগ্রেশন আদালত ভেঙ্কটার পক্ষে রায় দেয়। আদালত জানায়, ডিএইচএস কোনও স্পষ্ট বা যুক্তিযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি যে তিনি স্থায়ী বাসস্থান ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। গত ১৯ মে, ২০২৬ তারিখে আদালতের আদেশে তাঁর বরখাস্ত প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়।

আদালতের রায়ের পর গত ১১ আগস্ট নিয়মিত রুটিন চেক-আপের অংশ হিসেবে তিনি আইস কার্যালয়ে গেলে তাঁকে কোনও পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হ্যান্ডকাফ পরিয়ে জর্জিয়ার আরউইন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় ওই সংস্থা। আটক করার পরদিন পর্যন্ত আইস নতুন কোনও লিগ্যাল নোটিশ জারি করেনি। তিনি গুরুতর ডায়াবেটিস রোগী হলেও সঙ্গে ইনসুলিন বা প্রয়োজনীয় ওষুধ নেওয়ার কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। ভেঙ্কটার মেয়ের বান্ধবী জো জুই উইলসন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখেছেন, 'যদি একজন আইনজীবীর মায়ের সঙ্গেই এমন হতে পারে, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে? বৈধ স্ট্যাটাস, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকার পরও যদি কাউকে এভাবে আটকে রাখা যায়, তবে এটি যে কোনও অভিবাসীর জন্যই ভীতিকর।' বর্তমানে তাঁর পরিবার তাকে মুক্ত করতে 'Free Venkata' নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নাগরিক প্রচারণা ও পিটিশন শুরু করেছে।