India GDP Growth: 'আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ!' জিডিপি ইস্যুতে কেন্দ্রের পাশে দাঁড়াল IMF
India GDP Growth: ২০২৬ সালে ভারতের জিডিপির বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক হিসাবের নতুন সিরিজ প্রকাশ করেছে। সেখানে ভিত্তিবছর ২০১১-১২ থেকে বদলে ২০২২-২৩ করা হয়েছে।
India GDP Growth: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই জিডিপি বিতর্কে বড়সড় ধাক্কা খেল দেশের বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের নতুন জিডিপি (GDP) গণনা পদ্ধতিতে সায় দিল ‘আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার’ বা আইএমএফ (ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড)। আইএমএফ-এর বক্তব্য, জিডিপি মাপার পদ্ধতিতে সংশোধন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সেরা পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। প্রত্যাশার তুলনায় বেশি এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পরই আগের বছরের হিসাব সংশোধন এবং বৃদ্ধির হার নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মাস ঘুরতেই যা নিয়ে মুখ খুললেন আইএমএফ-এর এশিয়া-প্যাসিফিক দফতরের ডিরেক্টর কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের পরিসংখ্যান পদ্ধতিতে সংশোধন তাদের পরিসংখ্যান বিভাগের দেওয়া পরামর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, ‘মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হিসাবের জন্য নয়াদিল্লি যে সংশোধিত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, সেটা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ জিডিপির ভিত্তিবছর বদলকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। দেশের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের মানোন্নয়নে পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের (MoSPI) উদ্যোগের প্রশংসা করলেও, এই ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীনিবাসন।
ভারতের জিডিপি গণনা পদ্ধতিকে কেন সমর্থন করছে আইএমএফ?
২০২৬ সালে ভারতের জিডিপির বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক হিসাবের নতুন সিরিজ প্রকাশ করেছে। সেখানে ভিত্তিবছর ২০১১-১২ থেকে বদলে ২০২২-২৩ করা হয়েছে। অর্থনীতির কাঠামো, মানুষের খরচের ধরন এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে পরিবর্তনের সঙ্গে হিসাবকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভিত্তিবছর বদলানো হয়। নতুন সিরিজে উৎপাদন ক্ষেত্রের হিসাব এবং মূল্যসূচক ব্যবহারের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। উৎপাদনের প্রকৃত বৃদ্ধি মাপতে পণ্য ও পরিষেবার দামের ওঠানামা কী ভাবে হিসাব করা হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন ক্ষেত্রে ‘ডাবল ডিফ্লেশন’ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত পণ্যের দাম এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণের দামের পরিবর্তন আলাদা করে হিসাব করা যায়। এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাদ দিয়ে উৎপাদনের প্রকৃত পরিবর্তন নির্ণয়ে সুবিধা হয়।
৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার নিয়ে প্রশ্ন কেন?
প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আগের ৭ শতাংশের পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে যায়। এর পরেই সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিস্ফোরক দাবি করে বসেন প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ। তিনি বলেন, মাত্র ২.৬ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে জিডিপি। তা সত্ত্বেও ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হার বার করতে ভিত্তিবর্ষ বদল করেছে কেন্দ্র। আগে ২০১১-’১২ ভিত্তিবর্ষের উপর জিডিপি নির্ধারণ করা হচ্ছিল। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেটাই বদলে ২০২২-’২৩ করে কেন্দ্র। যার জেরে এর অঙ্ক বেশি মনে হচ্ছে।’
অন্যদিকে, কেন্দ্রের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন তাঁর পদ্ধতিকে ‘তথ্য বেছে নেওয়া’ বা ‘চেরি-পিকিং’ বলে সমালোচনা করেন। সরকারের বক্তব্য, নতুন পদ্ধতি ও সংশোধিত তথ্যের ভিত্তিতেই হিসাব বদলেছে। বলা বাহুল্য, এ-হেন পরিস্থিতিতে আইএমএফ কর্তার সাম্প্রতিকতম মন্তব্যে যথেষ্ট স্বস্তিতে সরকার। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, বিশ্বব্যাপী খনিজ তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সত্ত্বেও অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে ভারত। পরিষেবা ও রফতানিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ইতিবাচক ফলাফল করেছে তারা।
E-Paper

