Kashmir Terrorism New Tech Update: মোবাইল নয়, এবার ‘লোরার’ জাল! কাশ্মীরে জঙ্গিদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন বিপদ

এবার মোবাইল ফোন, সিম বা টাওয়ারের উপর ভরসা না করেই যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গিরা। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে এমন এক আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার নাম 'লোরা'। দীর্ঘ দূরত্বে কম শক্তিতে বার্তা পাঠাতে পারে এই প্রযুক্তি।

Published on: Oct 5, 2026, 08:46:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ। এবার মোবাইল ফোন, সিম বা টাওয়ারের উপর ভরসা না করেই যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গিরা। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে এমন এক আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার নাম 'লোরা'। দীর্ঘ দূরত্বে কম শক্তিতে বার্তা পাঠাতে পারে এই প্রযুক্তি। সবচেয়ে বড় কথা, এর জন্য সিম কার্ড, মোবাইল টাওয়ার বা ওয়াইফাইয়ের প্রয়োজন হয় না। ফলে প্রচলিত নজরদারি ব্যবস্থার বাইরে থেকেই যোগাযোগ চালানোর সুযোগ পাচ্ছে জঙ্গিরা।

এবার মোবাইল ফোন, সিম বা টাওয়ারের উপর ভরসা না করেই যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গিরা। (ANI Video Grab)
এবার মোবাইল ফোন, সিম বা টাওয়ারের উপর ভরসা না করেই যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গিরা। (ANI Video Grab)

৯ সেপ্টেম্বর বাডগামে বড়সড় অভিযানের সময় বিষয়টি সামনে আসে। গুরুতর সংঘর্ষে লস্কর-ই-তইবার এক গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি কমান্ডার মহম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা ফৌজি নিহত হয়। তার দেহের কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি কালো রঙের লোরা আল্ট্রা ডিভাইস। এরপরই নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বুঝতে পারে, কাশ্মীরে জঙ্গিদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বদল এসেছে।

কী এই লোরা?

লোরা শব্দটির অর্থ লং রেঞ্জ, লো পাওয়ার। কম শক্তিতে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগ করাই এর মূল বৈশিষ্ট্য। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, কাশ্মীরের জঙ্গল বা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই ডিভাইস প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত তথ্য পাঠাতে পারে। শুধু বার্তা নয়, জিপিএস তথ্য এবং জরুরি সংকেতও পাঠানো সম্ভব।

আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হল, এই ডিভাইসগুলি নিজেদের মধ্যেই একটি জাল তৈরি করতে পারে। একটি যন্ত্র অন্যটির বার্তা এগিয়ে দেয়। ফলে কোনও একটি মোবাইল টাওয়ারের উপর নির্ভর করতে হয় না। প্রতিটি ডিভাইস যেন নিজেরাই ছোট একটি যোগাযোগ কেন্দ্রের কাজ করতে পারে। এভাবেই জঙ্গিরা জঙ্গলের গভীরে নিজেদের একটি ব্যক্তিগত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করছে বলে দাবি নিরাপত্তা আধিকারিকদের।

পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

আরও উদ্বেগের বিষয়, এনডিটিভির প্রতিবেদনে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জঙ্গিরা একে অপরের সঙ্গে এবং পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অর্থাৎ মোবাইল নেটওয়ার্ক এড়িয়েই সীমান্তের ওপারে বার্তা পৌঁছনোর চেষ্টা হয়েছে।

অপারেশন মহাদেবের সময় দাচিগাম ও পাহেলগাঁওয়ের দুর্গম এলাকায় একাধিক এনক্রিপ্টেড লোরা ডিভাইস এবং সিমবিহীন ফোন উদ্ধার হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, কাশ্মীরে জঙ্গিদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গোপনীয় করে তুলতেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

চিনের প্রযুক্তির যোগ?

এখানেই সামনে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি। নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলি স্থানীয় ভাবে তৈরি নয়। এগুলি আগে থেকেই কনফিগার করা এবং এনক্রিপ্ট করা অবস্থায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে নিরাপত্তা সূত্র চিনের প্রযুক্তির সঙ্গে এই যোগাযোগ ব্যবস্থার যোগের কথাও বলেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের তরফে জঙ্গিদের সাহায্য এবং চিনের প্রযুক্তিগত সহায়তার একটি সম্ভাব্য যোগসূত্রের দাবি করা হয়েছে। ত

নজরদারির কৌশলও বদলাচ্ছে

নতুন এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীও নিজেদের প্রস্তুতি বদলাচ্ছে। দক্ষিণ কাশ্মীরের জঙ্গল এলাকায় লোরা ফ্রিকোয়েন্সি ধরতে স্পেকট্রাম স্ক্যানার এবং জ্যামার নতুন করে সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র। অর্থাৎ এতদিন যেখানে সন্দেহজনক সিম, ফোন নম্বর বা মোবাইল টাওয়ারের গতিবিধির উপর নজর রাখা হত, এখন সেখানে নীরব রেডিও সংকেতও খুঁজতে হচ্ছে।

কাশ্মীরে জঙ্গি দমনের লড়াই তাই আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। একদিকে জঙ্গিরা নিজেদের উপস্থিতি লুকিয়ে যোগাযোগের নতুন রাস্তা খুঁজছে, অন্যদিকে সেই গোপন যোগাযোগের জাল ভাঙতে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। মোবাইলের যুগ পেরিয়ে জঙ্গিদের যোগাযোগ এখন যদি সত্যিই লোরার মতো অফগ্রিড প্রযুক্তিতে চলে যায়, তা হলে কাশ্মীরের জঙ্গলযুদ্ধে প্রযুক্তির লড়াইটাও যে আরও কঠিন হবে, তা স্পষ্ট।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More