IND-NZ T20 Series: তিলক বর্মার অনবদ্য ফিনিশিং! টপ অর্ডারের ধস সামলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয় ভারতের
IND-NZ T20 Series: শুরুতেই বল হাতে কিউয়ি টপ অর্ডারকে চেপে ধরে ভারত। অর্শদীপ সিং (টিম সেইফার্ট), ভুবনেশ্বর কুমার (ডারিল মিচেল) ও প্রিন্স যাদব (ফিন অ্যালেন) দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ১০ ওভারে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ৩ উইকেটে ৬৬-তে আটকে রাখেন।
IND-NZ T20 Series: প্রথম ম্যাচে রেকর্ড রান তাড়া করে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও জয়ের একই ধারায় বজায় রাখল ভারত। শনিবার নিউজিল্যান্ডকে রোমাঞ্চকর ম্যাচে হারিয়ে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ‘মেন ইন ব্লু।’ তবে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় এক সময় চরম বিপদে পড়েছিল টিম ইন্ডিয়া। শেষ পর্যন্ত দলের উদ্ধারকর্তা হয়ে নামেন ফিনিশার তিলক বর্মা, নমন ধীর ও নীতীশ কুমার রেড্ডি। তাঁদের ‘ত্রিফলা’ ব্যাটিং আক্রমণের ওপর ভর করেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ভারত।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত ভারতের
এদিনও টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। চোটের কারণে ঈশান কিষান বাদ পড়ায় একাদশে সুযোগ পান বৈভব সূর্যবংশী এবং ময়াঙ্ক যাদবের জায়গায় রুটিন রোটেশনে আসেন প্রিন্স যাদব। শুরুতেই বল হাতে কিউয়ি টপ অর্ডারকে চেপে ধরে ভারত। অর্শদীপ সিং (টিম সেইফার্ট), ভুবনেশ্বর কুমার (ডারিল মিচেল) ও প্রিন্স যাদব (ফিন অ্যালেন) দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ১০ ওভারে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ৩ উইকেটে ৬৬-তে আটকে রাখেন। তবে এর পরেই ক্রিজে সেট হয়ে তাণ্ডব শুরু করেন গ্লেন ফিলিপ্স ও জেকবস। ফিলিপ্স ৪৩ বলে দুর্দান্ত ৭০ রানের ইনিংস খেলেন এবং জেকবসকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৭৭ বলে ১১৬ রানের বিশাল পার্টনারশিপ গেন। অর্শদীপ শেষ দিকে ফিলিপ্সকে ফেরাতে সক্ষম হলেও নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় কিউয়িরা। ভারতের হয়ে অর্শদীপ ২টি এবং প্রিন্স যাদব ও নীতীশ রেড্ডি ১টি করে উইকেট নেন।
শনিবার ম্যাচে ব্যক্তিগত নজির গড়েন বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ সিং। এক ক্যালেন্ডার বছরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড এখন তাঁর দখলে। ২০২২ সালে ভুবনেশ্বর কুমার ৩২টি ম্যাচে ৩৭টি উইকেট নিয়েছিলেন। এদিন সেইফার্ট ও ফিলিপ্সকে আউট করে চলতি বছরে মাত্র ২৯ ম্যাচে অর্শদীপের উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ৩৮।
তিলক ভার্মার অবিশ্বাস্য ব্যাটিং
ক্রাইস্ট চার্চে ১৮১ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত চার ওভার শেষে ৩৭/০ পেলেও সঞ্জু স্যামসন (১৪) আউট হতেই ভেঙে পড়ে টপ অর্ডার। ১০৮ দিন পর গৌতম গম্ভীরের দলে প্রত্যাবর্তন ঘটানো তরুণ বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর অভিষেক শর্মা (২৭) আউট হওয়ার পর মিচেল স্যান্টনারের এক ভেলকিতে এক ওভারেই সাজঘরে ফেরেন শ্রেয়স আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেল। ১১ ওভারে মাত্র ৭১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে চলে যায় ভারত। উপস্থিত দর্শকরাও ধরে নিয়েছিলেন ভারত হয়তো হেরে যাবে। কেউই প্রত্যাশা করেননি তিলক বর্মা প্রত্যাঘাত হানবেন। তবে বিপদের মুখে প্রথম পাল্টা লড়াই শুরু করেন নমন ধীর। মাত্র ১৭ বলে ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ভারতকে লড়াইয়ে রাখেন তিনি। নমন আউট হওয়ার পর আটে নামা নীতীশ কুমার রেড্ডি (১৩ বলে অপরাজিত ২৬) ও তিলক বর্মা দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান। তিলক ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রানের অনবদ্য হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ১৩ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন নীতীশ রেড্ডিও। স্যান্টনারের ৪ উইকেটের দাপট সত্ত্বেও এক বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। জয়ের পর নীতীশ রেড্ডি আর তিলক বর্মা প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছিল তাঁরা কতটা খুশি। ডাগ আউটে বসে থাকা দলের বাকি সদস্যদের মুখেও ছিল যুদ্ধ জেতার তৃপ্তি।
এই ম্যাচে ভারত বুঝিয়ে দিল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ বলের আগে কোনও দলকেই হারানো যায় না। একের পর এক উইকেট হারিয়েও যে ভাবে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ালেন তিলক, নমন ও নীতীশ, তা নিঃসন্দেহে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থেকে যাবে। সিরিজের লড়াইয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে ভারত। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে পরপর দুই ম্যাচ জিতে এখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। এই প্রত্যাবর্তনের পর ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর।
E-Paper

