Ind Vs Pak T20 WC: ‘খেলায় রাজনীতি থাকা উচিত না…’, টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়ে মুখ খুললেন পাক প্রধানমন্ত্রী
শেহবাজ শরিফ বলেন, 'রাজনীতিকে খেলার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।' মুখে তিনি এই কথা বললেও নিজেরাই খেলা নিয়ে রাজনীতি করছে পাকিস্তান। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না আসতে চাওয়ায় পাকিস্তান তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের সঙ্গে টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় পাকিস্তান। এবার এই বিষয়ে মুখ খুললে পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নিজে। তিনি বলেছেন, আমরা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামব না। তিনি আরও বলেন, 'রাজনীতিকে খেলার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।' মুখে তিনি এই কথা বললেও নিজেরাই খেলা নিয়ে রাজনীতি করছে পাকিস্তান। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না আসতে চাওয়ায় পাকিস্তান তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এরই সঙ্গে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ভারত বিরোধিতার সুর চড়িয়েছে পাকিস্তান।
এই আবহে ৪ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদে শেহবাজ শরিফ বলেন, 'টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি যে আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না।' তিনি এটিকে সঠিক সিদ্ধান্ত হিসাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, অনেক চিন্তাভাবনার পরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'খেলাধুলায় কোনও রাজনীতি হওয়া উচিত নয়। আমরা বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' এদিকে পাক সরকারের এই সিদ্ধান্তে তাদের দেশের ক্রিকেট বোর্ড বড় সমস্যায় পড়তে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে একাধিক রিপোর্টে। তবে পিসিবি এখনও সরকারি ভাবে আইসিসিকে চিঠি লিখে জানায়নি যে তারা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করবে। এমনকী পাকিস্তান দল ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কাতে পৌঁছেও গিয়েছে। এই ভাবে পাকিস্তান শাস্তি এড়াতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে পিটিআই জানিয়েছে, আইসিসি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে। পাক বোর্ডকে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল ব্রডকাস্টার জিওস্টারের কাছ থেকে আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে তাদের। উল্লেখ্য, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ হওয়ার কথা পাকিস্তানের। সেই ম্যাচেই পাকিস্তান মাঠে নামবে না বলে জানিয়েছে শেহবাজের সরকার। তবে এই সিদ্ধান্তের কারণ এখনও আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা করেনি পাকিস্তান। পিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এই নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। তার আগে বোর্ডের আইন বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন নকভি।
এদিকে পাকিস্তান ডিসপিউট সেটেলমেন্ট কমিটিতে যাওয়ার কথা ভাবছে। যদিও আইসিসির ডিসপিউট সেটেলমেন্ট কমিটিতে যাওয়ার তাদের এই চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে। আইসিসির এই ডিসপিউট সেটেলমেন্ট কমিটি আদতে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি। আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনে না এই কমিটি। এদিকে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে পাকিস্তান। বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনুসের সরকার পাকিস্তানপন্থী। ইউনুস ঘনিষ্ঠ এনসিপি এবং জামাতে ইসলামি জোট বেঁধে এই নির্বাচনে লড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভোটে জামাতিদের 'সুবিধা' করে দিতেই পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে এই রাজনীতি করছে বলে মত অনেক বিশ্লেষকের।
E-Paper












