India-Australia Uranium Deal Update: অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়ামের ওপর নজর ভারতের, মোদীর সফরে বড় চুক্তির সম্ভাবনা

তিন দেশের বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে বুধবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি ইউরেনিয়াম আমদানির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

Published on: Jul 9, 2026, 08:30:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের পরমাণু শক্তি কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম আমদানি চুক্তির পথে এগোচ্ছে নয়াদিল্লি। তিন দেশের বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে বুধবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি ইউরেনিয়াম আমদানির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিন দেশের বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে বুধবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (AFP)
তিন দেশের বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে বুধবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (AFP)

সরকারি সূত্রের দাবি, এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইউরেনিয়াম মজুতের দেশগুলির মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বের মোট ইউরেনিয়াম ভান্ডারের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি এই দেশেই রয়েছে। ফলে ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির জন্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানির উৎস হিসেবে অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারত আগামী দিনে পরমাণু শক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চায়। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াটে পৌঁছে দেওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে দ্রুত বাড়তে থাকা ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণাগার এবং উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিপুল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পরমাণু শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সেই কারণেই ইউরেনিয়ামের স্থায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা ভারতের কাছে অত্যন্ত জরুরি।

খনি মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে নামিবিয়া, নাইজার এবং কাজাখস্তানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম উৎপাদক দেশগুলিতে চীনের প্রভাব যথেষ্ট বেশি। চীনা সংস্থাগুলি একাধিক বড় ইউরেনিয়াম খনিতে বিনিয়োগ করেছে এবং কাজাখস্তানের ইউরেনিয়ামের অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতাও বেজিং। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানি ভারতের জন্য একটি কৌশলগত বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম আমদানি করা গেলে দেশের নিজস্ব ইউরেনিয়াম মজুতকে আরও কৌশলগত কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের পরমাণু শক্তি কর্মসূচিও আরও শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা আরও জোরদার করা। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ই কোয়াড গোষ্ঠীর সদস্য। সমুদ্রপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারসাম্য বজায় রাখাই এই জোটের অন্যতম লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগও এই সফরের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২২ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তি (ইসিটিএ) কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশ বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইসিএ) নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More