India-Bangladesh Defence Ties: ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়বে? ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

বৈঠকের সময় দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় নয়াদিল্লি। পেশাগত সহযোগিতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।

Published on: Sep 10, 2026, 08:38:42 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ককে ভারত ‘অত্যন্ত গুরুত্ব’ দেয়। বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে এই বার্তাই দিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দফতরে হওয়া এই বৈঠকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দফতরে হওয়া এই বৈঠকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দফতরে হওয়া এই বৈঠকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে ভারতের বার্তা

বৈঠকের সময় দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় নয়াদিল্লি। পেশাগত সহযোগিতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর বা আইএসপিআর-এর তরফে বৈঠকের এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

যৌথ প্রশিক্ষণ থেকে দুর্যোগ মোকাবিলা

বৈঠকে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সেনা আধিকারিকদের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়েও কথা হয়। এ ছাড়াও দুর্যোগ মোকাবিলা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে। ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্য কোনও বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা কী ভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আঞ্চলিক শান্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়ও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দুই দেশ কী ভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা

বৈঠকে বাংলাদেশের সরকারের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। পাশাপাশি দুই পক্ষই প্রতিবেশী দেশ হিসেবে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা জানায়।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অভিন্ন আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে—বৈঠক শেষে এমনই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

একের পর এক বৈঠক ত্রিবেদীর

শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের এক দিন আগে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও দেখা করেন দিনেশ ত্রিবেদী। সেই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও রয়েছে। নয়াদিল্লির তরফে বারবার বলা হচ্ছে, দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

টানাপোড়েনের পর ফের সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা

গত কয়েক বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের অগস্টে ছাত্র-যুব আন্দোলনের পর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে আসার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন জটিলতা তৈরি হয়।

শেখ হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এখন দুই দেশ ফের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের সাম্প্রতিক এই বৈঠক সেই প্রক্রিয়ারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতাও দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

সামনে আরও সহযোগিতার সম্ভাবনা

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সামরিক প্রশিক্ষণের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। বুধবারের বৈঠকে সেই বিষয়গুলিই নতুন করে সামনে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার মতো বাস্তব ক্ষেত্রগুলিতে যোগাযোগ বজায় রাখা দুই দেশের পক্ষেই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতও স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নয়াদিল্লি কোনও ভাবেই হালকা করে দেখছে না।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More