India Buying Russian Oil: ১০০% মার্কিন শুল্কের ভয় নেই! রাশিয়ার তেলেই ভরসা ভারতের, পিছু হটছে না দিল্লি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির উপরও ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থানের প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান যে বদলায়নি, তা মস্কোর বৈঠক থেকেই স্পষ্ট।
India Buying Russian Oil: আমেরিকার ১০০ শতাংশ শুল্কের চাপের জুজুতে ভয় পাচ্ছে না ভারত। বরং রাশিয়ার সঙ্গেই জ্বালানি সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দিল দিল্লি। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানি চালু থাকবে। মস্কোয় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই বার্তা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির উপরও ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থানের প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান যে বদলায়নি, তা মস্কোর বৈঠক থেকেই স্পষ্ট।
পুতিন জানিয়েছেন, ভারতকে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি সার সরবরাহও বাড়াচ্ছে রাশিয়া। ভারতীয় কৃষকদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে আরও বেশি সার পাঠানোর জন্য মস্কো প্রস্তুত। অর্থাৎ শুধু তেল নয়, ভারতের কৃষি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হতে চাইছে।
জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেন, চলতি বছরে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আবার বেড়েছে। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। রাশিয়ার তরফে স্পষ্ট বার্তা, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও ভারতকে জ্বালানি সরবরাহে কোনও ঘাটতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে নয়াদিল্লিও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতে চাইছে। বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, গত কয়েক বছরে দুই দেশের বাণিজ্য কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে যেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫-২৬ সালে তা প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও ব্যাপক বেড়েছে। ৬.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ঘাটতি এখন ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
এই ঘাটতি কমানোকে ভারতের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। ভারত চাইছে রাশিয়ার বাজারে আরও বেশি ভারতীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার তৈরি হোক। শুল্ক এবং অশুল্ক বাধা কমানো, অর্থপ্রদানের ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলের যোগাযোগ বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
তবে জ্বালানি সহযোগিতাই এই সম্পর্কের অন্যতম বড় স্তম্ভ। রাশিয়া বর্তমানে ভারতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী। তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এবং কয়লার সরবরাহের পাশাপাশি দুই দেশ হাইড্রোকার্বন ক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করছে। রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, রাশিয়া ভারতীয় সংস্থাগুলির রুশ তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী।
শুধু জ্বালানি নয়, পরমাণু শক্তি, মহাকাশ, প্রযুক্তি, বিরল ধাতু এবং পরিবহণ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ছে। কুডানকুলম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভারতে নতুন পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ছোট মাপের পরমাণু রিঅ্যাক্টর, যন্ত্রপাতি তৈরি এবং পরমাণু জ্বালানি উৎপাদনে স্থানীয়করণের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
এদিকে এসসিও এবং ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে মোদী-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। পুতিন সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে, আমেরিকার শুল্কের চাপ যতই বাড়ুক, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে আসছে না ভারত। বরং নিজের জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পথেই হাঁটছে নয়াদিল্লি।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


