India Charges Re 0.005 Extra from Bangladesh: বিদ্যুৎ কিনতে ভারতকে দিতে হবে অতিরিক্ত চার্জ, দৌড়ঝাঁপ শুরু বাংলাদেশে

প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) দাবি করেছে নয়াদিল্লি। এমনিতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ। এরই মাঝে ভারতের এই আধা পয়সার অতিরিক্ত চার্জে বাংলাদেশের মাথায় হাত পড়তে পারে। এই নতুন চার্জ নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ।

Published on: Aug 24, 2026, 07:58:39 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারত থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ কেনে বাংলাদেশ। এবার সেই বিদ্যুৎ কিনতেই জুড়তে চলেছে নতুন চার্জ। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) দাবি করেছে নয়াদিল্লি। এমনিতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ। এরই মাঝে ভারতের এই আধা পয়সার অতিরিক্ত চার্জে বাংলাদেশের মাথায় হাত পড়তে পারে। এই নতুন চার্জ নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। চুক্তি করার আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গত ১৮ অগস্ট অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশের থেকে ০.০০৫ টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) দাবি করেছে নয়াদিল্লি। (AFP)
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশের থেকে ০.০০৫ টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) দাবি করেছে নয়াদিল্লি। (AFP)

চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের রাষ্ট্রীয় সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুতের ব্যাপারে নিগম লিমিটেড বা এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবির মধ্যে ‘সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি’ বা এসএনএ চুক্তি করতে হবে। এই চুক্তিতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

অর্থাৎ, বিদ্যুৎ না কিনলে বিপদ। আবার কিনতে গেলেও নতুন কাগজপত্র। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ‘সোনায় সোহাগা’ যেন এটাই! ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিইআরসি প্রথমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০১ ভারতীয় রুপি চার্জের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে বাংলাদেশের পিডিবি আবেদন করে। তার পরেই চার্জ কমে দাঁড়ায় ০.০০৫-তে।

বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের অবশ্য বক্তব্য, এই টাকা বিদ্যুতের দাম নয়। আন্তদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড পরিচালনা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ হিসাবেই এই চার্জ নেওয়া হবে। শিডিউল ঠিক করা, মিটার থেকে তথ্য নেওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব মেলানো—সব কিছুর জন্যই এই টাকা। এতে খুব বেশি খরচ বাড়বে না বলেই দাবি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগের। বরং একবার এনভিভিএনের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেলে লেনদেন আরও সহজ হবে। আলাদা আলাদা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বিল মেটানোর ঝামেলাও কমবে। তবে মুখে এই কথা বললেও,সরকারি ভাবে এই চুক্তি করার আগে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কালঘাম ছুটে যাচ্ছে। এদিকে ভারত জানিয়েছে, নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের জন্য নিয়ম আলাদা নয়। প্রতিবেশী দেশগুলির বিদ্যুৎ বাণিজ্যে একই ব্যবস্থা চালু করেছে সিইআরসি।

বর্তমানে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে ২৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে ২৫০ মেগাওয়াট এনটিপিসি, ৩০০ মেগাওয়াট ডিভিসি এবং ১৬০ মেগাওয়াট ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিও আছে। সব মিলিয়ে ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্যই নতুন এসএনএ চুক্তির উদ্যোগ।

তবে এখানে একটি স্বস্তির জায়গাও আছে। ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিতে এই ধরনের চার্জের বিষয়টি আগেই রয়েছে। তাই তার জন্য আলাদা এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেনার গল্পে নতুন একটি অধ্যায় যোগ হল। বিদ্যুৎ চাই। বিদ্যুৎ আনতেও হবে। সঙ্গে দিতে হবে গ্রিডের খরচ। প্রতিবেশীর বিদ্যুৎ যে শুধু তারে আসে না, সঙ্গে নথির ধাক্কাও আসে—বাংলাদেশ হয়তো এবার সেটাই আরও ভালো করে বুঝতে চলেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More