India Could Buy S500 & Su57 from Russia: পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে S-500 ও Su-57 নিয়ে আলোচনা মোদীর, ঘুম উড়বে পাকিস্তানের?
ভারতের কাছে বর্তমানে S-400-এর চারটি স্কোয়াড্রন রয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী পঞ্চম স্কোয়াড্রনটি ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে পাওয়ার কথা। এর পাশাপাশি আরও পাঁচটি S-400 স্কোয়াড্রন কেনার প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সম্ভাব্য খরচ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এবার নজর S-500-এর দিকে।
India Could Buy S500 & Su57 from Russia: ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকে একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে S-500 ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং Su-57 স্টেলথ যুদ্ধবিমান।

অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের S-400 ব্যবহারের পর এই আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। S-400 দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর পাল্লা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এই আবহে ভারত যদি শেষ পর্যন্ত S-500 কেনে, তাহলে তাতে ঘুম উড়তে পারে পাকিস্তানের।
ভারতের কাছে বর্তমানে S-400-এর চারটি স্কোয়াড্রন রয়েছে। মোট পাঁচটি স্কোয়াড্রনের জন্য ২০১৮ সালে প্রায় ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছিল। পঞ্চম স্কোয়াড্রনটি ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে পাওয়ার কথা। এর পাশাপাশি আরও পাঁচটি S-400 স্কোয়াড্রন কেনার প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সম্ভাব্য খরচ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এবার নজর S-500-এর দিকে। তবে S-500, S-400-এর সরাসরি বিকল্প নয়। বরং এই দুটিকে একসঙ্গে ব্যবহার করা হলে তৈরি হতে পারে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
S-400 মূলত বিমান, ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলা করবে। আর S-500 আরও উঁচু স্তরের হুমকির বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য তৈরি। এর পাল্লা প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক অস্ত্রের মতো উন্নত হুমকি মোকাবিলা করতে পারে। এমনকি নিম্ন-কক্ষপথের উপগ্রহের বিরুদ্ধেও এর সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে।
S-500-এর আরেকটি বিশেষত্ব হল দ্রুত প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা। রিপোর্ট অনুযায়ী, এর প্রতিক্রিয়ার সময় প্রায় তিন থেকে চার সেকেন্ড। S-400-এর ক্ষেত্রে তা প্রায় নয় থেকে দশ সেকেন্ড। ভারতের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে যৌথ উৎপাদন। শুধু সরাসরি কেনার পরিবর্তে ভারত ও রাশিয়া যৌথভাবে S-500 তৈরি করতে পারে। এতে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পও লাভবান হতে পারে। তবে দাম, প্রযুক্তি এবং উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে এখনও আলোচনা প্রয়োজন।
এর পাশাপাশি বৈঠকে উঠতে পারে রাশিয়ার Su-57 যুদ্ধবিমান। এটি একটি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার। রাশিয়া ভারতেই এই বিমান তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। ভারতীয় অস্ত্র এই বিমানে যুক্ত করার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
Su-57 নিয়ে ভারতের আগ্রহের পেছনে রয়েছে বায়ুসেনার চাপ। ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের সংখ্যা বহু বছরের মধ্যে খুব কম স্তরে নেমেছে। অন্যদিকে চিন দ্রুত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বাড়াচ্ছে। ফলে নতুন যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতের প্রয়োজন ক্রমশ বাড়ছে।
ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পও এগোচ্ছে। তবে সেটি পরিষেবায় আসতে আরও সময় লাগতে পারে। সেই সময়ের ব্যবধান পূরণে Su-57 একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে। এর আগে S-500 এবং Su-57 নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। প্রযুক্তি, দাম, লজিস্টিক এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে মতবিরোধ ছিল। পাশাপাশি রাশিয়ার অস্ত্র কেনা নিয়ে আমেরিকার উদ্বেগও রয়েছে।
তাই মোদী-পুতিন বৈঠক শুধু নতুন অস্ত্র কেনার আলোচনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা, যুদ্ধবিমান ঘাটতি, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা কৌশল। S-500 ও Su-57 নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


