India-Bangladesh: গুরুত্ব বাড়িয়ে ঢাকায় নয়া হাইকমিশনার দীনেশকে মন্ত্রীর মর্যাদা, ফের ভারতের পর্যটন ভিসা...

India-Bangladesh: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বড় ঘোষণা করলেন দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা ফের চালু করার ঘোষণা করলেন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার। 

Published on: Jun 25, 2026, 21:39:37 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

India-Bangladesh: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে তিনি ঢাকা মিশনের এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আর এই আবহে বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পূর্ণ (ক্যাবিনেট) মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার।

ঢাকায় নয়া হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা (Bangabhaban)
ঢাকায় নয়া হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা (Bangabhaban)

বুধবার ভারত সরকার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, দীনেশ ত্রিবেদী হাইকমিশনার থাকাকালীন তিনি ভারতে সরকারি ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা পাবেন। এই মর্যাদা কার্যকর হবে সরকারি অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের মন্ত্রী-সহ বিশিষ্টদের আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পদমর্যাদা ভিত্তিক অগ্রাধিকারের সারণি (টেবিল অফ প্রেসিডেন্স) আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধন না করেই বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে অগ্রাধিকার সারণিতে (টেবিল অফ প্রেসিডেন্স) কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমতুল্য মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।' এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই মর্যাদা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক কার্যাবলীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং অগ্রাধিকার সারণির স্থায়ী সংশোধন হিসেবে বিবেচিত হবে না।

এটি মূলত একটি আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল বা তালিকা, যা সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের গুরুত্বের ক্রমানুসারে সাজানো হয়। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা প্রোটোকলে কে কার আগে থাকবেন বা কাকে কতটুকু সম্মান দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করতে এটি ব্যবহৃত হয়। এখন প্রশ্ন হল নরেন্দ্র মোদী সরকার কেন দীনেশ ত্রিবেদীকে এই মর্যাদা দিতে গেল? আসলে দীনেশ হলেন ভারতের প্রথম একজন রাজনীতিক যাঁকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রোটকলে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির মানুষ মাধ্যমে বাংলাদেশকেও দীনেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ওজন নিয়ে বার্তা দেওয়া হল। বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী অতীতে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তবে পদমর্যাদায় তিনি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। ঢাকায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হওয়ার পর তাকে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা প্রদান করল ভারত সরকার।

বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা

এদিকে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বড় ঘোষণা করলেন দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা ফের চালু করার ঘোষণা করলেন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, আগামী ২৮ জুন থেকে সব ক’টি ভারতীয় ভিসা সেন্টারে একযোগে পর্যটন ভিসা দেওয়ার কাজ শুরু হবে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার ভিসা সেন্টার থেকে একযোগে ভিসার কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, তিনি যখন বাংলাদেশে বেনাপোল হয়ে আসছিলেন, তখনই ভিসার প্রশ্নটি উঠেছিল। তিনি দেখেছেন, ভিসা খুব জরুরি একটি বিষয়। তাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে ভারত। প্রায় দুই বছরের মাথায় পর্যটন ভিসা চালু হতে চলেছে। গত এপ্রিলে ভারত সরকার দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করে। দুই দেশের ৫৫ বছরের সম্পর্কের ইতিহাসে ভারত এই প্রথম কোনও রাজনীতিবিদকে র হাইকমিশনার করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। তিনি প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ১২ জুন দীনেশ ত্রিবেদী সড়কপথে বাংলাদেশে যান। বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিনি বাংলাদেশে পৌঁছন।