India's Russia-Ukraine truce Plan: যুদ্ধ থামাতে ভারতের বড় উদ্যোগ, রাশিয়া-ইউক্রেনকে তিন দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব

ভারতের প্রস্তাবটি সামনে আসে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কিয়েভ সফরের সময়। ৩ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনে গিয়েছিলেন তিনি। এটি ছিল কোনও ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর প্রথম একক ইউক্রেন সফর। সেখানে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর।

Published on: Oct 7, 2026, 09:45:58 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

যুদ্ধ চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। গোলা বারুদ থামেনি। আকাশপথে হামলাও চলছে। তার মধ্যেই শান্তির রাস্তা খুঁজতে বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিল ভারত। রাশিয়া ও ইউক্রেনের জন্য তিন দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। লক্ষ্য একটাই। যুদ্ধ পুরোপুরি থামুক। তার আগে অন্তত শস্য ও জ্বালানির সরবরাহ যেন বন্ধ না হয়। কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাও বন্ধ হোক।

তিন দফা প্রস্তাবে প্রথমেই রয়েছে জ্বালানি কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা।
তিন দফা প্রস্তাবে প্রথমেই রয়েছে জ্বালানি কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা।

এই তিন দফা প্রস্তাবে প্রথমেই রয়েছে জ্বালানি কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা। দ্বিতীয় দফায় কৃষ্ণ সাগরের বন্দর দিয়ে শস্য এবং জ্বালানির সরবরাহ চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় দফায় ওই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত।

ভারতের এই উদ্যোগকে ইতিমধ্যেই গুরুত্ব দিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা জানিয়েছেন, চারটি দেশের কাছ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেয়েছে কিয়েভ। সেই তালিকায় রয়েছে ভারত, তুরস্ক, মিশর এবং আমেরিকা। তাঁর দাবি, প্রস্তাবগুলির মধ্যে ভারতের পরিকল্পনাই সবচেয়ে বিস্তৃত। কিয়েভ জানিয়েছে, কৃষ্ণ সাগর, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং বন্দরগুলিকে যুদ্ধের বাইরে রাখার বিষয়ে তারা আলোচনা করতে প্রস্তুত।

ভারতের প্রস্তাবটি সামনে আসে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কিয়েভ সফরের সময়। ৩ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনে গিয়েছিলেন তিনি। এটি ছিল কোনও ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর প্রথম একক ইউক্রেন সফর। সেখানে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। সেই আলোচনাতেই ভারতের তিন দফা পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল।

এর কয়েক দিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ৩১ অগস্ট সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকের ফাঁকে ওই সাক্ষাৎ হয়। সেখানে মোদী বার্তা দিয়েছিলেন, অন্তহীন যুদ্ধ নয়, যুদ্ধের শেষ দরকার। অর্থাৎ রাশিয়ার সঙ্গেও শান্তির প্রয়োজন নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছে ভারত।

ভারতের উদ্যোগে অন্য একটি বড় কারণও রয়েছে। কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে রাশিয়া থেকে শস্য এবং জ্বালানি পাঠানোর পথে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাশিয়া থেকে ভারতে আসা জ্বালানির প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষ্ণ সাগরের বন্দর দিয়ে যায়। জাহাজে হামলার আশঙ্কা বাড়ায় পরিবহণ খরচও বেড়েছে। সরবরাহও কমেছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ভারতীয় নাগরিকদের নিয়েও। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা পাঁচ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করার দাবি বার বার জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

এখানেই শেষ নয়। যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে খাদ্য, জ্বালানি এবং সারের বাজারেও। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর তার চাপ বাড়ছে। এই বাস্তবতার কথা তুলে ধরে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ভারত শুধু শান্তির কথা বলেই থেমে নেই। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছে নয়াদিল্লি। সমাধানের কোনও পথ বের হলে ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

রাশিয়ার তরফেও এসেছে ইতিবাচক বার্তা। পুতিন বলেছেন, মোদীর কাছে এই সংঘাত শেষ করার ভাল কিছু ভাবনা রয়েছে। তিনি মনে করেন, পারস্পরিক ভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে মোদীর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এখনও রাশিয়া বা ইউক্রেন কেউই ভারতের তিন দফা প্রস্তাব পুরোপুরি মেনে নিয়েছে বলে খবর নেই। আলোচনা চলছে। তাই যুদ্ধ থামবে কি না, তা এখনই বলা কঠিন। কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে এবার শুধু শান্তির কথা বলা নয়, বাস্তবসম্মত একটি রূপরেখা নিয়েই সামনে এগোতে চাইছে ভারত।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More