ব্রহ্মপুত্রে চিনের মেগা-বাঁধের পাল্টা অস্ত্র শানাচ্ছে ভারত! এলাকায় কী নিয়ে চলছে বিক্ষোভ?
ভারতের এই বিশাল জলাধার নির্মাণের তাৎক্ষণিক পরিণতি নিয়ে অরুণাচলের স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন।
ব্রহ্মপুত্রে ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে এক তাবড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে বাঁধ তৈরি করতে শুরু করেছে। সেখানে ‘টিবেট অটোনমাস রিজিয়ন’-এ এই কাজ চলছে। এই এলাকা হল ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা, আর সেই এলাকাতেই এহেন বাঁধকে কার্যত জল-বোমা বলে আখ্যা দিচ্ছেন বহু বিশেষজ্ঞ। এদিকে, চিনের এই বাঁধকে পাল্টা জবাব দিতে ভারত প্রস্তাব এনেছে, অরুণাচল প্রদেশে ১১,২০০-মেগাওয়াট সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বা সিয়াং-বাঁধ তৈরির। তবে ইতিমধ্যেই এই বাঁধ তৈরি ঘিরে অরুণাচলে অশান্তি দেখা দিয়েছে। প্রতিবাদ, বিক্ষোভে নেমেছেন স্থানীয় আদি সম্প্রদায়ের মানুষ। কিন্তু কী নিয়ে এই বিক্ষোভ? এই বাঁধ ঘিরে চিনের কোন চালকে মাত দিতে চাইছে দিল্লি?

ভারত কী চাইছে?
সিয়াং-র এই বাঁধ শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিক থেকেই তাবড় বিষয় নয়, এছাড়াও এটি একটি বড় জল-সংরক্ষণ বাফার তৈরি করা, যা নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বন্যা প্রশমনে সহায়তা করতে পারে, এমন দিক থেকেও ভারতের সিয়াং বাঁধের তাৎপর্য রয়েছে। উল্লেখ্য, ইয়ারলুং সাংপো নদী, ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হওয়ার আগে সিয়াং নামে ভারতে প্রবেশ করে। এই নদীর উপরেই চিন, ৬০,০০০-মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে দিয়েছে বাঁধ। এই নদী শেষে গিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এমন নদীতে তিব্বতের দিকে উজানের বিষয়টি ভারতের জলসুরক্ষার জন্য তাৎপর্যবাহী। এদিকে, চিনের ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির অবকাঠামোর ব্যাপকতা উজানের দিকে থাকার কারণে ভাটির নদীপ্রবাহের উপর প্রভাব নিয়ে ভারতীয় উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। ওই নদী উচ্চ উপত্যকা থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতে প্রবেশের সময় তার জল সংরক্ষণ, জলপ্রবাহ, এবং কতটা পরিমাণ জল প্রবাহিত হচ্ছে, তার নিয়ন্ত্রণ, তা কোন সময় প্রবাহিত হচ্ছে, এই সমস্ত দিক নিয়ে দিল্লির উদ্বেগ বাড়িয়েছে চিনের ওই বাঁধের পরিকাঠামো। চিনের জল ছাড়ার পরিমাণে পরিবর্তন, সম্ভাব্য জলপ্রবাহের দিক পরিবর্তন এবং আকস্মিক জলপ্রবাহ ভারতের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জল সুরক্ষার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, দিল্লি, কেন্দ্র সিয়াং প্রকল্পটিকে একটি সম্ভাব্য প্রতিরোধক হিসেবে দেখছে, যা জল সঞ্চয় করতে এবং ভাটির দিকের জলের প্রবাহের আকস্মিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু সিয়াং জল সঞ্চয় প্রকল্পের (SUMP) আনুমানিক ৯.২ বিলিয়ন কিউবিক মিটার কার্যকর জলধারণ ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে চীনের মেডং প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন কিউবিক মিটার। কেন্দ্র বলছে, ভারতের সিয়াং বাঁধ সম্পর্কিত এসইউএমপি (SUMP), সম্ভাব্যভাবে জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, বন্যা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা এবং ভারতের জল সুরক্ষাকে শক্তিশালী করতে পারে। এই জলাধারটি নদীর জলের যেকোনও অনিয়মিত প্রবাহকে ধরে রাখতেও সাহায্য করবে।
স্থানীয়রা কেন ক্ষুব্ধ?
ভারতের এই বিশাল জলাধার নির্মাণের তাৎক্ষণিক পরিণতি নিয়ে অরুণাচলের স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, এটি তাঁদের পৈতৃক জমি ডুবিয়ে দিতে পারে এবং জীবিকা, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধ্বংস করে দিতে পারে। অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী খান্ডু ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলি পরিদর্শন এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
ABOUT THE AUTHORSritama Mitraশ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More
E-Paper


