'ভারত আরেকটি যুদ্ধের...,' শঙ্কায় কপালে ভাঁজ পাকিস্তানের, করজোড়ে শান্তিরক্ষার বার্তা জারদারির

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এর নেপথ্যে ছিল পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

Published on: Mar 03, 2026 10:37 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইরান, ইজরায়েল ও মর্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘর্ষে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ পশ্চিম এশিয়ায়। এই আবহে ফের ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তাপ বাড়ল পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির মন্তব্যে। পাকিস্তানের সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে জারদারি বলেন, ভারত 'আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।'

করজোড়ে শান্তিরক্ষার বার্তা জারদারির REUTERS/Aly Song (CHINA)
করজোড়ে শান্তিরক্ষার বার্তা জারদারির REUTERS/Aly Song (CHINA)

সংসদে বিরোধী দল পিটিআই-এর ব্যাপক হট্টগোলের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ভারতের নেতারা বলছেন যে তাঁরা আরেকটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আঞ্চলিক শান্তির আজীবন সমর্থক হিসেবে আমি এটি অনুমোদন করব না। তাই ভারতের প্রতি আমার বার্তা হল যুদ্ধের মঞ্চ থেকে অর্থপূর্ণ আলোচনার টেবিলে সরে আসা। কারণ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এটাই একমাত্র পথ।’ ইতিমধ্যে আসিফ আলি জারদারির ওই বক্তব্য ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এর নেপথ্যে ছিল পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে। এই চুক্তি ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় হয়, যা ছয়টি নদীর জল ভাগ করে। পশ্চিমের তিন নদী (সিন্ধু, ঝিলম, চেনাব) পাকিস্তানকে বরাদ্দ, কিন্তু ভারত সেগুলোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালাতে পারে। স্থগিতের পর ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালিয়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। মে মাসে যুদ্ধবিরতি হয়, কিন্তু চুক্তি এখনও স্থগিত রয়েছে।

কাবুলের সঙ্গে ইসলামাবাদের সংঘাত

পাক প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল আফগানিস্তানের পরিস্থিতি। রাষ্ট্রসংঘের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে জারদারি সতর্ক করেন যে, আফগানিস্তানে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ না করলে যে কোনও দেশ বড় ধরনের হামলার শিকার হতে পারে। তিনি স্পষ্ট বলেন, 'পাকিস্তানের মাটি পবিত্র। আমরা কোনও অভ্যন্তরীণ বা বিদেশি শক্তিকে আমাদের শান্তি নষ্ট করতে দেব না।' তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, দোহা চুক্তির প্রতিশ্রুতি রাখতে তালিবান সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আফগান মাটি ব্যবহার করে যেন কোনও উগ্রপন্থী গোষ্ঠী তৎপরতা না চালাতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কাবুলকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের উদ্দেশে এই বার্তা দেওয়া হলেও কারও কারও মত, আসলে এতে ভারতকেও ছুঁতে চেয়েছেন পাক প্রেসিডেন্ট।

এর আগে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার কঠোর নিন্দা জানায় ভারত।’ তিনি উল্লেখ করেন, পবিত্র রমজান মাসে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অনেক বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এতে নারী ও শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত। তাঁর কথায়, ‘নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা অন্য দেশের উপর চাপিয়ে দেয় পাকিস্তান। আফগানিস্তানের উপর বিমান হামলা এমনই আরেকটি প্রচেষ্টা। ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করছে।'