Apple: iPhone 18 Pro ও Pro Max-র চাহিদা তুঙ্গে! ভারত থেকে চাটার্ড বিমানে পাড়ি US-ইউরোপে
Apple: সময়সীমার মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বুধবার রাত থেকেই চেন্নাই থেকে কয়েকটি চার্টার্ড বিমানে আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে।
Apple: অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো (iPhone 18 Pro) এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স বাজারে আসার আগেই ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ। গত সপ্তাহে ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ ইভেন্টে ফোন দুটির আত্মপ্রকাশের পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল প্রি বুকিং। শুক্রবার থেকে বিশ্ববাজারে বিক্রি শুরু হবে আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্সের। আর তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকছে ভারতেরও।

শুক্রবার বিশ্বব্যাপী দ্রুত ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে অ্যাপলের অংশীদার সংস্থার কারখানাগুলিতে পুরোদমে দিনরাত এক করে কাজ চলছে, যাতে সর্বাধুনিক আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স মডেলগুলো তৈরি করে রপ্তানি করা যায়। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সময়সীমার মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বুধবার রাত থেকেই চেন্নাই থেকে কয়েকটি চার্টার্ড বিমানে আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে। কারণ, আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্সের আনুষ্ঠানিক বিক্রির প্রথম দিন থেকেই দ্রুত ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য সক্রিয় হয়েছে আইফোনের নির্মাতা অ্যাপল।
ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি এই প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছেন, 'বিশ্বব্যাপী লঞ্চের আগে গত এক সপ্তাহে অ্যাপল চার্টার্ড বিমানে বিপুল পরিমাণ আইফোন পাঠিয়েছে। আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স মডেলগুলো মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরও বিমানের পরিকল্পনা করা হতে পারে।' ইটি-র প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে আরও বলা হয়েছে, বিক্রির প্রথম দিন থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি হিসেবে অ্যাপল এই দুটি প্রিমিয়াম মডেলের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। বর্তমানে ভারতে দু’টি কারখানায় আইফোন ১৮ প্রো এবং ১৮ প্রো ম্যাক্সের উৎপাদন হচ্ছে। ওই দু’টি কারখানার একটি ফক্সকন পরিচালিত এবং অন্যটি টাটা ইলেকট্রনিক্স পরিচালিত।
এই প্রথম ভারত-নির্মিত প্রো এবং প্রো ম্যাক্স মডেল বিশ্ববাজারে বিক্রির প্রথম দিন থেকেই পাওয়া যাবে। গত বছর ভারতে তৈরি আইফোন ১৭ মডেলগুলো লঞ্চের দিনেই পাওয়া গিয়েছিল, তবে প্রো এবং প্রো ম্যাক্স ভ্যারিয়েন্টগুলো এসেছিল কিছুটা পরে। অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন, ‘আইফোন ডুও’, ভারতে তৈরি করছে না। ভারতে মোট আইফোন বিক্রির মধ্যে প্রো এবং প্রো ম্যাক্স ভ্যারিয়েন্টগুলোর ভাগ মাত্র প্রায় ১৫ শতাংশ হওয়ায়, ইটি-র প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে, এই মডেলগুলোর অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ বিদেশে রপ্তানি করা হতে পারে।
গত মার্চ মাসে ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই টেক জায়ান্ট গত বছর ভারতে আইফোন উৎপাদন প্রায় ৫৩ শতাংশ বাড়িয়েছে এবং এখন তাদের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসগুলোর প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই দেশে তৈরি হয়। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চিনা উৎপাদনের ওপর শুল্ক আরোপের পর, ভারত অ্যাপলের আইফোন রপ্তানির জন্য সবচেয়ে বড় গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপল ২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭ বিলিয়ন ডলারের আইফোন রপ্তানি করেছিল, যা ২০২৫ সালে প্রায় তিনগুণ বেড়ে ১৯.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতে অ্যাপলের নজর কেবল উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্লুমবার্গ রিপোর্ট করেছে, যে দেশে তাদের বিক্রি ৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, সেখানে সংস্থাটি তাদের বাজারের দখল আরও বাড়াতে চাইছে। চলতি বছরের শেষের দিকে তারা ভারতে ‘অ্যাপল পে’ চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, পাশাপাশি তাদের নিজস্ব রিটেল স্টোরের সংখ্যা বাড়িয়ে ছ’টিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
E-Paper

