India on Pakistan: 'ভুয়ো ঘোষণা!' পাকিস্তানে মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি মাসুদ আজহার, 'ধোঁকাবাজি' তোপ ভারতের
India on Pakistan: বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’-এর পক্ষ থেকে এই ধরনের ঘোষণা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র।
India on Pakistan: নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের নাম নিজেদের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ‘রেড বুক’-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (FIA)। শুধু তাই নয়, তার মাথার ওপর পুরস্কারের অর্থ মোট ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি রুপি (২৪.০৯ লক্ষ টাকা) করা হয়েছে। আর পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তকে ভারত সরকার একটি ‘কৌশল’ বলে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’-এর পক্ষ থেকে এই ধরনের ঘোষণা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'পাকিস্তানের এই ধরনের কৌশল ও ধোঁকাবাজি নতুন কিছু নয়। আমরা অতীতেও এমন কৌশল দেখেছি।' তাঁর সংযোজন, 'সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক একটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন একটি ঘোষণা ভুয়ো। আমরা সবাই জানি এটা কতটা অন্তঃসারশূন্য।' রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, 'ইসলামাবাদকে অবশ্যই পদক্ষেপ করতে হবে, এমন ভুয়ো ঘোষণা দেওয়া উচিত নয়, যার কোনও গুরুত্ব নেই।'
সূত্রের খবর, ‘ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স’ (এফএটিএফ)-এর আসন্ন পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন (প্লেনারি) হবে অক্টোবরে ৷ তার ঠিক আগে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি-র প্রকাশিত ২০২৬ সালের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীদের নতুন তালিকা বা ‘রেড বুক’-এ নাম রয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের। তার মাথার ওপর পুরস্কারের অর্থ ২০ লক্ষ রুপি (PKR) বাড়িয়ে মোট ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি রুপি করা হয়েছে। ২০২১ সালে প্রকাশিত এফআইএ তালিকায় প্রথম মাসুদ আজহারের ছবি-সহ জঙ্গি হামলায় ভূমিকার কথা বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছিল৷ ২০১৯ সালের মে মাসে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও তাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ভারত সরকারের সন্ত্রাসবাদীদের তালিকাতেও রয়েছে তার নাম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার ওপর এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
আগামী ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর প্যারিস-ভিত্তিক ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর বৈঠক হবে। সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং মানি লন্ডারিং রুখতে কোনও দেশের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখে এফএটিএফ। বিশ্লেষকদের মতে, অক্টোবরে নির্ধারিত এফএটিএফ (FATF)-এর গুরুত্বপূর্ণ প্লেনারি বৈঠকের আগে বৈশ্বিক চাপ এড়াতে এবং পাকিস্তানকে ‘গ্রে লিস্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে এটি ইসলামাবাদের একটি লোক দেখানো কৌশল মাত্র। আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ভুয়ো বার্তা দিতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাসুদ আজহার কোথায় রয়েছে?
আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার ঠিক কোথায় রয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক আজও অব্যাহত। ২০২১ সাল থেকে পাকিস্তান লাগাতার দাবি করে আসছে যে মাসুদ আজহার মাসুদ আজহার নাকি সে দেশে নেই। সে নাকি আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রয়েছে। তবে পাকিস্তানের এই বয়ান বরাবরই খারিজ করে দিয়েছে ভারত। সম্প্রতি মাসুদ আজহারের এই জঙ্গি সংগঠন ভারতের বড়সড় প্রত্যাঘাতের মুখোমুখি হয়েছিল। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরে পহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর অধীনে চালানো নিখুঁত এয়ার স্ট্রাইকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ভেতরে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরের ‘মারকাজ সুবহানাল্লাহ’ সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। ভারতীয় বায়ুসেনার অভিঘাতে মাসুদের ১০ আত্মীয় প্রাণ হারিয়েছিল।
১৯৯৯ সালে আইসি-৮১৪ (IC-814) বিমান অপহরণ কাণ্ডের পরে যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত যে তিন জঙ্গিকে জেল থেকে ছেড়েছিল, তাদের মধ্যে ছিল মাসুদ আজহার। মুক্তির পরেই জইশ-ই-মহম্মদ গড়ে তোলে আজহার। ভারতের বুকে হওয়া একাধিক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মূল চক্রী আজহার। ২০০১ সালের সংসদ ভবনে হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মতো ঘটনাতেও তার সংগঠনটির নাম উঠে এসেছে।
E-Paper

