India Named in China's Shadow Network: চিনের ‘শ্যাডো নেটওয়ার্কে’ ভারত! আমেরিকার রিপোর্টে বড় অভিযোগ নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে

রিপোর্টের দাবি, আমেরিকা চিনা পণ্যের উপর বেশি শুল্ক বসানোর পর চিন থেকে সরাসরি আমেরিকায় পণ্য পাঠানোর বদলে তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে।

Published on: Aug 14, 2026, 09:10:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

চিনের উপর আমেরিকার চড়া শুল্ক চাপানো রয়েছে। তবে সেই ট্যারিফ এড়িয়ে চিনা পণ্য মার্কিন বাজারে ঢোকানোর অভিযোগে এবার ভারতের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে ভারতের নাম উল্লেখ করে হোয়াইট হাউসের এক নতুন রিপোর্ট প্রকাশিত হল। ‘The Great Transshipment Scam’ নামে প্রকাশিত এই রিপোর্টে ভারতকে চিনা পণ্যের একটি বড় ‘শ্যাডো ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্ক’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা পিটার নাভারো এই রিপোর্টকে সামনে এনেছেন।

ভারতকে চিনা পণ্যের একটি বড় ‘শ্যাডো ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্ক’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মার্কিন রিপোর্টে।
ভারতকে চিনা পণ্যের একটি বড় ‘শ্যাডো ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্ক’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মার্কিন রিপোর্টে।

রিপোর্টের দাবি, আমেরিকা চিনা পণ্যের উপর বেশি শুল্ক বসানোর পর চিন থেকে সরাসরি আমেরিকায় পণ্য পাঠানোর বদলে তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। এই প্রক্রিয়ায় পণ্যের সামান্য পরিবর্তন, প্যাকেজিং, লেবেল বা কাগজপত্র বদলে সেটিকে অন্য দেশের পণ্য হিসেবে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে চিনা পণ্যের উপর প্রযোজ্য বেশি শুল্ক এড়িয়ে তুলনামূলক কম শুল্ক দিয়ে সেগুলি আমেরিকার বাজারে ঢুকতে পেরেছে বলে দাবি রিপোর্টে।

এই অভিযোগের সূত্রপাত ২০১৮ সালে। সেই সময় চিনের সঙ্গে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন চিনা পণ্যের উপর Section 301-এর আওতায় একাধিক শুল্ক চাপিয়েছিল। হোয়াইট হাউসের দাবি, এরপর থেকেই চিনা রফতানিকারীরা তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর পথ আরও বেশি ব্যবহার করতে শুরু করেন।

রিপোর্টে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশকে এই ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশগুলিকে তাদের ভূমিকার ভিত্তিতে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ Tier 1-এ রাখা হয়েছে ভারতকে। একই তালিকায় রয়েছে কানাডা, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইজরায়েল এবং মেক্সিকোর মতো আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদাররাও।

রিপোর্টে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালে মেক্সিকো, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রধান হাবের মাধ্যমে চিন থেকে আমেরিকাগামী প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ট্রান্সশিপমেন্ট হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার শুল্ক রাজস্ব হারিয়েছে আমেরিকা—এমনই একটি হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

চিনা পণ্যের এই প্রবাহ আমেরিকার নিজস্ব শিল্পের উপরেও চাপ তৈরি করছে বলে দাবি হোয়াইট হাউসের। রিপোর্টের একটি মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেআইনি ট্রান্সশিপমেন্ট হলে আমেরিকায় প্রায় ৪.৫ লক্ষ চাকরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি দেশের GDP-তে বছরে ১১৩ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি এবং ফেডারেল সরকারের ১৯ থেকে ২৬ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট নিজেই জানিয়েছে, এগুলি মডেলভিত্তিক অনুমান, সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা চাকরি হারানোর সংখ্যা নয়।

ভারতের ক্ষেত্রেও রিপোর্টে নির্দিষ্ট শিল্প করিডরের কথা বলা হয়েছে। পুণে-গুজরাত-চেন্নাই করিডর চিনা বৈদ্যুতিক পাম্প ও কম্প্রেসরের ট্রান্সশিপমেন্ট থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই পণ্যের কারণে আমেরিকার ওহায়ো প্রদেশের সিনসিনাটি, ডেটন ও কলম্বাসের মতো শহরের নির্মাতারা প্রতিযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা এবার কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। চিনা পণ্যের শুল্ক এড়াতে যে দেশগুলি সাহায্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে পণ্য আটক, অতিরিক্ত শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনে মার্কিন বাজারে প্রবেশের অধিকার সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, এই রিপোর্ট ভারতের জন্য নিছক বাণিজ্যিক অভিযোগ নয়। আমেরিকা যদি রিপোর্টে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চিনা পণ্যের পুনঃরফতানি ও ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে নয়াদিল্লিকে এখন ওয়াশিংটনের কাছে আরও বেশি ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More