India-NZ FTA: আমেরিকার শুল্ক হুমকির মাঝেই ভারতের বড় সাফল্য, নিউজিল্যান্ডের সংসদে পাস FTA আইন

এই FTA-র ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা আরও সহজে একে অপরের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। নিউজিল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিন থেকে ভারতে পাঠানো তাদের রফতানির ৫৭ শতাংশ ডিউটি-ফ্রি হবে। চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৯৫ শতাংশ রফতানির উপর শুল্ক তুলে দেওয়া বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হবে।

Published on: Sep 16, 2026, 12:45:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারতের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বসানোর হুমকি ঘিরে যখন চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতের জন্য এল বড় অর্থনৈতিক বার্তা। বুধবার নিউজিল্যান্ডের সংসদ ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা FTA কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন অনুমোদন করেছে। ৯৩-২৯ ভোটে বিলটি পাস হয়েছে। বিরোধী লেবার পার্টিও এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ফলে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ বাধা দূর হল।

নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতের জন্য এল বড় অর্থনৈতিক বার্তা।
নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতের জন্য এল বড় অর্থনৈতিক বার্তা।

এই FTA-র ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা আরও সহজে একে অপরের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। নিউজিল্যান্ড সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিন থেকেই ভারতে পাঠানো তাদের রফতানির ৫৭ শতাংশ ডিউটি-ফ্রি হবে। চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৯৫ শতাংশ রফতানির উপর শুল্ক তুলে দেওয়া বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হবে।

ভারতের জন্য অবশ্য এর থেকেও বড় বিষয় হল নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার। এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় রফতানির জন্য নিউজিল্যান্ডের বাজারে কার্যত পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর ক্ষেত্র, এমএসএমই, কারুশিল্প এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্যের জন্য এর ফলে নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, এই চুক্তিতে ভারতীয় রফতানির উপর শুল্ক কমানোর পাশাপাশি কৃষি, উৎপাদন, প্রযুক্তি ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সুযোগ বাড়বে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বিনিয়োগ। নিউজিল্যান্ড আগামী ১৫ বছরে ভারতে ২০ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কৃষি, উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। ভারতের দিক থেকেও এই চুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ভারত-নিউজিল্যান্ড FTA স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ভারতীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং নিউজিল্যান্ডের ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্ট মন্ত্রী টড ম্যাকক্লে চুক্তিতে সই করেন। নিউজিল্যান্ডও এটিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এর পর জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিউজিল্যান্ড সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত হয়। ভারত ও নিউজিল্যান্ড তাদের সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ৭ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বা প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যও স্থির করা হয়েছে। বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রযুক্তি, পর্যটন, কৃষি, শিক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের সংসদে বিল পাস হওয়ার অর্থ, এখন প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই চুক্তিটি কার্যকর করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে।

সব মিলিয়ে, আমেরিকার সম্ভাব্য ১০০ শতাংশ ট্যারিফ নিয়ে যখন ভারতের সামনে নতুন বাণিজ্যিক চাপের আলোচনা চলছে, তখন নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এই FTA দিল্লির জন্য নতুন বাজার ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে। একটি দেশের শুল্ক-চাপের বিপরীতে অন্য দেশের সঙ্গে বাজার সম্প্রসারণ—ভারতের বহুমুখী বাণিজ্য কৌশলের গুরুত্ব এই ঘটনাতেই আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More