India offers Drone, Warships: আসিয়ান দেশগুলিকে ড্রোন, রাডার, যুদ্ধজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব ভারতের! চিনকে চাপে রাখার কৌশল?

আসিয়ান গোষ্ঠীর দেশগুলিকে ড্রোন, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হেলিকপ্টার এবং টহলদারি জাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিল নয়াদিল্লি। বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত আসিয়ান-ভারত প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মঞ্চের বৈঠকে এই বার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।

Published on: Oct 15, 2026, 11:14:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, এ বার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি থেকে শুরু করে তার রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রশিক্ষণেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে হাত মেলাতে চায় ভারত। সেই লক্ষ্যেই আসিয়ান গোষ্ঠীর দেশগুলিকে ড্রোন, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হেলিকপ্টার এবং টহলদারি জাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিল নয়াদিল্লি। বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত আসিয়ান-ভারত প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মঞ্চের বৈঠকে এই বার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তাঁর বক্তব্য, পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি এবং প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো গেলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের উন্নতি, দক্ষ কর্মী তৈরি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলার সুযোগও বাড়বে।

আসিয়ান গোষ্ঠীর দেশগুলিকে ড্রোন, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হেলিকপ্টার এবং টহলদারি জাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিল নয়াদিল্লি (Indian Navy)
আসিয়ান গোষ্ঠীর দেশগুলিকে ড্রোন, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হেলিকপ্টার এবং টহলদারি জাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিল নয়াদিল্লি (Indian Navy)

শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, যৌথ উৎপাদনেও জোর

রাজনাথের বক্তব্য, আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কোনও দেশ একা সব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারে না। তাই শুধু তৈরি অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ না রেখে যৌথ উদ্যোগে প্রযুক্তির বিকাশ এবং উৎপাদনের দিকে এগোনো প্রয়োজন। ভারতের আত্মনির্ভরতার কর্মসূচি এই ক্ষেত্রে বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের প্রস্তাবের তালিকায় রয়েছে সমুদ্রে টহলদারি জাহাজ, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হেলিকপ্টার এবং চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন। এর পাশাপাশি সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ানো, বিভিন্ন দেশের সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা এবং জলের তলায় ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতার উপরেও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

রাজনাথের মতে, যৌথ উৎপাদনের পাশাপাশি সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামতি, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এতে অংশীদার দেশগুলির নিজস্ব দক্ষতা বাড়বে। বিদেশ থেকে সরঞ্জাম কিনলেও তার ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বার বার অন্য দেশের উপর নির্ভর করতে হবে না। একই সঙ্গে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

আত্মনির্ভর ভারতের হাত ধরে অস্ত্র রফতানি

ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সামরিক সরঞ্জামের রফতানি বাড়াতে বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন এবং দেশীয় সংস্থাগুলিকে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে। রাজনাথের প্রস্তাব সেই উদ্যোগকেই নতুন গতি দিতে পারে।

আসিয়ান দেশগুলির সঙ্গে যৌথ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হলে ভারতীয় সংস্থাগুলির সামনে নতুন বাজার খুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি সহযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তির উন্নতি এবং উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে। ফলে লাভ হবে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের। তবে কোন দেশ কতগুলি সরঞ্জাম কিনতে আগ্রহী, কিংবা কোন প্রকল্পে চুক্তি হতে চলেছে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট ঘোষণা হয়নি।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সহযোগিতার দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব রয়েছে। কোনও দেশকে অস্ত্র সরবরাহ করার পাশাপাশি তার প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ফলে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য কেবল কেনাবেচার বিষয় থাকে না, তা কৌশলগত অংশীদারিত্বেরও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে ওঠে।

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নজর

রাজনাথের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যতের প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, এই অঞ্চল এমন হওয়া প্রয়োজন, যেখানে ছোট-বড় সব দেশই নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা পাবে। শান্তিপূর্ণ ভাবে উন্নয়নের পথে এগোনোর পাশাপাশি প্রত্যেক দেশের নিজস্ব নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

এই বক্তব্যের কৌশলগত তাৎপর্যও রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের সঙ্গে চিনের সমুদ্রসীমা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লে ওই দেশগুলির নজরদারি এবং নিরাপত্তার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা হতে পারে। তবে রাজনাথের বক্তব্যে সরাসরি কোনও দেশকে নিশানা করা হয়নি।

সব মিলিয়ে, আসিয়ানকে ঘিরে ভারতের লক্ষ্য এখন কেবল সামরিক সরঞ্জাম রফতানি নয়। যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তাকে একই কাঠামোয় এনে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে নয়াদিল্লি। ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এই উদ্যোগ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেদিকেই নজর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More