India on Pak Airstrike in Afghanistan: ‘আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি’, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দায় ভারত
নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তানের এই হামলা শুধুমাত্র আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘনই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘বেপরোয়া’ এবং ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, এটি শুধু আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘনই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘বেপরোয়া’ এবং ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডে যে বিমান হামলা চালিয়েছে, তাতে বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। ভারত এই হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান বারবার নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে সীমান্তের বাইরে সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল দুই দেশের সম্পর্ককেই অস্থিতিশীল করে না, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও জটিল করে তোলে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদের বক্তব্য, হামলায় ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে, যাদের সঙ্গে করাচিতে সপ্তাহান্তে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার যোগ ছিল। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা উল্লাহ তারার জানিয়েছেন, অভিযানটি মূলত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ভেঙে গড়া সংগঠন জামাত-উল-আহরারের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল।
তবে পাকিস্তানের এই দাবি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। কাবুলের অভিযোগ, পাকিস্তানের বিমান হামলায় পূর্বাঞ্চলের পাকতিয়া, পাকতিকা-সহ তিনটি প্রদেশে সাধারণ মানুষই প্রাণ হারিয়েছেন। আফগান প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই নারী, শিশু ও বয়স্ক নাগরিক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনাও সেই দাবিকেই সমর্থন করছে। পাকতিয়ার বাসিন্দা আদম খান জানান, একটি বাড়িতে হামলার সময় পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। নিহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা ছিলেন। পাকতিকা প্রদেশের এক সম্প্রদায় নেতা আমিন মঙ্গল বলেন, একটি দরিদ্র পরিবারের বাড়িতে বোমা পড়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারটির উপার্জনক্ষম কোনও সদস্যও ছিলেন না।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আফগান সরকার। তাদের দাবি, পাকতিয়ার একটি এলাকায় প্রথম দফা হামলার পর উদ্ধারকাজ শুরু হলে একই স্থানে দ্বিতীয়বার বোমা ফেলা হয়। এই ধরনের ‘ডাবল-ট্যাপ’ হামলাকে অমানবিক বলে নিন্দা করেছেন আফগান সরকারের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর দফতর কোনও মন্তব্য করেনি।
২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই বিমান হামলা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভারতের প্রকাশ্য নিন্দা এবং আফগানিস্তানের কড়া প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই ঘটনাকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


