India on Pakistan attacking Afghanistan: রমজানে পাক হামলায় নিহত সাধারণ মানুষ, নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের পাশে ভারত

পাকিস্তানের হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৭ জন সাধারণ আফগান নাগরিকের। এই পাক হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে পাকিস্তান আবারও অন্য দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে।

Published on: Feb 23, 2026, 08:22:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আফগান মাটিতে পাকিস্তানের হামলার নিন্দা জানাল ভারত। এই পাক হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে পাকিস্তান আবারও অন্য দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে নারী ও শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে। আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতারকে পুরোপুরি সমর্থন করে ভারত।

পাকিস্তানের হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৭ জন সাধারণ আফগান নাগরিকের। (AFP)
পাকিস্তানের হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৭ জন সাধারণ আফগান নাগরিকের। (AFP)

২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। এই হামলায় কয়েক ডজন টিটিপি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে পাক বাহিনীর তরফ থেকে। বিমান হামলার অনেক ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এদিকে আফগান মিডিয়া দাবি করেছে, পাকিস্তানি এই হামলায় ধ্বংস হয়েছে একটি মাদ্রসা। সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের পাকতিকার বারমাল ও উরগুন জেলা, নানগারহারের খোগ্যানি, বেহসুদ এবং গনিখেল জেলাগুলিতে হামলা চালায় পাকিস্তান। এই হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৭ জন সাধারণ আফগান নাগরিকের।

এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার গোয়েন্দা অভিযান চলাকালীন এক আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল টিটিপি। সেই হামলায় পাকিস্তানের দুই নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছিলেন। আর সেই হামলার ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই এই এয়ারস্ট্রাইক করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। আর এবার আফগান সীমান্তের কাছে টিটিপি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More