India on Pakistan Flood Claim: বন্যার দায় ভারতের ঘাড়ে চাপিয়ে কান্নাকাটি পাকিস্তানের, তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে পাল্টা দিল্লির
খাইবার পাখতুনখোয়া, গিলগিট-বালতিস্তান, পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) এবং পঞ্জাব প্রদেশে প্রবল বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের জেরে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু বাড়িঘর, রাস্তা, ফসল এবং গবাদি পশুরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
India on Pakistan Flood Claim: পাকিস্তানে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে ভারতকে দায়ী করে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে ভারত। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের কিছু সংবাদমাধ্যমে যে দাবি করা হয়েছে, ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে চেনাব নদীতে জল ছেড়ে বন্যা সৃষ্টি করেছে, তার কোনও সত্যতা নেই। তিনি জানান, নদীর জলস্তর বেড়েছে শুধুমাত্র ভারী বর্ষার কারণে।
পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া, গিলগিট-বালতিস্তান, পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) এবং পঞ্জাব প্রদেশে প্রবল বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের জেরে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু বাড়িঘর, রাস্তা, ফসল এবং গবাদি পশুরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করে, ভারত নাকি পরিকল্পিতভাবে জল ছেড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এই অভিযোগের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ২০ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে জম্মু ও আশপাশের জলাধার এলাকায় অত্যন্ত ভারী বর্ষণ হয়েছে। সেই কারণেই চেনাব নদীর জলস্তর স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। এর সঙ্গে ভারতের কোনও পরিকল্পিত পদক্ষেপের সম্পর্ক নেই।
ভারত শুধু নিজের বক্তব্যই দেয়নি, পাকিস্তানের সরকারি তথ্যও তুলে ধরেছে। বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, পাকিস্তানের লাহোরের ‘ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশন’ ২২ জুলাই প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, উজানের এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণেই চেনাব নদীর জল বেড়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তানের সরকারি নথিতেই বন্যার কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ভারত নাকি আগে থেকে নদীর জলপ্রবাহ সম্পর্কে কোনও তথ্য দেয়নি। এই অভিযোগও খারিজ করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ওই সময় নদীর জলস্তর এতটা বিপজ্জনক বা অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছয়নি যে বিশেষ বন্যা সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন পড়বে। তাই আলাদা করে সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
তবে ভারত জানিয়েছে, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আগের বছরের মতো এ বারও প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক মাধ্যমে বন্যা সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। এদিন সিন্ধু জলচুক্তি নিয়েও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই চুক্তি নিয়ে ভারতের নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসেনি। পাকিস্তান যতদিন না সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করছে, ততদিন পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগকে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে খণ্ডন করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, প্রাকৃতিক কারণে হওয়া বন্যাকে ভারতের বিরুদ্ধে প্রচারের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাস্তবে চেনাব নদীর জলস্তর বৃদ্ধির একমাত্র কারণ ছিল ভারী মৌসুমি বৃষ্টি, যা পাকিস্তানের নিজেদের সরকারি তথ্যেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


