India on Strait of Hormuz Attack: হরমুজ প্রণালীতে গুজরাটগামী জাহাজে ইরানি হামলা, কী বলছে ভারত সরকার?
থাই জাহাজটি হামলার শিকার হলে উদ্ধারকাজে নামে ওমানের নৌবাহিনী। থাই নৌবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, ময়ূরী নারী জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৮ মিটার এবং এর বহনক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার টন। জাহাজটির মালিকানা রয়েছে প্রেসিয়াস শিপিং নামক সংস্থার কাছে।
হরমুজ প্রণালীতে থাইল্যান্ডের একটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত। উল্লেখ্য, জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতের গুজরাটের দিকে আসছিল। সেই সময় জাহাজটির ওপর হামলা হয়। পরে জাহাজের ক্রুদের উদ্ধার করা হয়েছিল। এই আবহে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতি জারি করে এই হামলার তীব্র ভাষায় নিন্দা জানায়। বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

রিপোর্ট অনুযায়ী, গুজরাটের কান্দলা বন্দরে আসার কথা ছিল ময়ূরী নারী নামক এই থাই কার্গো জাহাজটির। সেই জাহাজে ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিবৃতি জারি করে বলেছে, '১১ মার্চ হরমুজ প্রণালীতে থাই জাহাজ ময়ুরী নারীতে হামলার খবরটির বিষয়ে আমরা অবগত। জাহাজটি ভারতের কান্দলা যাওয়ার পথে ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিশানা করে সামরিক হামলা চালানো হচ্ছে। এর নিন্দা জানাচ্ছে ভারত। সংঘাতের প্রাথমিক স্তরে এই ধরনের হামলায় ভারতীয় নাগরিকসহ অনেক মূল্যবান প্রাণহানি ঘটেছে। এই ধরনের হামলার তীব্রতা আরও বাড়ছে। এই আবহে ভারত পুনর্ব্যক্ত করতে চায় যে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে টার্গেট করা, নিরীহ ক্রুদের জীবন বিপন্ন করা বা যে কোনও উপায়ে নৌচলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া উচিত নয়।'
জানা গিয়েছে, থাই জাহাজটি হামলার শিকার হলে উদ্ধারকাজে নামে ওমানের নৌবাহিনী। থাই নৌবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, ময়ূরী নারী জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৮ মিটার এবং এর বহনক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার টন। জাহাজটির মালিকানা রয়েছে প্রেসিয়াস শিপিং নামক সংস্থার কাছে। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর বলেছিল, আমেরিকা কিংবা তাদের মিত্রদের কোনও জাহাজ হরমজ প্রণালী দিয়ে পার হতে দেবে না তারা। এরপর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, হরমুজ দিয়ে এক ফোঁটা তেল তারা প্রবাহিত হতে দেবে না। তারপর আবার তারা দাবি করে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও জাহাজকে পার হতে গেলে তাদের অনুমতি নিতে হবে। এরই মাঝে আবার ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলির উচিত মনে জোর এনে সেই এলাকা পার করা।
এর আগে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেছিলেন, মার্কিন এক রণতরী নাকি হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা একটি জাহাজকে সেখান থেকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে আনে। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে তিনি পোস্টও করেন। পরে অবশ্য তিনি সেই পোস্টটি মুছে দেন। মার্কিন সেনা জানিয়ে দেয়, কোনও জাহাজকে হরমুজ প্রণালী থেকে বের করে আনেনি তারা। পরে হোয়াইট হাউজের তরফ থেকেও জানানো হয়, এখনও পর্যন্ত কোনও জাহাজকে হরমুজ প্রণালী থেকে বের করে আনেনি মার্কিন রণতরী।
হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজ তারা আটকাবে না। এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছে। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। এরই সঙ্গে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে সরিয়ে আনার বিকল্প বিবেচনা করছে মোদী সরকার।
হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী রুদ্ধ করে দেওয়া সহজ।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


