India on Trump's Praise for Indian Voting: ভারতের ভোটব্যবস্থায় আস্থা ট্রাম্পের, জবাবে কী বলল দিল্লি?

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে তাঁর নির্দিষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। তবে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার 'বিশ্বাসযোগ্যতা এবং শক্তিশালী কাঠামো' যে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত, তা উল্লেখ করেন তিনি।

Published on: Aug 19, 2026, 09:40:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের ভোটব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশংসাসূচক মন্তব্য করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ভোটে নাগরিকত্ব যাচাই এবং ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার উদাহরণ টানলেন তিনি। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারতও নিজেদের নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল।

মার্কিন ভোটে নাগরিকত্ব যাচাই এবং ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার উদাহরণ টানলেন ট্রাম্প
মার্কিন ভোটে নাগরিকত্ব যাচাই এবং ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার উদাহরণ টানলেন ট্রাম্প

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে তাঁর নির্দিষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। তবে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার ‘বিশ্বাসযোগ্যতা এবং শক্তিশালী কাঠামো’ যে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত, তা উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভারতের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে একাধিক দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের শেষ সাধারণ নির্বাচনে প্রায় ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন এক শতাংশেরও কম মানুষ।

এই তথ্য তুলে ধরে আমেরিকায় আরও কড়া নির্বাচনী আইন চালুর পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভোটদানের ক্ষেত্রে বৈধ ফটো পরিচয়পত্র এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরুতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমেরিকার প্রশাসনের কয়েক জন আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সেখানে মার্কিন নির্বাচনে বৈধ ফটো পরিচয়পত্র ছাড়া কী ভাবে ভোট দেওয়া হয়, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ভারতের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিলেও পোস্টাল ভোটের হার খুব কম। তাঁর দাবি, প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ফটো পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল।

এই যুক্তির ভিত্তিতেই আমেরিকায় নতুন নির্বাচনী আইন চালুর পক্ষে জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর সমর্থিত আইনের নাম ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’। এই আইনে ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।

পাশাপাশি দেশজুড়ে ভোটার পরিচয়পত্রের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহারও আরও সীমিত করার লক্ষ্য রয়েছে এই প্রস্তাবিত আইনে।

ট্রাম্প বহু দিন ধরেই আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় কড়া নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পক্ষে সওয়াল করে আসছেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটে কারা অংশ নিতে পারবেন, তা নিশ্চিত করতে নাগরিকত্ব এবং পরিচয় যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিতর্কের মধ্যেই ভারতের প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন তিনি। অর্থাৎ, আমেরিকায় নির্বাচনী সংস্কারের পক্ষে যুক্তি দিতে ভারতীয় ভোটব্যবস্থাকে একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

দিল্লির তরফে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করা হয়নি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র শুধু ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার দৃঢ়তা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার কথা তুলে ধরেছেন।

ভারতে লোকসভা নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা, পরিচয় যাচাই এবং ভোটগ্রহণের মতো একাধিক ধাপের মাধ্যমে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দেশের বিশাল জনসংখ্যার মধ্যেও এত বড় পরিসরে নির্বাচন পরিচালনা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম বড় পরীক্ষা।

ট্রাম্পের মন্তব্য তাই আন্তর্জাতিক স্তরেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী বিতর্কে ভারতীয় ব্যবস্থাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে আনছেন তিনি। অন্যদিকে, দিল্লি বুঝিয়ে দিল, ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট।

এখন দেখার বিষয়, ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নিয়ে আমেরিকার কংগ্রেসে কী সিদ্ধান্ত হয়। কারণ, ট্রাম্পের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মার্কিন ভোটব্যবস্থায় নাগরিকত্ব যাচাই এবং ভোটার পরিচয়পত্রের নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More