India on US Tariff Threat: রাশিয়ার তেল নিয়ে ১০০% ট্যারিফ হুমকি, পালটা বার্তায় আমেরিকাকে বুড়ো আঙুল ভারতের

ওয়াশিংটনের এই চাপের মধ্যেও নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট। ভারত জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ১৪০ কোটি মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই কোনও দেশের চাপের কারণে ভারতের জ্বালানি নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তন আসবে না।

Published on: Sep 16, 2026, 08:16:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে এবার ভারতের উপর আরও বড় চাপ তৈরির পথে আমেরিকা। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর জন্য একটি নতুন বিল নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। মার্কিন সেনেটে ইতিমধ্যেই বিলটি বিপুল ভোটে পাশ হয়েছে। এবার তা হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে তোলা হচ্ছে। ফলে বিলটি পাশ হলে ভারতের উপরও বড় অঙ্কের অতিরিক্ত শুল্ক চাপতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে এবার ভারতের উপর আরও বড় চাপ তৈরির পথে আমেরিকা। (Reuters)
রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে এবার ভারতের উপর আরও বড় চাপ তৈরির পথে আমেরিকা। (Reuters)

তবে ওয়াশিংটনের এই চাপের মধ্যেও নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট। ভারত জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ১৪০ কোটি মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই কোনও দেশের চাপের কারণে ভারতের জ্বালানি নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তন আসবে না। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ এবং মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারত ভবিষ্যতেও সিদ্ধান্ত নেবে।

মার্কিন সেনেটে পাশ হওয়া এই প্রস্তাবটি ‘লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান বিল’ নামে পরিচিত। সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে এটি অনুমোদিত হয়েছে। প্রস্তাবটির অন্যতম লক্ষ্য হল রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলির উপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা। প্রস্তাবে রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করা কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

এখন মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির প্রস্তুতি চলছে। সেখানেও অনুমোদন পেলে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা সরাসরি মার্কিন বাণিজ্যিক চাপের মুখে পড়তে পারে।

এর মধ্যেই কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা বিলটিতে আরও স্পষ্ট ভাষায় ভারতের নাম যুক্ত করার দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কেনা দেশগুলিকে চিহ্নিত করে তাদের উপর সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রস্তাবিত তালিকায় ভারত ও চিনের পাশাপাশি তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তানের নামও রয়েছে।

রাশিয়ার তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চাপানউতোর অবশ্য নতুন নয়। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ওয়াশিংটন বারবার অভিযোগ করেছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার মাধ্যমে ভারত পরোক্ষভাবে মস্কোর অর্থনীতিকে সমর্থন করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।

কিন্তু সেই চাপের পরও ভারত নিজের অবস্থান থেকে সরে যায়নি। দিল্লির বক্তব্য, সস্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ দেশের অর্থনীতি, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই আন্তর্জাতিক চাপের পরিবর্তে দেশের প্রয়োজন এবং জাতীয় স্বার্থই ভারতের সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি। এরই মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্পদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলতি অর্থবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে রাশিয়ার থেকে আমদানির পরিমাণ ৫৭ শতাংশ বেড়েছে বলে ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ইয়নের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে যে পরিসংখ্যান পেশ করা হয়েছে, তাতে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অগস্ট পর্যন্ত রাশিয়া থেকে ৪১.৪৪ বিলিয়ন ডলারের আমদানি করা হয়েছে। যা গত অর্থবর্ষের (২০২৫-২৬) প্রথম পাঁচ মাসে ছিল ২৬.৪৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে প্রায় ১.৫ লাখ কোটি টাকার (১৪,৩৭,৮৪,৩০,৪৮,৫০০ টাকা) মতো।

এখন প্রশ্ন, মার্কিন কংগ্রেসে বিলটি শেষ পর্যন্ত কোন রূপ নেয় এবং ভারতকে নিয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হয়। তবে দিল্লির সাম্প্রতিক বার্তা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—শুল্কের হুমকি যতই বাড়ুক, রাশিয়ার তেল কেনার প্রশ্নে ভারত আপাতত নিজের নীতি বদলানোর কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More